Showing posts with label মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার. Show all posts
Showing posts with label মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার. Show all posts

মৃত্যু চুম্বন (সেরা গল্প) ..................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার

মৃত্যু চুম্বন (সেরা গল্প) ..................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার
সময়টাতে রিক্সা পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। সকাল নটা থেকে দশটা সাড়ে দশটা এগারোটা পর্যন্ত রাস্তায় সব ধরনের কর্মজীবিরা নেমে আসে ফলে রিকশা কিংবা সিএনজি পাওয়া খুবই দুষ্কর। দেরি হলে ক্লাশ মিস হয়ে যাবে ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়লো অনুরাধা ব্যানার্জী।ঠিক দশটা চল্লিশে ক্লাশ শুরু,উদ্বিগ্ন হয়ে এদিক ওদিক দেখলো একটা রিকশাও খালি নেই এদিকে দশটা পনের বাজে হঠাৎ মাথায় ঢুকলো পাঠাওয়ের মোটরসাইকেলের কথা কদিন আগে ওর ক্লাশফ্রেন্ড মলির কাছে শুনেছিল সে মাঝে মাঝে পাঠাও এর মোটর বাইকে ভার্সিটিতে আসে।সেদিনই অনুরাধা পাঠাও এ্যাপটি ডাউনলোড করে নেয়,ভাবলো এসময় কি আর বাইক ফ্রী থাকবে তাছাড়া ভাড়া বাইকে চড়তে ওর সঙ্কোচ বোধ হয় ভয়ও লাগে কি জানি কে কি মনে করে কিংবা কোন বিপদে পড়ে যায় কিনা।আজ সে উপায়ান্ত না দেখে কল করলো এবং প্রায় সাথে সাথে কল পেল ওপাস থেকে বললো আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসছি।ঠিক সাত মিনিটের মধ্যেই মোটরবাইক চলে এলো বললো হেলমেটটা পরে নিন স্পষ্ট আকর্ষনীয় স্বর শুনে মন্ত্রমুগ্ধের মত দুপা একদিকে দিয়ে বাইকারের পেছনে বসলো,বাইকার এবার সেই একই স্বরে বললো প্লিজ দু'দিকে পা দিয়ে বসেন পুলিশ ঝামেলা করে অনুরাধা ইতস্তত করছে দেখে বাইক চালক বললে ঠিকাছে একদিকেই পা দিয়ে বসেন অনুরাধা দু'পা একদিকে দিয়ে বসে পড়লো ঠিক ক্লাশের দশ মিনিট পূর্বেই ক্যাম্পাসে চলে এলো।নেমেই বললো কত দিতে হবে চালক মুচকি হেসে বলে কেন ম্যাডাম এ্যাপসেতো ভাড়া শো করছে দেখে নিন আর আমাকে একশো দশ টাকা দিন।অনুরাধা সরি আমি এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি তাই দেখা হয়নি।একটা দুশো টাকার নোট বের করে দিলো।চালক বহু কষ্টে মানিব্যাগ এবং এ পকেট ও পকেট হাতড়ে ভাংতি বের করে নব্বই টাকা ফেরত দিলো।অনুরাধা ভেবেছে পঞ্চাশ টাকা ফেরত দিলেই হবে কিন্তু পুরো নব্বই টাকা ফেরত দেওয়াতে অবাকই হয়ে বললো আমাকে পঞ্চাশ টাকা দিন বাকিটা রেখে দিন চালক আবারো মৃদু হেসে দৃঢ় কন্ঠে বলে ম্যাডাম উহু এটা আমি নেইনা আপনি টাকাটা রাখুন বলে নব্বই টাকাই ফেরত দিলো। অনুরাধা টাকাটা হাতে নিয়েই ছুটতে শুরু করলো আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি আছে অর্থাৎ বেশ দ্রুতই চলে এসেছে,ভাবছে রিক্সায় এলে তিন তিন বার রিক্সা বদল করতে হতো ভাড়া পড়তো একশো কুড়ি টাকা আর সিএনজিতে এলে পুরো দুশো টাকা তবেতো মোটার বাইকে আসা বেশ সাশ্রয়ী।
জুনায়েদ সাইড স্ট্যান্ড নামিয়ে বাইকটাকে কাত করে দাড় করিয়ে হেলমেটটা খুলে মেয়েটির গমন পথের দিকে এক পলক দেখেই তার গলা দিয়ে অপুর্ব শব্দ বের হয়ে এলো ঠিক তখনি আরেকটা কল এলো,বাইক নিয়ে সেদিকে চলে গেল জুনায়েদ।
কিরে রাধা কার বাইকে এলি শুরু হয়ে গেল নাকি?ছেলেটা বেশ হ্যান্ডসাম কেমনে কি খুলে বল দেখি। ধ্যাত কি শুরু করলি ওতো পাঠাওয়ের বাইক চালক দ্রুত আসার জন্য ভাড়ার বাইকে চলে এলাম।ও আচ্ছা বলে রিমি বললো চল ক্লাশে ঐ যে স্যার আসছে।
ক্লাশ শেষে মলির সাথে দেখা মলি সবসময় ক্লাশের সামনের বেঞ্চে বসে ওর বাসা ভার্সিটি থেকে দু কিমি হবে তাছাড়া মলি নিজেদের গাড়িতেই আসা যাওয়া করে ফলে বেশ আগে আগেই ক্লাশে এসে সামনের বেঞ্চে বসতে পারে এমনিতেই মলি দারুণ স্মার্ট ও ভার্সাটাইল,ভার্সিটির যে-কোন কার্যক্রমে তাকে থাকতেই হবে।এদিকে অনুরাধার বাসা বেশ দূরে থাকায় ওর আসতে প্রায়ই দেরি হয়ে যায় 
ফলে তাকে পেছনের বেঞ্চেই অধিকাংশ সময়ই বসতে হয়।আজ ক্লাশ শেষে অনুরাধা পেছন থেকে এসে মলিকে জড়িয়ে ধরতেই মলি তাকে প্রশ্ন করে কিরে রাধা কি শুনলাম? রাধা অবাক হয়ে মলিকে বলে কেন কি হয়েছে? খুলে বল। শুনছি তুই নাকি কারো প্রেমে পড়ে তার বাইকে ঘুরছিস? অনুরাধা হো হো করে হেসে উঠে বললো তুই যেমন মাঝে মাঝে প্রেমে পড়িস তেমনি। ও আচ্ছা তাহলে এই বিষয় এদিকে ক্লাশের সবার মুখে রটে গেছে তুই প্রেমিকের বাইকে ঘুরসিছ হা হা হা!
মলি অনুরাধার বেস্ট ফ্রেন্ড দূজনে দু'জনার মনের কোনের সব কথাই শেয়ার করে এরা দু'জন ছাড়াও রিমি ছন্দা আলিশা শোয়েব রুপম এরাও ওদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তবুও মলি আর অনুরাধার ঘনিষ্ঠতা সবারই জানা।ক্লাশ শেষে খানিকটা আড্ডা মেরে ওরা ফিরে গেল।
পরদিন একই অবস্থা রিক্সা সিএনজি কোনাটাই খালি পাওয়া যাচ্ছে না আজ মনে হয় আরো ভিড় বেশি, আজ অনুরাধা সাড়ে ন'টায় বের হয়েছে তাই ভাবলো রিক্সা নেবে কিন্তু একটা রিক্সাও খালি নেই একটু দূরে একটা খালি রিক্সা দেখে ডাক দিতেই আরেক ভদ্রলোক লাফ দিয়ে চড়ে বসলো কি আর করা আবার অপেক্ষা কিন্তু যেই প্রায় দশটা বাজে বাজে অবস্থা তখনি তার হুঁশ হলো ফলে আজো পাঠাওয়ের শরণাপন্ন হলো একটু পর কল দিলে দু'মিনিট আমি আসছি আপনি কি কৃষ্ণ চুড়া গাছের নিচে আছেন?জি আমি ওখানেই আছি। ঠিক দু মিনিটের ভেতর বাইক হাজির,ম্যাডাম হেলমেটটা পরে নিন।কোন কথা না বলেই হেলমেট মাথায় দিয়ে পেছনে বসে পড়লো অনুরাধা সময়ের বেশ আগেই পৌছে গেল ক্যাম্পাসে বাইক থেকে নেমেই মোবাইলে এ্যাপস দেখলো একশো তিন টাকা সে ব্যাগ থেকে একশো তিন টাকাই বের করে চালকের হাতে দিয়েই ছুটলো ক্লাশের দিকে বাইক চালক আজ আর না থেমেই ঘুরিয়ে চলে গেল।অনুরাধা যখন বাইকে উঠে তখনই বুঝেছিল এ লোকটাই গতকালের একই চালক।এভাবেই কয়েকদিন একই মোটর বাইকে যাবার পর অনুরাধার মনে হলো প্রতিদিন একই চালকের বাইকে চড়া ঠিক হচ্ছে না।পরেরদিন সকাল সকাল বের হয়ে একটা সিএনজি নিয়ে ভার্সিটিতে চলে এলো।
আজো কোন কল না পেয়ে জুনায়েদ ভাবলো মেয়েটির কি কোন অসুখ হলো! ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা অনুভব করছে সে। এভাবেই তিনটে দিন কেটে গেল চতুর্থ দিনে জুনায়েদ মেয়েটির কল না পেয়ে নিজেই কল করলো মেয়েটি ইতস্তত করেও কলটি ধরলো।নাম্বারটা অনুরাধার মুখস্থই হয়ে গেছে ও বুঝতে পেরেও জিজ্ঞেস করলো কে বলছেন
-আমি পাঠাও এর বাইক চালক 
-ও আচ্ছা আমিতো ভার্সিটিতে চলে এসেছি
-ও কাল কি যাবেন?
-কালকের বিষয় কালকে আচ্ছা প্রতিদিন আপনি একাই আসেন কেন শুনেছি অনেক বাইক রাস্তায় থাকে?
-না মানে আমিতো পাসেই থাকি তাই। 
-ও আচ্ছা তবে আপনি কি আর কোন প্যাসেঞ্জার নেন না।
-নিই তবে তিন চারটা এর বেশি না। 
ও আচ্ছা ঠিকাছে, বাই।
পরেরদিন রাস্তায় বেরুতে দেরি করে ফেললো অনুরাধা তাড়াতাড়ি যাবার জন্য পাঠাওয়ে কল করলো দ্রুতই চলে এলো জুনায়েদ বাইকের পেছনে বসে চলে এলো ভার্সিটিতে। অনুরাধা বাইক থেকে নেমে হাত ঘড়ি দেখলো এখনো পঁচিশ মিনিট বাকি প্রথম ক্লাশের।প্যান্টের পকেট থেকে লম্বা ছয় ইঞ্চি পার্সটা বের করে দুশো টাকার নোটটা বাইক চালক জুনায়েদের হাতে দিলো।জুনায়েদ ইতস্তত করে বললো 
-আমার কাছে ভাংতি নেই ঠিকাছে আপনি একশো টাকা দেন। 
-আমার কাছেতো একশো টাকার নোট নেই। 
-ও ঠিকাছে তাহলে কাল দিবেন।
-আমি কারো কাছে ঋণী থাকতে চাই না। 
-ও 
-আপনি ভাংতি নিয়ে বের হন নাই?
-আসলে গতকাল বের হয়নি তাই,হাতে যা ছিল খরচ হয়ে গেছে।
-তো দুতিনটে ভাড়াতে আপনার সংসার চলে?
জুনায়েদ তবুও এ পকেট সে পকেট খুঁজতে লাগলো। 
-আসলে আমার এত পয়সার দরকার নেই পড়াশোনা শেষে করেছি এখন কাগজপত্র জোগাড় হলেই দেশের বাইরে চলে যাবো। তাই ভাবলাম যে কদিন আছি পকেট খরচটা উঠিয়ে নিই বারবার বাবার কাছে টাকা চাইতে লজ্জা লাগে তাছাড়া বাইরে যেয়েতো অডজব করে চলতে হবে সেই কারণে লজ্জটাকে জলাঞ্জলি দিতে প্রাকটিস করছি। 
অনুরাধা তন্ময় হয়ে যুবকটির কথা শুনছে আর মনে মনে প্রশাংসা করছে।অনুরাধা তাকে জিজ্ঞেস করলো
-কোন ভার্সিটিতে পড়েছেন?
-আপনার এই ভার্সিটিতেই।
-বলেন কি কোন সাবজেক্টে? 
-মাইক্রোবায়োলজিতে।
-কবে শেষ করলেন?
-এইতো গত বছর।আপনি কোন সাবজেক্টে?
-বিবিএ,ম্যানেজমেন্টে এবার সেকেন্ড ইয়ারে। 
-তাহলে যাই আপনি টাকাটা পুরোই রেখে দেন কাল চড়লে শোধ হয়ে যাবে।
-এটা কেমন দেখায় না?
-কি এমন দেখাবে যেহেতু কারো কাছেই নেই তাছাড়া আপনি আমাদের ভার্সিটির সিনিয়র ভাই একটু সুযোগতো দিতেই হয় মুচকি হেসে আসি বলে হাটা দিলো।দুপা হেটেই ঘাড় কাত করে জিজ্ঞেস করলো আপনার নামটা বলবেন প্লিজ? 
-জুনায়েদ।
অনুরাধা আর একমুহূর্ত না থেমে হনহন করে হাটতে লাগলো ওদিকে রিমি মলি ছন্দা অপেক্ষা করছে।
জুনায়েদ টাকাটা নাড়াচাড়া করতে করতে ভাবলো আজ হাজার খানেক টাকার খউব দরকার। টাকাটা পকেটে রেখে বাইক স্ট্রাট দিলো।
অনুরাধা জুনায়েদের সাথে ভাড়া নিয়ে কথা বলছিল যখন, তখন দূর থেকে শোয়েব ছন্দা রিমি অনুরাধার দিকে তাকিয়ে ছিল।অনুরাধা কাছে আসতেই ওকে ছেকে ধরলো কিরে বাইকওয়ালার সাথে এত কথা বলছিলি কি ব্যাপার।নারে উনার কাছেও ভাংতি নেই আমার কাছেও নেই তাই ব্যাগে খুজঁতে খুঁজতে দেরি হলো। ক্লাশ শেষে মলিকে বললো চলতো সাইন্স ফ্যাকাল্টিতে মলি বললো কেনরে যাবি ওখানে?একটু কাজ আছে বলেই হাঁটতে হাঁটতে মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টের অফিসে ঢুকে চেয়ারে বসে থাকা অফিসারকে জিজ্ঞেস করলো গত বছর পাস করে বের হয়েছে এমন স্টুডেন্টের খোঁজ কিভাবে পেতে পারি ম্যাডাম? মহিলাটি বললো এখানেই, কেন? বলেই গত বছরের রেজিস্ট্রার খাতা বের করে জিজ্ঞেস করলো নাম কি? অনুরাধা বললো জুনায়েদ। মলি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে অনুরাধার দিকে চেয়ে রইলো।অফিসারটি খাতাটা বন্ধ করে বললো ও জুনায়েদ সেতো দারুণ মেধাবী ছেলে ফার্স্ট ক্লাশ সেকেন্ড হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান স্কলারশিপও যোগাড় হয়ে গেছে তাঁর এ ডিপার্টমেন্টের সবারই প্রিয় সে, টিচারদের ফেবারিট স্টুডেন্ট আবার হেভি হ্যান্ডসামও বলে মুচকি হাসি দিয়ে অনুরাধার দিকে চেয়ে বললো বিয়েটিয়ের ব্যাপার নাকি? এরকম ছেলে কিন্তু লাখে একটা হয়। অনুরাধা হ্যা এরকমই বলে তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে মলির হাত ধরে টানতে টানতে বাইরে এলো মলিতো বিশ্ময়ে কিছুই জিজ্ঞেস করতে ভুলেই গেছে যেন।
পরদিন কল দিলেই জুনায়েদ চলে এলো বাইকে উঠতে উঠতেই অনুরাধা জিজ্ঞেস করলো অস্ট্রেলিয়ার কোন ভার্সিটিতে স্কলারশিপ পেয়েছেন?জুনায়েদ বাইক স্ট্রাট দিলেও হ্যান্ডব্রেক চেপে ধরে পেছন ফিরে অনুরাধার দিকে বিশ্ময়ে চেয়ে বললো আপনি জানলেন কিভাবে?
-হুম জানতে পারলাম।
-গোয়েন্দা বিভাগে চাকরি করেন নাকি?
-ধরুন তাই। 
-ওরে বাবা তাইলে তো আমার সবই জেনে গেছেন?
-তা অনেক কিছুই জেনেছি বটে তবে এখন চলেনতো।জুনায়েদ বাইক ছেড়ে দিল পনের মিনিটের মধ্যেই ক্যাম্পাসে চলে এলো।আজ বেশ খানিকটা আগেই এসেছে অনুরাধা, এখনো প্রায় এক ঘন্টা বাকি ক্লাশের। এখনো বন্ধুরা কেউ আসেনি।বাইক থেকে নেমেই জুনায়েদকে জিজ্ঞেস করলো কই বললেন নাতো কোন ভার্সিটিতে পড়তে যাবেন?
-অস্ট্রেলিয়ার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে। 
-বাহ্ ওটাতো খুউবই ভালো ইউনিভার্সিটি তা কবে যাচ্ছেন? 
-সব রেডি হলে সামনের মাসে বলে জুনায়েদ বাইক স্ট্রাট দিলো চলে যেতে যেতে অনুরাধা বললো বারে টাকাটা নিবেন না?
-গতকাল বেশি নিয়েছি আজ নিবো না।চলে যায় জুনায়েদ। অবাক হয়ে মোহগ্রস্তের মত তাকিয়ে থাকে।
এখন প্রায় প্রতিদিনই জুনায়েদের বাইকে ভার্সিটিতে যায় গল্প করে এভাবেই ওদের মধ্যে ধীরে ধীরে ভালবাসা জন্মায় তা প্রেমে গড়িয়ে যায় ভুলে যায় ওরা দু'জন দু ধর্মের মানুষ।ভুলে যায় ওদের পারিবারিক সংস্কৃতি। কিছুই ভাবেনা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি।ভালবাসায় মনের আরো কাছে চলে আসে দুজনে।ওরা সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করার এবং দু’তিনজন বন্ধুদেরকে নিয়ে কাজী অফিসেই বিয়েটা সেরে ফেলে তবে বিয়ের খবর কেউ ফাঁস করে না।ওরা সিদ্ধান্ত নেয় চেষ্টা করবে দুজনেই অস্ট্রেলিয়ায় যাবে একত্রে যদি অনুরাধা ভিসা না পায় তবে জুনায়েদ যাবার পর অনুরাধা দ্রুত যাবার চেষ্টা করবে। জুনায়েদের যাবার সময় হয়ে এলো দু সপ্তাহ পর ফ্লাইট। সব রেডি অনুরাধার মন ভীষণ ভীষণ খারাপ এর মধ্যেই বিভিন্ন দেশে করোনা দেখা দিয়েছে লকডাউন শুরু হয়েছে বাংলাদেশেও লকডাউন শুরু হলো জুনায়েদের যাওয়া হলো না।দুজনের দেখাও হয় না প্রতিদিন তবে মোবাইলে কথা চলে ঘন্টার পর ঘন্টা হঠাৎ একদিন জুনায়েদ কল করেও পায়না অনুরাধাকে জুনায়েদ বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় পরদিন ফোন করে কেউ ধরে না তবে কি অনুরাধার পরিবার জেনে গেছে বিয়ের কথা আর তাই তাকে মোবাইল থেকে দূরে রাখছে! তৃতীয় দিন ফোন করতেই রিসিভ হলো ওপাস থেকে কথা বলার আগেই জুনায়েদ অবিরাম বলতে লাগলো কেন ফোন ধরছো না,কেন দুদিন কথা বললে না তুমি জাননা তোমার কন্ঠ না শুনলে আমর মরে যেতে ইচ্ছে করে হঠাৎ মনে হলো ওদিক থেকে চাপা কান্নার শব্দ হ্যালো হ্যালো কি ব্যাপার কাঁদছো কেন অনু কি হয়েছে রাধা? ফুপানো শব্দে ওপাস থেকে বললো আমি রাধার মা বলেই আবার কান্না কয়েক সেকেন্ড পর আবার কান্না জড়িত কণ্ঠে বললো বাবা রাধাকে গতকাল ভোরে হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে ওর অবস্থা ভালো না ও না বাঁচলে আমি কি নিয়ে বাঁচবো!তুমি জুনায়েদ? জি বলে জুনায়েদ জিজ্ঞেস করে কোন হসপিটালে? রাধার মা হসপিটালের নাম বলতেই জুনায়েদ কল কেটে দিয়ে মোটর বাইক নিয়ে সোজা হসপিটালে।রিসিপশনে জিজ্ঞেস করলো অনুরাধা নামে একটা মেয়ে ভর্তি হয়েছে কোন ওয়ার্ডে।ছয় ফিট দূরত্বে কাচ দিয়ে ঘেরা নতুন রিসিপশনের ভেতর থেকে পুরো শরীর পিপিই দিয়ে ঢাকা লোকটি বললো ডান দিকে যেয়ে পেছনে করোনার জন্য আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে তবে ওখানে কাওকে যেতে দেওয়া হয় না।জুনায়েদের কানে কোন কথা ঢুকলো না সে সোজা করোনা ওয়ার্ডে চলে এলো ওখানে দু'জন গার্ড দাড়িয়ে সে কাছে যেতেই ওরা হই হই করে উঠলো বললো দূরে যান দূরে যান যদিও ওর হাতে গ্লাভস মুখে ডাবল মাক্স তবু্ও। জুনায়েদ তার হাতের গ্লাভস খুলে গেটের দিকে যেতেই গার্ড দু'জন ইলেকট্রক শক খাবার মত ওর কাছ থেকে দূরে ছিটকে সরে গেলো ও ভেতরে ঢুকে খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও গেল অনুরাধাকে কাছে যেতেই একজন নার্স দৌড়ে এলো বললো এখানে ঢোকা নিষেধ ঢুকলেন কিভাবে নার্সের কথা না শুনে বসে পড়লো অনুরাধার বেডে।অক্সিজেন চলছে প্রায় নির্জীব শুয়ে আছে চোখ বন্ধ করে কারো বসার অনুভবে চোখ মেলে চাইলো অনুরাধা।ইতোমধ্যে একজন ডাক্তার ও দু'জন নার্স ওর দুদিকে পাঁচ ফিট দূরে ওকে ঘিরে দাড়িয়ে আছে। জুনায়েদ অনুরাধার দিকে একটু ঝুকলো ইয়াং ডাক্তার কড়া ধমক দিয়ে বললো আপনি সরে যান এক্ষুনি নইলে পুলিশ ডাকবো সিনিয়র নার্স বললো সরে যান প্লিজ আপনারও নিশ্চিত করোনা হবে। হলে হোক বলে অনুরাধার করুণ মুখের দিকে আরেকটু ঝুকলো জুনায়েদ। অনুরাধার দু’চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে দুহাত দিয়ে জুনায়েদকে জড়িয়ে ধরে কাঁপছে সে তার শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে ।আর সহ্য করতে পারছে না জুনায়েদ ভাবছে অনুরাধার কষ্টটা ভাগ করে নেবে নিজে। সে এক হাতে একটানে নিজের মাক্স টেনে ছুড়ে ফেলে দেয় তা দেখে অনুরাধাও নিজের মুখে লাগানো অক্সিজেন মাক্সটি খুলে ফেলে,জুনায়েদ ঝটকরে অনুরাধার ঠোটে ঠোট লাগিয়ে গাঢ় চুম্বনে তাকে বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।ইতোমধ্যে তাদের চারিদিকে আরো দু'জন গার্ড এসে দাড়িয়েছে নবীন ডাক্তারটি গার্ডদ্বয়কে যুবকটিকে টেনে আনতে বলে গার্ডদ্বয় একটু এগুতেই সিনিয়ার নার্স হাতের ইসারায় ডাক্তারকে না করে মুখে বলে থাক এখন আর লাভ নেই যা হবার হয়ে গেছে ছেলেটি অলরেডি এফেক্টেড।জুনায়েদ চুম্বনে চুম্বনে ভরিয়ে দিলো অনুরাধাকে তার চোখেও পানি গড়িয়ে পড়ছে অনুরাধাকে বলছে তোমাকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকা নিষ্ফল মরলে দু'জনে এক সাথে মরবো বাঁচলে একসাথে।সিনিয়র নার্সের চোখেও জলের ধারা নেমে আসছে তাঁর মনে পড়লো হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত তাঁর স্বামী তাঁকে এভাবেই শেষ চুম্বন দিয়েছিলো।
এরপর যুবক যুবতীটির কি হয়েছিল কেউ খোঁজ করেনি কেউ তাঁদের খবর রাখেনি এই প্যান্ডামিকের সময় প্রতিদিন অসংখ্য লোকের মৃত্যু হচ্ছে কে কার খবর রাখে হয়তো তাঁরা দু'জন মৃত লাশের গননায় পড়েছে কিংবা সুস্থতার তালিকায়ও পড়তে পারে লেখক সে খোঁজ নিতে পারেনি।

ইউরোপ ভ্রমন পর্ব ২ (ফ্রান্স)....................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার

ইউরোপ ভ্রমন পর্ব ২ (ফ্রান্স)....................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার
য়ারপোর্টের ভেতরে বাস থেকে নেমে চলন্ত সিড়ি দিয়ে উপরে চলে এলাম। চারিদিকে তাকিয়ে এয়ারপোর্টের সৌন্দর্য্য দেখছিলাম আর চমকিত হচ্ছিলাম। বিশাল বড় এই সিডিজি এয়ারপোর্ট। প্লেনের কমতি নেই যাত্রীরও কমতি নেই তবুও হৈ চৈ বিহীন অনেকটা নীরবে সমস্ত কার্যক্রম চলছে। চেকিংয়ের পর ইমিগ্রেশান পার হয়ে লাগেস বেল্টের কাছে দাড়ালাম, কিছুক্ষণ পর লাগেসগুলি পেলাম, দুটো ট্রলি নিয়ে এলো আনান। ব্যাগগুলো উঠিয়ে ইমিগ্রেশন পার হয়ে চলে এলাম এক্সিট এরিয়ায়। ওদের গাড়ি ছেড়ে দিলে আমি আর কাকা ছয় তলা থেকে তিন তলায় নেমে এয়ারপোর্টের বাইরে বেরিয়ে এলাম।রাস্তায় ছোট্ট কাঁচের এক রুমের টিকেট কাউন্টার থেকে কাকা একটা টিকেট কিনলো উনার টিকেট মাসিক হিসেবে আগেই কেনা। টিকেট দুটো ইলেকট্রনিক বক্সের মেশিনে এক দিকে ঢুকাতেই তা আরেক দিক দিয়ে বের হয়ে এলো। সে টিকেট দুটো হাতে নিয়ে আমরা কোমর সমান গেট পার হয়ে একে একে বের হয়ে এসে মাটির নিচে নির্মিত ট্রেন স্টেশানের ভেতরে ঢুকলাম। সে এক অদ্ভূত ব্যাপার বাস্তবে না দেখলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হতো। মাটির উপর দিয়ে চলছে নানা ধরনের গাড়ি নিচ দিয়ে চলছে ট্রেন। স্টেশানগুলিও অত্যাধুনিক এবং কম্পিউটারাইজড। এখনে ঘড়ির সময় ধরেই চলছে যেন সব। এয়ারপোর্ট মেট্রো স্টেশানে ট্টেনের অপেক্ষায় থাকলাম। পাসাপাসি দুটো ট্রেন লাইনে দু মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করে।একটা আপ অন্যটি ডাউন। এই ট্রেন লাইন শহরের নানা দিকে ছড়ানো। সোজা গন্তব্য না হলে লাইন বদলাতে হয়। বিভিন্ন লাইনের নাম সংখ্যা দিয়ে উল্লেখ করা আছে যেমন লাইন ১,২,৩,৪। ট্রেন এলে অটো দরজা খুলে যাচ্ছে আবার ত্রিশ থেকে চল্লিশ সেকেন্ডের মধ্যে দরজা লক হয়ে যায় তবে শুনলাম কখনো কখনো ড্রাইভার দরজা নিজের কন্ট্রোলে নিতে পারে। আগে যাত্রীদেরকে নামতে দিতে হয় পরে উঠে সবই শৃঙ্খলের সাথে। আমরা ট্রেনে চড়লাম সিট খালি নেই দাড়িয়েও আছে অসংখ্য মানুষ অগ্যতা আমরাও রড ধরে দাড়ালাম। ট্রেনের ভেতরটা বেশ ঝকঝকে এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। দরজার উপরে দুপাসেই ইলেকট্রনিক বোর্ডে প্রতিটা স্টেশনের নাম লেখা আছে যে স্টেশানে থামবে পাঁচ সেকেন্ড আগে থেকেই সেখানে লাইট জ্বলে এবং লাউড স্পীকারে ফ্রেন্স ভাষায় স্টেশানের নাম বলে।

হঠাৎ চোখ পড়লো এক জোড়া যুবক যুবতীর দিকে ওরা দুজন কথা বলতে বলতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করছে শুধু একবার না বারবার সেকি আবেগঘন চুম্বন আমিতো এসব দেখে অভ্যস্ত না ফলে মাথা ঘুরিয়ে কাকার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম কাকা বাংলায় বললো এসব এখানে ডালভাত দেখছেননা কেউ ফিরেও তাকাচ্ছে না আপনি চুপচাপ দেখতে থাকেন ভুলেও কিছু বলেন না কিন্তু। আমি আর ভুলেও তাকাইনি। ডান দিকে তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে দাড়িয়ে এক হাতে রড ধরে আছে অন্য হাতে এক মনে মোবাইল টিপছে বয়স বাইশ চব্বিশ হবে গায়ে হাতা কাটা ছোট্ট গেঞ্জি পায়ের দিকে দৃষ্টি গেল দেখি পরনেও জিন্সের একটা ছোট্ট হাফপ্যান্ট এত ছোট যে হিপের (বাংলায় যাকে বলে পাছা) উঁচু জায়গাটার নিম্নাংশ থেকে পুরো পা খোলা। আমি আবারো চোখ সরিয়ে নিলাম।দু এক জন হিজাবী মহিলাকেও দেখলাম। এরা সবাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত কেউ কারো দিকে ভ্রুক্ষেপ করছে না। অনেককে গভীর মনোযোগের সাথে বই পড়তে দেখলাম। একজন পাগলকে দেখলাম ট্রেনের এমাথা ওমাথা ঘুরে বেড়াতে। যাহোক কিছুদুর আসার পর লাইন চেঞ্জ করে আবার অন্যদিকে অন্য স্টেশানে ঢুকে অন্য ট্টেনে চড়ে গন্তব্যে পৌছালাম। লুমিয়া স্টেশানে এসে এস্কেলেটরে উঠে দাড়ালাম। এস্কেলটরের ডান দিক ঘেসে দাড়িয়ে থাকছে সবাই বাদিকে একজনের যাওয়ার পথ খালি রাখতে হয় যারা চলন্ত এস্কেলেটরেও দ্রুত যেতে চায় তাদের জন্য। স্টেশানের ভিতরে ল্যান্ডিং এবং লবিতে দেখলাম দু একজন হকার দ্রব্য বিক্রি করছে একজনকে দেখলাম গীটার বাজিয়ে গান গাইছে আমদের তাড়ার জন্য দ্রুত সরে এলাম কাকার কাছে শুনলাম গান শেষে অনেক শ্রোতা দু এক ইউরো দিয়ে যায়। এটা অনেকের পেশা তবে এরা আরো নামীদামি গায়ক হবার জন্য চেষ্টা করে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে মেট্রো ট্রেন বা বাসের টিকেট ঘন্টা হিসেবে বা মাস হিসাবে কিনতে হয়।সময় শেষ হয়ে গেলে টিকেট আবার কিনতে হয়। 
ঠিক বিকেল আটটায় হোটেলে পৌছালাম।
বড়সড় একটা রুম ভাড়া করেছে কাকা আমাদের চার জনের পরিবারের জন্য খুব একটা অসুবিধা হয়নি। দুটো বেড একটা ডাবল একটা সেমি ডাবল। বেশ সস্তার জন্য এই এক রুম নেওয়া। তবুও আমাদের টাকায় প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় চার হাজার টাকা। 
প্যারিসে তখনো রাত হয়নি।আগষ্ট মাসের শেষ দিকে ওখানে সন্ধ্যে হয় সাড়ে নটায়। হোটেলে পৌছেই আনোয়ার কাকা বললো একটু রেষ্ট নিয়ে চলেন আইফেল টাওয়ার দেখে আসি। মেট্রোতে গেলে পনের মিনিট লাগবে। আমরা সুটকেসগুলো না খুলেই ঢাকা থেকে যে পোশাক পরে এসেছি সেভাবেই ফ্রেস হয়ে নটার দিকে বেরিয়ে পড়লাম


আইফেল টাওয়ার 
-----------
বিশ মিনিটের মধ্যেই আইফেল টাওয়ারের সামনে চলে এলাম মেট্রোতে করে। মনুমেন্টের মত কংক্রিটের তৈরি সামান্য উঁচু ট্রোকেডরো চত্বরের পাসেই মেট্রো স্টেশান 6 থেকে রাস্তার উপরে উঠলাম। মনুমেন্টের সামনে পাকা চত্ত্বরের উপর উঠে এলাম। এই চত্ত্বরের নামও ট্রোকেডরো আসলে ঐ এলাকার নামই এটা। ওখান থেকে একটু দূরে আইফেল টাওয়ার দেখা যাচ্ছে। তখন সন্ধ্যা হয় হয় লাইটগুলো এখনো জ্বলে উঠেনি।আইফেল টাওয়ার দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আমরা ছবি তুলতে ব্যস্ত হলাম।খানিকটা পর আলো জ্বলে উঠলো আইফেল টাওয়ারের সৌন্দর্য্য বাড়তে লাগলো। এই চত্তরে অনেক লোকের আনাগোনা। ফলে এখানে অনেক হকার দেখা গেল এরা বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে। দুজন বাংলাদেশীকেও দেখলাম। পুলিশের আগমন টের পেয়ে ওরা দৌড় দিল ফলে কথা বলতে পারলাম না। এই সব বাংলাদেশীরা দশ বারো লাখ টাকা খরচ করে এসে এই হকারি কেন করে আমি বুঝতে পারছি না। তবে কেন আসে এবং এত কষ্ট করে পরে বুঝেছিলাম তা অন্য পর্বে লিখব আশা করছি। সে যাই হোক 
ধীরে ধীরে ওখান থেকে নেমে আইফেল টাওয়ারের দিকে চললাম।
আইফেল টাওয়ার এলাকায় ঢুকতে ব্যাগ চেক করা হলো। আমরা টাওয়ারের চারদিক ঘুরে দেখলাম। বিংশ শতাব্দীর বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের এক আশ্চর্য ছিল এই আইফেল টাওয়ার।১৮৮৪- ১৮৮৯ সালে লোহার তৈরী টাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে উর্দ্ধমুখি তাকিয়ে দেখলাম এর উচ্চতা, ঘাড় ব্যাথা হয়ে গেল। নিরেট লোহা দিয়ে তৈরী এর স্ট্রাকচার। নানা ধরনের অতি আশ্চর্যের আবিস্কারের ফলে এটি এখন আর আশ্চর্য নেই। অনেকে মনে করে আমাদের দেশের ইলেক্ট্রিক টাওয়ারের মতই এটা দেখতে এত আদিখ্যেতা কেন।আসলে এর সৌন্দর্য দেখতে হলে চলে যেতে হবে সোয়াশো বছর পূর্বে।সবে মাত্র ফ্রান্সে শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছে এই সময় স্বল্প উন্নত যন্ত্র দিয়ে তৎকালীন সময়ে এই রকম একটা উচু টাওয়ার তৈরী করা ভাবলে অবাক হতে হয়। তাছাড়া এর আর্কিটেকচারাল ভ্যালু সাংঘাতিক রিচ।এই টাওয়ারে এখন নানা ধরনের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক যন্ত্রাংশ ও সার্ভার সেটিং করা হয়েছে। টিকেট কেটে লিফটে চড়ে আইফেল টাওয়ারের চুড়ায় উঠা যায়।ওখান থেকে সারা প্যারিসের সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হওয়া সহজ ব্যাপার। আলোকছটায় প্রজ্জ্বলিত আইফেল টাওয়ার দেখে ফিরে এলাম হোটেলে তখন রাত বারটা।

চলবে.....।

ইউরোপ ভ্রমন ( ফ্রান্স -১ম পর্ব).....................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার

ইউরোপ ভ্রমন ( ফ্রান্স -১ম পর্ব).....................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার
প্রিয় শ্যালক তৌহিদ বললো দুলাভাই পর্তুগালে আর বেশি দিন নাই ইউরোপের বাইরে হয়তো অন্য কোথাও ট্রান্সফার করে দিবে সুতরাং আমি থাকতে থাকতেই পর্তুগাল বা পারলে ইউরোপের কয়েকটা দেশ ঘুরে যান। ঢাকায় তৌহিদের সাথে দেখা হলেই বলতাম তুমি শালা যেখানে যেখানে পোষ্টিং পাবে আমি সেখানে সেখানেই যাব। তোমার পিছু ছাড়বো না।ফলে তৌহিদের এই অফারটি এড়িয়ে যেতে মন চাইছিল না। বললাম ব্যবস্থা কর তোমার বুবু ভাগনে ভাগনি সহ যাব।

শেষ পর্যন্ত তৌহিদের ইনভাইটেশানে চারজনের পুরো পরিবারের সেনজেন ভিসাটা হয়েই গেল। অবশ্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফ্রান্স এ্যামবেসিতে জমা দিয়েই ভিসা পেয়েছি। তৌহিদ যেহেতু পর্তুগালে অবস্থান করছে সেহেতু ওখানেই যেতে হবে। ভাবলাম সেনজেন ভিসা পেলাম ২৭টা দেশ ঘুরতে পরবো তবে কেন শুধু একটা দেশ ঘুরবো। এবার খোঁজা শুরু হলো কোন দেশে ঘনিষ্ট স্বজন বাস করে। পেয়েও গেলাম ভাস্তেকে। আমার কাজিনের ছেলে ইটালিতে বসবাস করছে স্ত্রী ও মাকে নিয়ে। ভাস্তেকে বললাম বাবা ইটালিতে আসতে চাই কদিনের জন্য তো হোটেল ভাড়াতো অনেক পড়বে তা তোমার বাসায় কি দু একদিন থাকা যাবে? ভাস্তে রেগে গিয়ে বললো কি বলেন কাকা দু এক দিনতো থাকা যাবে না আপনাকে কমপক্ষে দশদিন থাকতে হবে।আমিতো আপ্লুত। বললাম ভিসা পেয়েছি ৩০ দিনের শুধু ইটালিতে দশ দিন থাকলেতো হবে না। ভাস্তে বললো আগে আসেনতো তারপর দেখা যাক।
তৌহিদকে বলতেই সে বললো যেখানেই যান পর্তুগালে ১৫ দিন থাকতে হবে। এবার ভাবলাম তাহলে রওনা দেই প্রথমে ইটালি পরে পর্তুগাল।আমার বন্ধুবর শাহিদুলের ট্রাভেল এজেন্সি সিটিকম ট্রাভেলে যেয়ে টিকেট কিনলাম। শাহিদ ভাই সর্বোচ্চ ডিসকাউন্টে টিকেটের ব্যবস্থা করলো। টিকেট আনতে গেলে শাহিদ ভাইয়ের স্টাফ বললো এখন নিয়ম হয়েছে যে দেশের এ্যাম্বেসি থেকে ভিসা নিবেন সেই দেশ হয়ে অন্যদেশে যেতে পারবেন। শ্যালককে জিজ্ঞেস করতেই সে বললো না এমন কোন নিয়ম নেই। কিন্তু স্টাফ ভদ্রলোক অনড় । 

সেদিন শাহিদ অফিসে ছিল না। তো কি করা প্রায় একই মুল্যে প্যারিস হয়ে যেতে পারছি তাছাড়া আমার মেয়ে আরশীর প্রচন্ড ইচ্ছা প্যারিস দেখা আমারও ইচ্ছে তাই তো কেটে ফেললাম সামান্য কয়েকটা টাকা বেশি দিয়ে। রিটার্ন টিকেট নিলাম ঢাকা- প্যারিস, লিসবন -ঢাকা। এখন খোঁজা শুরু হলো ফ্রান্সে পরিচিত আত্মীয় কে আছে পেয়েও গেলাম আমার ভায়রা আরাফাতের ছোট কাকা মি.আনোয়ার ওখানে বাস করছে টানা দশ বছর। ফেসবুকে তাঁকে খুঁজে এড করে কথা বলা শুরু করলাম।আরাফাত বলেছিল অসাধারন ভাল মানুষ কথা বলে দেখলাম ভালোর সাথে অসাধারন আন্তরিকও। ভিসা পাবার পর থেকেই ফ্রান্সে আনোয়ার কাকা ইটালিতে সজীবের সাথে প্রতিদিনই ম্যাসেঞ্জারে কথা চলছে অবিরত আর তৌহিদের সাথে যখন তখন। যেহেতু প্যারিসে প্রথমেই যাব তাই আনোয়ার কাকাকে হোটেল বুকিং দিতে বললাম। প্যারিসে আনোয়ার কাকা ও কয়েকজন যুবক মিলে এক ফ্লাট ভাড়া করে বসবাস করে।ফলে আমাদের জন্য হোটেল ঠিক করলেন। 
তবুও আমি একটু আশন্কায় ছিলাম যদি হোটেল ঠিকমত না মেলে মহা বিপদে পড়ে যাব।আনোয়ার কাকা আমাকে আশ্বস্ত করলেন। আমরা ২০ আগষ্ট টার্কিশ এয়ারে রওনা দিলাম। ঢাকা এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন পার হয়ে বোর্ডিং পাস নিয়ে অপেক্ষা করছি কখন প্লেনে উঠবো। ভোর পাঁচটায় প্লেনে উঠলাম প্লেন উড়লো ঠিক ছটা কুড়িতে। সিটে বসতেই আনান ঘুমিয়ে পড়লো।ছেলাটা গতরাতে একটুও ঘুমায়নি।আমরা কেউই ঘুমাইনি কিন্ত ওতো মাত্র আট বছরের ছেলে।উনিশ তারিখ রাত সাড়ে বারটায় বাসা থেকে বের হয়েছি ভ্রমনের উত্তেজনায় সারাদিন সারারাত ব্যস্ততার মধ্যে কেটে গেছে এখন সবাই গা এলিয়ে দিয়ে সিটে বসলো।সিট বেল্ট বেধে বসতেই প্লেন ছেড়ে দিল। একটু পর আকাশে উড়লো। জানালা দিয়ে দেখলাম নীচের বাড়ি ঘর ছোট ছোট কাগজের বক্সের মত। সামনের সিটের পেছনে আমার সামনে স্ক্রিনে দেখলাম সাত হাজার মিটার উপরে আছি। একটা সো সো আওয়াজ পাচ্ছি কানে। ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পড়লাম।একটু পর মেয়েলি কন্ঠে ইংরেজীতে কিছু কথা শুনে ঘুম ভাংলো। দেখি এয়ার হোস্টেস খাবার নিয়ে এসেছে।তাড়াতাড়ি সামনে ভাজ করে রাখা ট্রেটা মেললাম এয়ার হোস্টেস খাবারের প্যাকেট রেখে মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেল। প্যাকেট খুলে হাইজেনিক খাবার দেখে মনটা ভরে গেল। খাওয়ার পর জুস খেলাম। খানিকটা পর কফি খেয়ে ঘুম। ঘন্টা চারেক পর আবার হালকা নাস্তা ও কফি খেলাম। স্থানীয় সময় চারটায় প্লেন ইস্তান্বুলে ল্যান্ড করলো। ছটা থেকে চারটা মোট দশ ঘন্টা প্লেন উড়েছে মনে হলেও আসলে সাত ঘন্টা উড়েছে। বাংলাদেশের সাথে তুরুস্কের সময়ের পার্থক্য তিন ঘন্টা এবং আটোমেটিকভাবে সময় এ্যাডজাস্ট হয়ে যায় বিশেষ করে মোবাইলে ও প্লেনের ঘড়িতে। ইস্তাম্বুলে চার ঘন্টা ট্রানজিট। ভিতরেই বসে থাকলাম। প্যারিসের প্লেন কত নাম্বার প্যাসেজ ওয়ে থেকে ছাড়বে জেনে নিয়ে লাউঞ্জে বসলাম।

এরপর আমি আর আনান ঘুরে ঘুরে সমস্ত এয়ারপোর্ট দেখলাম তারপর আমরা হ্যান্ড ব্যাগগুলো পাহারা দিলাম আর ডলি আরশী এয়ারপোর্ট ঘুরে দেখলো। বিশাল বড় এয়ারপোর্ট প্লেনের অভাব নেই যাত্রীরও অভাব নেই। এত যাত্রী তবুও হৈচৈ কম। ঠিক চার ঘন্টা পর প্যারিসের পথে বদলি প্লেন ছাড়লো। আবার প্লেনের ভিতর হোস্টেসের দেওয়া খাবার খেয়ে ঘুম।স্থানীয় সময় ছটা ত্রিশ মিনিটে প্যারিস সিডিজি এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেলাম।ধীরে ধীরে প্লেন থেকে নেমে এয়ারপোর্টের বাসে উঠে চলে এলাম এক্সিট এরিয়ায়। সবচেয়ে অবাক লাগলো সারা এয়ারপোর্টে ইংরেজি লেখা নেই। ইংরেজি অক্ষরে ফ্রেন্স ল্যাঙ্গুয়েজ।শুধু এ্যারো চিহ্ন দেখে বের হলাম। এ্যারো চিহ্নের পাসে লেখা sorte পরে শুনেছি sorte অর্থ বাহির। ভিজিটর এলাকায় এসে দেখি আনোয়ার কাকা দাড়িয়ে সাথে আরো একজন। দেখে বুকের ভেতর আশ্বাসের চাঁদরটা লম্বা হয়ে গেল। আনোয়ার কাকার সাথে এই প্রথম সরাসরি দেখা এর আগে শুধুমাত্র মোবাইলে কথা ও দেখা হয়েছে।আনোয়ার কাকা জড়িয়ে ধরলো ও পাসের যুবকটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিল ও রতন। ওঁদের পাসে দেখি আরো দুজন দাড়িয়ে সামনে এসে পরিচয় দিল সে নির্ঝর অধিকারী ফ্রান্সে বাংলাদেশ দুতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি তৌহিদের কলিগ। আমার স্ত্রীকে চেনে ওঁর সাথে কথা বললো। নির্ঝর অধিকারী মোটর কার নিয়ে এসেছে। নির্ঝরের একটা বড় প্যাকেট ঢাকা থেকে আমরা নিয়ে এসেছি যার মধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলা নববর্ষ পালনের সরঞ্জাম ছিল। ওঁর গাড়িতে লাগেস সহ আমি আনোয়ার কাকা বাদে সবাইকে উঠিয়ে দিলাম। আমরা দুজনে মেট্রো রেলে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। মেট্রো রেলের কথা অনেক শুনেছি এবার চড়লাম।সে এক অন্যরকম অনুভুতি।

চলবে.…...।

বীরপুরুষ...................................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার

বীরপুরুষ...................................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার

 














কোথায় তুমি এদিকে এসো ব্যাগ দুটো ধরো বেশ হুঙ্কার দিয়েই ডাকলো স্ত্রী মোমেনা বেগমকে। মোমেনা বেগম প্রায় দৌড়ের মতো এসে বাজারের ব্যাগ দুটো হাতে নিলো মোবারক আলীর হাত থেকে।মোমেনা বেগম ওগুলো রান্না ঘরে রেখে গোসল খানায় দিকে পা বাড়াতেই আবারও হুঙ্কার ব্যাগে মলাই মাছ অাছে অনেকক্ষণ আগেই কিনেছি ওগুলো আগে কুটো নইলে পঁচে যাবে।মোমেনা বেগম একটু ইতস্তত করে বললো দাড়াও টয়লেট সেরে আসি ওমনি কড়া গলায় মোবারক আলী বললো কেন এতক্ষণ কি করেছো ঘোড়ার ঘাস কাটছিলে নাকি?আগে বাজার ঢালো পরে টয়লেটে যেও।মোমেনা বেগম তবুও টয়লেটে গেল আর সামলাতে পারছিলো না কি আর করা এই সাতষট্টি বছর বয়সে প্রকৃতির ডাক চেপে রাখা যায় না।ভোরে উঠে নামাজ পড়ে ঘরদোর ঝাড়ু দিয়ে সকালের নাস্তা বানিয়ে স্বামীকে খাইয়ে নিজে খেয়ে বেশ টায়ার্ড লাগছিল তাই বিছানায় শুয়ে টিভি দেখতে দেখতে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিল এমন সময় স্বামীর ডাকে ধড়মড় করে উঠে পড়লো।মোবারক আলী সকাল সাড়ে ছটায় উঠে মর্নিং ওয়াকে বের হয়ে ঠিক সাড়ে সাতটায় বাসায় এসে নাস্তা করে সাড়ে আটটায় বাজারের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়ে এটা তার নিত্যকার রুটিনই বলা চলে।বাজার থেকে এসে গোসল সেরে একটু রেষ্ট নিয়ে চা খেতে খেতে পত্রিকা পড়বে বা টিভি দেখবে ঠিক যোহরের আজান দিলে উঠে ওজু করে নামাজ পড়বে নামাজটা বাসায়ই পড়ে শুধু মাগরিব ও জুম্মা নামাজ মসজিদে পড়ে।বিকেলে চায়ের দোকানে চা খেতে যেয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে মাগরিবের আজান হলে পাসের মসজিদে নামাজ পড়ে,চায়ের দোকানে আড্ডার জন্য মাগরিব নামাজটা মসজিদে পড়তে হয় নইলে এটাও বাসায় পড়তো।ভোরের নামাজ অধিকাংশ সময়ই বাদ হয়ে যায় ঘুম থেকে দেরি করে উঠার কারনে। এভাবেই চলছে মোবারক আলীর রিটায়ার জীবন চক্র। মোবারক আলী একটি নামি-দামি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরীয়ান হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরি করে পনেরো বছর যাবত রিটায়ার্ড লাইফ লিড করছে। স্ত্রী মোমেনা বেগমের আর রিটায়ার কর হলো না সেই বিয়ের পরদিন থেকেই সংসারের সব কাজকর্ম করা যে শুরু হয়েছে আজ অবধি চলছে যতদিন বেঁচে আছে ততদিন হয়তো চলবে হয়তো কেন চলতেই থাকবে।এখন রান্নাবাড়ার কাজ একটু কম হলেও শরীরের তুলনায় কম না।যখন ক্লাশ এইটে পড়ে তখনই তার বিয়ে হয়ে গেল সুঠাম দেহের অধিকারী বি এ পাস মোবারক আলীর সাথে তারপর থেকে সংসারের বোঝা বহন করে চলতে হচ্ছে মোমেনা বেগমের।মোবারক আলী চাকরির সুবাদে শহরে এসে সরকারি কোয়ার্টার পেয়েছে সেখানে মোমেনা বেগমকে নিয়ে এলেও গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে স্বামীর ভাই বোন ভাইবোনদের ছেলে মেয়ে পরপর এসে এ কোয়ার্টারে উঠলে তাদেরকে হাসিমুখেই দেখাশোনা করতে লাগলো মোমেনা বেগম এর মধ্যেই তার নিজেরও পাঁচ পাঁচটি সন্তান পৃথিবীতে চলে এসেছে।সবাইকে খাওয়ানো লেখাপড়া করানো সেও মোমেনা বেগমকেই দেখতে হয়।মোমেনা বেগমের বুদ্ধিমত্তা এবং সবার জন্য ত্যাগের কারনে তার শুশুর বাড়িতে সুনামের ফল্গুধারা বয়ে যায়। রাতদিন সংসারের কাজ করলেও ধৈর্য কখনোই হারায় নি আরো একটা চমৎকার গুণ আছে তার দুপুরের খাবারের কিছুক্ষণ পর এক থেকে দেড় ঘন্টার একটা ঘুম দেবে ফলে শরীর সব সময় চাঙ্গা থাকে মাথাও ঠান্ডা থাকে এমনিতেও মোমেনা বেগমের মাথা সব সময়ই ঠান্ডাই থাকে এখনো পর্যন্ত এ নিয়মটার অনাথা হয়নি কখনো তবে বছর দুয়েক পূর্বে একটা মাইল্ড স্ট্রোক করার পর থেকে শরীরের ঝরঝরে ভাবটা বেশ খানিকটা কমে গেছে।
মোমেনা বেগম বাজারের ব্যাগ ফ্লোরে ঢেলেই বিস্মিত হয়ে স্বামীকে জিজ্ঞেস করলো একি এত মাছ এনেছো কেন এত আমার পক্ষে কুটা কি সম্ভব? মোবারক আলী ততোধিক উত্তেজিত হয়ে বললো এই মাছগুলো কুটতে পারবে না কি এমন কাজ আছে সংসারে?আরে তুমিতো জানোনা ছোট মাছ শরীরের জন্য খুবই উপকারী চোখের শক্তি বাড়ায় হাড়ের ক্ষয় রোধ করে।মোমেনা বেগম একটু অসহিষ্ণু হয়ে বলে সংসারে আমরা মাত্র দুজন মানুষ এত মাছ আর এত তরকারি কে খাবে?
মোবারক আলী রেগে গিয়ে বলে তাহলে টান মেরে ফেলে দাও মাত্র দুই কেজি মাছ এতো হলো? মোমেনা বেগম আর কিছুই না বলে মাছগুলো একটা গামলার ভেতরে রেখে পানি ঢেলে রাখলো এমন সময় মোবারক আলী গমগম স্বরে স্ত্রীকে বললো চা বানাও আমি গোসল সেরে আসছি।স্ত্রী দ্রুত চা তৈরী করে স্বামীকে চা বিস্কুট দিয়ে তরকারি আলাদা করে গুছিয়ে রেখে সদর দরজা খুলতেই ক্যাচ করে একটু আওয়াজ হলো ঠিক তখনি আবার সেই গমগমে আওয়াজ প্রতিদিন সেই একই বিস্কুট দাও অন্য কিছু দিতে পার না। মোমেনা বেগম ঘরে আর কিছু নেই বলে পা বাড়ালো ভাবলো কানে কম শোনে বলে রক্ষে নইলে কোথায় যাচ্ছো কেন যাচ্ছো নানা কথা জিজ্ঞেস করতো।দ্রুত পা চালিয়ে পাসের বাসার কাঠ মিস্ত্রি মনোয়ারের বউকে মাছগুলো কুটতে দিয়ে বলে এলো শেষ হলে বাসায় দিয়ে যাস।মোমেনা বেগমের আরো একটা গুণ হলো পাড়াপড়শিদের সাথে সু সম্পর্ক রাখা তাছাড়া যাঁরা একটু দরিদ্র শ্রেণির তাদেরকে মাঝে মাঝে আর্থিক সহায়তা করা এবং টুকটাক ফুট-ফরমায়েশ খাটিয়ে পারিশ্রমিক দেন ফলে যেকোন কাজে তাদেরকে ডাকলে তাঁরা এসে কাজ করে দিয়ে যায় আজও মিস্তিরির বৌকে মাছ কুটতে দিয়ে গেল।
মোবারক আলী ঠিক একটার সময় নামাজে বসবে আধা ঘন্টা লাগে তার নামজ শেষ হতে, এমনিতেই অত্যাধিক মোটা মানুষ চেয়ারে ছাড়া জায়নামাজে বসে নামাজ পড়তে পারে না।নামাজ শেষ হলেই স্ত্রীকে হাক দিয়ে বলবে কইগো টেবিলে ভাত বেড়েছো প্রচন্ড খিদে লেগেছে।এইতো হলো আর একটু সময় লাগবে বললো মোমেনা বেগম।মোবারক আলী উচ্চ স্বরে হুমকি দিয়ে বললো ঠিক সময় ভাত না দিলে কিন্তু আজ আর আমি কিছুই খাব না মোমেনা বেগম শঙ্কিত হয়ে দ্রুত রান্না করতে লাগলো।এরপর হাক দেয় ইনসুলিন দিয়ে যাও খিদে সহ্য হচ্ছে না মোমেনা বেগম পড়িমরি করে এসে মোবারক আলীর পেটে সুই ঢুকিয়ে ইনসুলিন দেয়।মোবারক আলীর ডায়াবেটিক রোগ দীর্ঘ দিনের ইনসুলিন ছাড়া চলতেই পারে না কিন্তু খাবারে তার কার্পন্য নেই পেট পুরে রসিয়ে রসিয়ে সবই খায়। সময়মত টেবিলে ভাত দেয় মোমেনা বেগম,মোবারক আলী গোগ্রাসে খেতে থাকে একবারও স্ত্রীকে খাবার জন্য ডাকে না। বিভিন্ন পদের খাবার উদর পুর্তি করে হাক দেয় কই পানি দাও, মোমেনা বেগম তখন হয়তো নিজে খেতে বসেছে তিনি খাওয়া ফেলে পানির গ্লাসটা এগিয়ে দেয় কখনোই পানিটা পর্যন্ত নিজ হাতে ঢেলে খাবে না পানির জগটা হাতের কাছে থাকলেও মোমেনা বেগমকেই ঢেলে দিতে হয়।একবার বড় জমাই বেড়াতে এলে খাবার টেবিলে জামাইয়ের সামনেই তিনি রাগত স্বরে হাতের কাছেই পানি ভর্তি গ্লাস থাকতেও স্ত্রীর কাছে পানি চাইলে জামাই বলে গ্লাসটাতো দেওয়াই আছে নিজ হাতে নিয়ে খেলেইতো হয় উত্তরে মোবারক আলী গর্ব ভরে দাঁত বের হে হে করে হাসে আর বলে বাবাজি বলোকি জীবনে কোনদিন নিজের হাতে খাইনি তোমার শাশুড়ীকেই দিতে হবে এটাই আমার নিয়ম জামাইও ঠোট কাটা স্বভাবের সে জবাব দেয় স্ত্রীকে চাকরের মর্যাদায় রেখেছেন তাহলে একথা শুনে মোবারক আলী রাগে চুপ মেরে যায় এরপর জামাইয়ের সামনে আর এমনভাবে কথা বলে না মোমেনা বেগম জামাইয়ের উপর খুশি হলেও লজ্জা পেয়ে যায়।
খাওয়াদাওয়ার পর বিছানায় যেয়ে গড়গড় করে নাক ডেকে টানা দু'ঘন্টা ঘুম এরপর ঘুম থেকে উঠে আসর নামাজ পড়ে হাতে লাঠি নিয়ে হেটে চায়ের দোকানে বসবে।সন্ধ্যার পর বাসায় বসে টিভি দেখতে দেখতে ঠিক আটটার সময় আবার হাক টেবিলে খাবার দাও।খাবার খেয়ে সোফায় বসে আবার একটু টিভি দেখবে তখন তার চোখে রাজ্যের ঘুম চলে আসে স্ত্রীকে বলবে মশারি টাঙিয়ে দাও মোমেনা বেগম জলদি করে মশারি টাঙিয়ে দিলে বিছানায় শুয়েই নাকডাকা শুরু হয়ে যায় এভাবেই তার লাইফ স্টাইল চলছে।
লোকে বলে মোবারক আলী বিয়ের রাতেই বিড়াল মেরেছে নইলে এইভাবে সারাটা জীবন স্ত্রীর উপর হম্বিতম্বি করে কিভাবে জীবনটা কাটিয়ে দিল।কোন বিষয়ে কোনদিন যদি স্ত্রী মোমেনা বেগম সংসারের প্রয়োজনের জন্য কোন কথা বলে সেটাকে মোবারক আলী ধমক দিয়ে নাকচ করেই দেবে সেই প্রয়োজনটা যতই ভালো হোক না কেন। অথচ স্ত্রীর প্রায় সমস্ত প্রস্তাব ঠিকই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাস্তবায়ন করেত হয় তবুও সেটা হতে হয় তার নিজস্ব স্টাইলে।তার পাঁচ পাঁচটি সন্তান সবাই স্টাবলিশ তবুও বাবার এহেন কান্ডে কোন কথাই বলতে সাহস পায় না। এই পাঁচটি সন্তানের স্টাবলিশের পেছনের কারিগর তাদের মা মোমেনা বেগম তিনি শুধুই নিজ সন্তানদেরকেই মানুষ করেনি তার দেবর দেবরদের সন্তানদেরকেও লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করেছে যদিও অর্থগুলো এসেছে স্বামীর বেতন ও স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তির ফসলাদি থেকে।মোমেনা বেগমের স্বামী সারাজীবনে একটি কাজ ভালো করে করতে পেরেছে তা হলো শহরে তিনতলা একটা বাড়ি বানানো।রিটায়ারের সমস্ত টাকা ঢেলে এবং কয়েকটা ডিপিএস করা ছিল ব্যাংকে সেই টাকা দিয়ে তিনতলা বাড়িটি তৈরি করেছেন তিনি। এই ইট গাথার কাজটি ভালই করতে পারেন তিনি,তবে এই বাড়ি বানানোর সময় মোমেনা বেগমকেই সব কাজ সামাল দিতে হয়েছিল। ইট কেনার সময় কত ইট কিনেছিল তার হিসেব খাতায় টুকে রাখা কত ব্যাগ সিমেন্ট এলো সেটার হিসেব রাখা,মিস্ত্রিদের রোজের টাকার হিসেব রডের বাকির হিসেব সবই মোমেনা বেগমকেই দেখতে হতো এর মধ্যে বাড়ির রান্না খাবার পরিবেশন ইত্যাদি সঠিকভাবে করতে হতো।এত চাপ নিয়েও মোমেনা বেগম কাজগুলো বেশ সুচারুভাবে করে গেছে।বাড়ি তৈরির কাজ শেষে কোয়ার্টার ছেড়ে বাড়িতে উঠার কাজটিও মোমেনা বেগমকেই একাই করতে হয়েছে কারণ মেয়ে তিনটেরই বিয়ে দিয়েছে তার নিজ নিজ সংসার নিয়েই ব্যস্ত মাকে এসে কিভাবে সাহায্য করবে তবুও মোমেনা বেগম বাড়িটি বেশ সুন্দর করে সাজিয়েছে এর মাঝে কখনো যদি সামান্য ভুল ত্রুটি হতো তবে মোবারক আলীর কড়া ধমকানিতে শরীর সবসময় হীম হয়ে থাকতো। বড় ছেলেটা স্ব-স্ত্রীক কানাডায় বসবাস করে ওখানকার নামীদামী এক ব্যাংকে আইটিতে ভাল চাকরী করে স্যালারীও ভাল পায় সে বাবা-মার কাছে মাসে বেশ কিছু টাকা পাঠায় তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাসের জন্য কিন্তু সে টাকা মোবারক আলী ইট গাথার কাজে লাগায় এভাবে তার থানা শহরে একটা মার্কেট তৈরী করে দোকানগুলো ভাড়া দিয়েছে যা আয় হয় তা দিয়ে আবার চেষ্টা করে আরো কিছু করতে অথচ এই পচাত্তর বছরে আর ধকল না নিয়ে শান্ত হয়ে শান্তিতে বসবাস করাটাই ছিল শ্রেয়।তার সন্তানেরা যতই না করে তিনি কারো কথাই শুনবে না এদিকে ধকলটা স্ত্রী মোমেনা বেগমের ঘাড়ে এসে পড়ে শেষ পর্যন্ত একটু এদিক সেদিক হলেই মোমেনা বেগমের উপর রাগের তুফান ছুটাবে মোবারক আলী। এইতো সেদিন কয়েকজন মেহমান এসেছিল ছোট ছেলের শশুর বাড়ি থেকে তাদের নাস্তা দিতে সামান্য দেরি হওয়াতে সেকি কটুক্তি মোমানা বেগম রান্না ঘরে আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছে আবার নাস্তা দিয়ে এসে দাড়াতে না দাড়াতেই হাক শোনা গেল চা বানাও মোবারক আলী বসে বসে হুকুম করেই যাচ্ছে তার এ অবস্থা দেখে বেয়াই সাহেব বলেই ফেললো থাক আমরা চা খাই না আপনি আর শুধু শুধু বেয়াইন সাহেবকে কষ্ট দিয়েন না।মোবারক আলী ততোধিক গম্ভীর স্বরে বললো মেয়েলোক মানুষকে লাঠির আগায় রাখতে হয় বুঝলেন বেয়াই সাহেব।বেয়াই সাহেব নরম মনের মানুষ মাথা নিচু করে চুপ হয়ে গেল।মোমেনা বেগম চুপচাপ আদেশকৃত কাজগুলো নীরবে করে যাচ্ছে আর ভেতরে গুমরে মরছে।
মোমেনা বেগমের স্বভাবই চুপচাপ থাকা বা নীরবে সব সহ্য করা এটা সবসময়ই ছিল এখনো আছে ফলে স্বামীর কথা নীরবেই হযম করে যায় তার দুখের কথা কাউকে জানায় না এমনকি তার মেয়েদরকেও না। মেয়েরা সবই বোঝে কিন্তু বাবার বদমেজাজের কথা জানে বলেই কিছু বলে না আর ছেলেরাতো এ বিষয়ে মাথাই ঘামায় না।
মোবারক আলীর এই বদমেজাজি স্বভাব শুধুই নিজ স্ত্রী ছেলে মেয়ে আর তার দুএকজন স্বজনেরাই কেবল ভুক্তভোগী এছাড়া বাইরে কারো সাথে এমন মেজাজ দেখাতে পারে না বরং উল্টো ঝাড়ি খেয়ে আসে আর বাসায় এসে স্ত্রীর উপর এর প্রভাব ফেলবে।একবার জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে তার এক আত্মীয়র সাথে কথা-কাটাকাটি হলে সেই আত্নীয়র ঝাড়ি খেয়ে মোবারক আলীর অবস্থার দফারফা হয়ে যায় প্রেশার বেড়ে যখন তখন অবস্থা। সেই অবস্থায় স্ত্রী মোমেনা বেগমের সেবাশুশ্রূষায় সুস্থ হয়ে উঠে তবুও স্ত্রী সারাক্ষণ স্বামীর আতঙ্কে আতঙ্কিত থাকে স্বামীর আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা যেন তাঁর ফরজ কাজ হয়ে দাড়িয়েছে।মোবারক আলীর যখন যা মন চায় সেটাই তখনই করতে হবে এইতো সেদিন হঠাৎ বললো ঢাকা যাবে আগামীকাল মন চাইছে নাতনিদের দেখতে এদিকে মোমেনা বেগমের শরীরটা ভাল যাচ্ছে না শরীরটা দূর্বল লাগছে কদিন পর যাবে বলার সাথে সাথেই সেই হুঙ্কার ঢাকা গেলে শরীর ভাল হয়ে যাবে আরেকদিন মোমেনা বেগম সংসারের সমস্ত কাজ সেরে ক্লান্ত হয়ে দুপুরে খেয়ে দেয়ে ঘুমাচ্ছে হঠাৎ হুঙ্কার শোন আমারতো ঘুম আসছে না তাই মনে মনে চিন্তা করলাম রাতে মুড়িঘণ্ট খাবো তুমি এখনই রান্না শুরু করো নইলে সময় পাবে না,মোমেনা বেগম তড়িঘড়ি করে তিনদিন পূর্বে আনা রুই মাছের মাথাটা ফ্রীজ থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে রখলো যেন সময়মত রান্না করা যায়।এভাবেই আতঙ্কেই দিন কেটে যায় মোমেনা বেগমের। 
শরতের মাঝামাঝি এক দুপুরে প্রচন্ড গরমে মোমেনা বেগম শুয়ে আছে অন্য ঘরে,এসময় স্বামীর সাথে একই বিছানায় ঘুমাতে সঙ্কোচ বোধহয়। কখনো কখনো ছেলে মেয়ে নাতি নাতকুররা এলে দুপুরে একই বিছানায় স্বামীর সাথে তারা দেখলে কি ভাববে ছি ছি কি লজ্জার বিষয় তাই আলাদাই ঘুমান।শরতের আকাশটাও যেন কেমন বিক্ষিপ্ত। হঠাৎ হঠাৎ কোত্থেকে ঘন কালো মেঘ উড়ে এসে আরো ঘন কালো হয়ে ঝমঝম করে বৃষ্টি নেমে আসে এমন তেমন বৃষ্টি না একেবারে ভাসিয়ে দিয়ে যায় কিছুক্ষণ বৃষ্টি পড়ে সবকিছু ভিজিয়ে আকাশ আবার পরিষ্কার হয়ে পড়ে।মোমেনা বেগমের দিবানিদ্রা একটু গাঢ় হয়ে এসেছে এমন সময় তার মনে হলো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে এসেছে মেঘের কড়কড়াত শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল চোখ মেলে দেখে সত্যি ঘন কালো অন্ধকার,যেন রাত গভীর দ্রুত বিছানা থেকে উঠে পড়লেন তিনি ছাদের দিকে যাবার জন্য, গ্রীলের গেটটা খুলে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলেন,ছাঁদে কাপড় শুকতে দিয়েছে অনেকগুলো কাপড় নিজের শাড়ী পেটিকোট ব্লাউজ স্বামীর লুঙ্গি প্যান্ট শার্ট বিছানার চাদর দড়িতে নেড়ে দিয়েছিল বারোটা একটার দিকে কড়া রোদ ছিলো তখন ওগুলো দড়িতে ঝুলিয়ে দিয়েছিল শুকোনোর জন্য এখন ছাদে উঠে এসেছে ওগুলো তুলতে একপ্রকার দৌড়ে ছাঁদে উঠে কাপড়ের কাছে আসতেই ঝমঝম করে করে বৃষ্টি নেমে এলো একটা কাপড়ও তুলতে পারলো না শুকনো অবস্থায় তাঁর পুরো শরীর ভিজে গেলো একদম গোছল হয়ে গেলো তাঁর। কি মনে হলো মোমেনা বেগমের সে দড়িতে দু-হাত রেখে আনমনে দাড়িয়ে ভিজতে লাগলো।আজ কেন যেন বৃষ্টিতে ভিজতে ভীষণ ভালো লাগছে সে যেন ফিরে গেছে সেই কৈশোরে যখন সে কিশোরী উঠোনে বিছানো শুকনো ধান বৃষ্টিতে যেন না ভেজে তাই মা'কে সাহায্য করতে মায়ের সাথে ধান উঠাতো। ধান উঠাতে উঠাতে বৃষ্টিতে ভিজে গেলেও মোমেনা উঠতো না ধান ঘরে রেখে সে বৃষ্টিতে ভিজতো মা কত বকাঝকা করতো তবুও সে ভিজতো কত যে আনন্দ লাগতো যেন স্বাধীন ময়ুর সে পেখম তুলে নাচছে। আজ যেন সেই দিন ফিরে এসেছে আজ সে ভিজবে কারো কোন চোখ রাঙানীকে ভয় পাবে না বৃষ্টি আরো ঘন হয়ে নেমে আসছে যেন আকাশের উপরে নদী আছে সেই নদী ভেঙে পড়েছে আর অজস্র ধারায় জল নেমে আসছে মোমেনা বেগম আজ কিশোরী সব ভয় ভীতি উবে গেছে কি স্বামী কি অসুখ সব ভীতি দূর হয়ে গেছে এই বৃষ্টি যেন তাঁর সব ক্লান্তি সব দুঃখ বেদনা গ্লানি সব কষ্ট ধুয়ে মুছে দিচ্ছে তিনি দুহাত দড়ি ছেড়ে আকাশের দিকে মেলে ধরে আর খিলখিল করে হাসতে থাকে আহ কি শান্তি কি স্বাধীনতা খুশিতে তাঁর দুচোখ বেয়ে নেমে আসে কান্নার জল, বৃষ্টির জল আর কান্নার জল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় আর তাঁর হাসির গমকও বেড়ে যায়। 
মোবারক আলীর ঘুমটা গভীর হচ্ছিল গড়গড় করে নাক ডাকার সাথে একটা সুখ স্বপ্নও দেখছিল সে আজ মুড়িঘন্ট দিয়ে বাসমতি চালের ভাত খাচ্ছে মোমেনা বেগম পুরো রুই মাছের মাথাটা স্বামীর পাতে উঠিয় দেয় মোবারক আলী তৃপ্তির সাথে খাচ্ছে আর মোমেনা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলছে আহা কত চমৎকার করে রেঁধেছ আজ যেন শাহী খানা খাচ্ছি দাও দাও ঐ মাছের টুকরোগুলো আমায় দাও যা রেঁধেছ না, একদম খাসা আর শোন দইয়ের হাড়িটা ফ্রিজ থেকে বের করে রাখো ঠান্ডাটা কমতে একটু সময়তো লাগবে না কি!আ হা কি যে অপুর্ব এমন সময় জানালা দিয়ে বৃষ্টির ছিটে এসে মোবারক আলীর ঘুমটা ভাঙিয়ে দেয় সে হাক দিয়ে স্ত্রীকে ডাকে কইগো জানালাটা বন্ধ করে দাও আমি আর বিছানা পাতি সব ভিজে গেলো। স্ত্রীর কোন সাড়া না পেয়ে নিজেই জানালা বন্ধ করে ওঘরে এঘর খুজেও স্ত্রীকে না পেয়ে ছাঁদে উঠে দেখে মোমেনা বৃষ্টিতে ভিজছে মোবারক আলীর মেজাজ গরম হয়ে গেলো চিৎকার করে ডাকলো এই বৃষ্টিতে ভিজছো কেন চলে এসো জ্বর হবেতো স্ত্রীর কানে তার কথা ঢুকলো কিনা বুঝা গেল না এবার মোবারক আলী আরো জোরে চিৎকার করে ডাকলো এই চলে এসো আর ভিজো না হঠাৎ মোমেনা বেগম মোবারক আলীর দিকে ঘাড় ফিরিয়ে দেখলো এবং ততোধিক চিৎকার করে ধমক দিয়ে স্বামীকে বললো যাও এখান থেকে আর একটা কথাও বলবে না যাও বলছি যা ও....।মোবারক আলী স্ত্রীর চোখের দিকে চেয়ে দেখলো সেখানে আগুন ঝরছে সে একদম চুপসে গেলো তেজি বীর পুরুষ এক ধমকেই যেন ভেড়া বনে গেছে সে ধীরে ধীরে পুরো নব্বই কেজি ওজনের মোটা ভুড়িওয়ালা শরীরটা ঘুরিয়ে সিড়িতে পা রাখলো ঘরে ফিরতে।ওদিকে মোমেনা বেগম খিলখিল করে জোরে জোরে হেসে উঠে স্ত্রীর হাসি শুনে মোবারক আলী প্রমাদ গুনলো। সিড়ি দিয়ে নামছে আর ভাবছে মোমেনা পাগল হয়ে গেলে আমার কি হবে কে রেঁধে দেবে কে ইনসুলিন দেবে কে যত্ন করবে হায় হায় আমার কি হবে।

কায়দা করে বেঁচে থাকা.........................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার

কায়দা করে বেঁচে থাকা.........................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার
স্যার শাঁক নিবেন না, নিয়া যান স্যার টাটকা শাঁক,নদীর ঐ পারের,আজ ভোরেই তোলা স্যার।আমি প্রায় প্রতিদিনই শাঁক কিনি এক মধ্য বয়সী লোকের কাছ থেকে কিন্তু এই যুবকটিকে মাত্র ক'দিন ধরে দেখছি। এর কাছ থেকে কিনিনি কখনো পুরনো শাঁক বিক্রেতার কাছ থেকেই কিনি আজ পুরনো লোকটা আসেনি এই যুবকটির ডাকে তাঁর কাছে যাই,বলি দাও দু আঁটি। টাকা দিতে যেয়ে তাঁর দিকে ভালো করে চোখ পড়লো চেনা চেনা লাগছে কিন্তু মনে পড়ছে না। 
লক ডাউনের মধ্যে দোকান পাট সব বন্ধ থাকলেও তরকারির মতো নিত্য প্রয়োজনীয় শাঁক সবজী বিক্রেতার আনাগোনা কম ছিলো না,আমাদের কলোনির মূল গেটের বাইরে সকাল ন'টা পর্যন্ত সব ধরনের তরকারি বিক্রেতার ভিড় লেগেই থাকে এই সময়।প্রায় দুশো পরিবার বসবাস করে কলোনিতে একটি মাত্র মূল গেট দিয়েই আসা যাওয়া ফলে ডিম ডাল মাছ ও প্রায় সব ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী বিক্রেতার ভিড় বেশী,অল্প সময়ে প্রচুর বিক্রির আশায়।জিজ্ঞেস করলাম তোমাকে এখানে এর পূর্বে দেখিনি আগে কোথায় ছিলে?স্যার লকডাউনের আগে গুলিস্তানে শার্টের দোকানে চাকরী করতাম আপনি কি গুলিস্তানে যান কখনো?তার প্রশ্ন।বললাম ওখানে আমার দোকান আছে। তাই নাকি স্যার কোন দোকান?বললাম গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স এ। নাম কি স্যার দোকানের ? দোকানের নাম বললে সে চিনতে পেরে বললো গেঞ্জির দোকান চিনিতো স্যার,দোকানের কর্মচারি শাহীনের সাথে আমার ভালো বন্ধুত্ব।হ স্যার আপনেরেও দেখছি দোকানে, এইবার চিনছি স্যার আপনেরে সবাই মামা কয়।হ্যা বলে জিজ্ঞেস করলাম তোমার নাম কি,বললো আজহার। জিজ্ঞেস করলাম আজহার কোন দোকান তোমার।আমার দোকান নাই স্যার আপনার দোকানের একটু দক্ষিণে ফুটে সাইদুলের দোকানে চাকরী করতাম।
এখনতো দোকান খুলেছে যাও না কেন?স্যার এখন বেচাকেনা নাই আমারে বাদ দিছে সাইদুল ভাই একাই দোকান চালায়।দেখলাম আজহারের সন্মান জ্ঞান বেশ পরিমিত তাঁর মাহাজন সাইদুলকে ভাই সম্বোধন করে বলছে।আচ্ছা কাল আবার আসবো বলে চলে এলাম।পরদিন আবার যখন গেলাম আজাহারকে দেখলাম না অন্য একজনকে জিজ্ঞেস করলে সে বলতে পারলো না।তিনদিন পর আজাহারের দেখা মিললো সে এখন ডিম বিক্রেতা আমায় দেখে বিগলিত হাসি দিয়ে বললো স্যার শাঁক বেইচ্চা পোষায় না তাই ডিমের ব্যবসা শুরু করলাম।বললাম ডিমেতো রিস্ক বেশী ও বললো না স্যার ভোরে ডিমের আড়তেে মহাজনের কাছ থেকে ডিম এনে বিক্রি করি বাকি গুলো মহাজনরে ফেরত দিয়ে দেই এইখানে রিস্ক কম।আমি মাথা নেড়ে সায় দিয়ে চলে আসবো ও বললো স্যার এই কলোনিতে কি ভাড়া থাকেন বললাম না না এলোটি হিসেবেই থাকি,ও আচ্ছা তয় আপনে সরকারি চাকরি করেন?না আমি না আমার স্ত্রী চাকরি করে আমি ব্যবসা করি আজাহার বিনয়ী হাসি দিয়ে বললো স্যার ভাল কাজই করছেন ম্যডাম আর আপনে দুইজনেই ইনকাম করতাছেন ভালোই কায়দা করছেন।আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম তোমার এই ইনকামে চলে? বউ ছেলে মেয়ে আছে না? আছে বউ আর এক বাচ্চা। বউ কিছু করে না স্যার লেখাপড়া না শিখলে কি চাকরি করন যায়! আমি এক ডজন ডিম কিনে ফিরে আসবো এমন সময় সে বললো ঐ যে কইলেন না চলে কিনা, চলে না স্যার খুউব কায়দা করে চালাই,এই লক ডাউনে না খাইয়া মরার অবস্থা হইছিলো ফুট বন্ধ, কবে দোকান খুলবো জানি না কি আর করমু এক চাচার ভ্যান ভাড়া লইয়া শাঁক বেচতে নাইমা পড়ি বাচোনতো লাগবো!এরপরদিন থেকে আজাহারের কোন দেখা নেই।ফোন দিলাম ফোন বন্ধ বেশ বিরক্ত লাগছে ডিম লাগবে এখানে পেলে ভালই হয় নইলে সেই নিউমার্কেটে ভিড়ের মধ্যে যেতে হবে ইদানীং আমার পরিবারে ডিম খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে গেছে বিশেষ করে ইমিউন সিস্টেম বাড়ানো ও ইউটিউব দেখে খাবারের রেসিপির জন্য ডিম বড়ই প্রয়োজনীয়। সেদিন আজাহারের ফোন নাম্বারটা নিয়েছিলাম তাই ফোন করে জানতে চেষ্টা করে বন্ধ দেখে ডিম কিনতে নিউমার্কেটে চললাম।
হাটতে হাটতে আজাহারের কথা ভাবছি কত ধরনের ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছে সে বাঁচার জন্য এই পেন্ডামিকেও প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যে অবধি ঘরের বাইরে থাকতে হচ্ছে। আমার অবস্থাও ভালো নেই দোকানটা প্রায় দেড় মাস বন্ধ কর্মচারিদেরকে আসতে না করেছি এলে ওরা মেসে থাকবে কিছু হলে কে দেখবে তাই,তবুও ওদেরকে কিছুটা হলেও বেতন দিতে হচ্ছে। যদিও আমাদের দুজনের আয়ে ভালোই চলছিল এখন শুধুই আমার স্ত্রীর উপর দিয়ে চলছে তবুও আমরা ভালোই আছি আজাহারের তুলনায়।আজাহারের জন্য উদ্বিগ্নতা এসে ভর করছে।কোথায় গেল সে ভাবতে ভাবতে নিউমার্কেটে যেয়ে কিছু কেনাকাটা করে ফিরে এলাম।
প্রায় দুমাস পর দোকানে যাচ্ছি সিয়াম ও হাসান গত পরশু এসে দোকান খুলেছে শাহিন এখন আসেনি অবশ্য শাহিনকে ফোনে বলেছি যেন না আসে,এখন বেচাকেনা খারাপ নিশ্চিত তিনজনের বেতন দেওয়া সম্ভব না যা বিক্রি হচ্ছে তাতে করে দুজনের বেতনই উঠছে না তিনজনের কিভাবে দেব এমনিতেই শাহীন দীর্ঘদিন কাজ করছে ওর বেতন অনেক বেশী। 
কয়েকদিন পূর্বে নতুন একজনকে নিয়োগ দিয়েছিলাম কিন্তু করোনার কারণে তাকে বিদায় করে দিয়েছি।দোকানে সারাদিন থেকে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরবো এমন সময় দেখি আজাহার দোকানের সামনে, আমাকে দেখে ডান হাত উঁচিয়ে সালাম দিলো তাঁর দু হাতে দেখি অনেক মাস্ক বিনয়ী হাসি দিয়ে বললো স্যার ডিমের ব্যবসা করতে পারলাম না। বললাম কেন? কয়েকদিন আগে পুলিশের গাড়ির লগে লাইগা ভ্যান উল্টাইয়া গিয়া সব ডিম নষ্ট হইয়া গেল মহাজন আর ডিম দিলো না। জিজ্ঞেস করলাম এখন তবে মাস্ক বিক্রি করো?হ স্যার কি করমু! বললাম তোমার বৌ বাচ্চা কেমন আছে? ভাল না স্যার বৌ বাচ্চা দুজনেরই জ্বর ক'দিন ধরে। গলা ব্যাথা আছে? হ গলা ব্যাথা কাশি জ্বর মাথা ব্যাথা সব আছে। মাইয়াটার অবস্থা ভালা না মাইয়াডার দিকে চাইলে মনডা হু হু কইরা উঠে।ডাক্তার দেখাইছো?ডাক্তার দেখানের টেকা পামু কই তয় বাসার পাসের ডিস্পেনসারির কর্মচারিরে কইয়া ওষুধ আনছি। কি ওষুধ দিলো নাম মনে আছে?প্যারাসিটামল,জিম্যাক্স আর কাশির সিরাফ দিছিলো তয় খালি প্যারাসিটামল খাওয়াইছি ওই দুইটা ওষুধ কিননের টাকা ছিলো না তাই কিনি নাই।এখন কি অবস্থা? ভালা না স্যার।বাসা থেকে বের হয়েছো কেন তাড়াতাড়ি বাসায় যাও।আর কয়টা বেচতে পারলে চইলা যামু বাজার করতে হইবো।আমি তাঁর হাতে কিছু টাকা দিয়ে বললাম যাও ওষুধগুলো কিনে নিয়ে তাড়াতাড়ি যাও আর শোন গরম পানি ও লাল চা খেতে দিবে।আচ্ছা স্যার বলে দ্রুত বাসার দিকে চলে গেল আজাহার।পাস থেকে সিয়াম বললো আঙ্কেল ওরে চিনেন নাকি?কদিন আগে চিনলাম আমাদের কলোনির গেটে শাঁক বেচতো বললাম তুমি চিন নাকি?হ্যা চিনি সাইদুলের দোকানে কাজ করতো এখন ওরে না কইরা দিছে,খুবই ভাল পোলা।এখন খুউব কষ্টে বাইচা আছে। আমি হু বলে বাসার দিকে রওনা হলাম মনে মনে ভাবছি এটাকেই কি কায়দা করে বেঁচে থাকা বলে না কি যুদ্ধ বলে! জানিনা।

ক্ষত..............মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার

ক্ষত..............মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার
কুদরতকেএক নজর দেখেই চিনে ফেললো শানু। মেইন রাস্তার ধারে এক লোকের সাথে কথা বলছে। লোকটাকেও চিনতে পারলো, ওতো আসগর ভাই। আসগর ভাই ও তার হাজবেন্ড সাজ্জাদ একই কলেজে পড়ায়।সাজ্জাদ কেমেস্ট্রি , আসগর ভাই ইতিহাসে। তবে আসগার ভাই ভাল কবিতা লেখে। সারাক্ষণ কবিতা আওড়ায়, বিরক্তিকর। মাঝে মাঝে বৌ নিয়ে বাসায় আসে, বৌটা খুউব মিশুক। দীর্ঘক্ষণ কথা বলা যায়, সময় কাটে বেশ। কিন্ত আসগরের সাথে কুদরতের পরিচয় কিভাবে? এই দূরতম বগুড়া জেলা শহরে কিজন্যে এসেছে কুদরত বুঝতে পারলো না শানু। হ্যাঁ সেই অবিকল একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে এক পায়ের উপর ভর দিয়ে, প্রায়শই পা বদল করছে । কথা বলতে বলতে ডান হাত দিয়ে চুল ঠিক করছে বারবার। তবে চুলগুলো অনেকটাই পাকা। ডাই করে সাদা চুল ঢাকার চেষ্টা করেনি একটুও। এটা শানুর ভাল লাগলো। ক্লিন সেভড। নতুন যোগ হয়েছে চশমা, মনে হচ্ছে হাই পাওয়ারের গ্লাস। কথা বলার সময় মিটিমিটি হাসিটা মুখে লেগেই থাকে। এই হাসি দেখেইতো ও পাগল হয়েছিল। কত বছর আগের কথা বিশ থেকে পঁচিশ বছর হবে। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন। সরকারি গার্লস স্কুলে ক্লাশ সেভেনে পড়ে শানু। দারুন দুরন্ত ও ডানপিটে ছিল। কপালেে এখনো দুটো অস্পষ্ট কাটার দাগ রয়ে গেছে। পাড়ায় এমনও দিন ছিলনা যে তার বিরুদ্ধে বাবার কাছে নালিশ যেত না। বাবা তাকে খুউব আদর করতো এজন্যে তার গায়ে কখনো হাত না দিলেও মাঝে মাঝে ভীষন বকতো। তখন চুপটি করে থাকলেও পরদিন যা তাই। শানুর একটা ছোট্ট দল ছিল সাত আট জনের।তারাও ওরকমই ছিল। দল বেধে দুরন্তপনাই ছিল ওদের কর্ম।
এ সময়ই থানা শহর থেকে জেলা শহরে ওদের পাড়ায় এলো কুদরতের পরিবার। কুদরত তখন ক্লাশ নাইনে পড়ে প্রচন্ড মেধাবী ছাত্র। ম্যাথে সে অত্র জেলায় প্রথম। বিজ্ঞান নিয়ে পড়বে তাই জেলা শহরে আসা। বাবা তার নাম রেখেছে বাংলাদেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ কুদরত ই খোদা'র নামানুসারে । মোঃ কুদরত ই খোদা একসময় বড় বিজ্ঞানী হবে এ আশায়। পড়াশুনায় ভাল হলে কি হবে চলাফেরায় একদম অগামগা। সব সময় মাথা নিচু করে চলে আর কি যেন ভাবে। একদিন কুদরত স্কুল থেকে ফেরার পথে শানু ওর পায়ে ল্যাং মেরে ফেলে দিলে পড়ে গিয়ে কুদরতের হাটু ছড়ে যায়। কাঁদতে কাঁদতে শানুকে বলে আপনি আমাকে ফেলে দিলেন কেন? সেই থেকে কুদরতকে দেখলেই শানু বলতো আল্লার কি কুদরত চোখের কোনায় পানি ও ছেলে তুই ছিচ কাদুনি। কুদরতের এস এস সি পরীক্ষার বছর খানেক আগে শানু এ ধরনের কথা বলতেই কুদরত ওকে মারতে তেড়ে এসেছিল। শানু তো অবাক। ও বুঝতে পারেনি যে পাড়ায় বছর খানেকের মধ্যে কুদরত খাপ খাইয়ে নিয়েছে। কিন্তু শানুর ডানপিটে দলের মারমুখী ভঙ্গি দেখে কুদরত পিছিয়ে আসে।
এসএসসি পরীক্ষায় কুদরত বোর্ডে সপ্তম স্থান পায়। তখন তার সেকি নামডাক। এসময় শানু ক্লাশ টেনে পড়ে, অংকে ভীষন কাঁচা। ওর বাবা কুদরতের বাবাকে বললো আপনার ছেলেটি যেন কিছুদিন আমার মেয়েকে অংকটা শিখিয়ে দেয় ছেলেটাকে বুঝিয়ে বলেন কিন্তু। শানুর বাবা প্রভাবশালী বিধায় না করা হয় না কুদরতের। অংক শেখার চেয়ে কুদরতের সাথে গল্প করতো চাইতো বেশী। প্রথম প্রথম রাগ হলেও কিছুদিনের মধ্যে ওদের সম্পর্কটা মধুর হয়ে উঠে। দুজনের এভাবেই কেটে যায় দু’ তিন বছর। কুদরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্সে ভর্তি হয়। ও তখন সেকেন্ড ইয়ারে। শানু এইচএচসি পাশ করে স্থানীয় সরকারী কলেজে ডিগ্রীতে ভর্তি হয়। ক্লাশ শুরুর আগেই ঘটলো দুর্ঘটনা। শানুর বাবা ওর বিয়ে প্রায় পাকা করে ফেলে। পাত্র দেখতেও হেভি হ্যান্ডসাম। তদুপরি বিসিএস ক্যাডারে শিক্ষা বিভাগে একটা কলেজে পড়ায়। সবারই পছন্দ সুতরাং শানু বিয়েটা কোন রকমেই এড়াতে পারলো না। সব ধরনেই যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল। শানু কুদরতের সাথে কিন্তু কুদরত যোগাযোগ করতে পারেনি।গায়ে হলুদের দিন হন্তদন্ত হয়ে শানুকে ডেকে কুদরত জিজ্ঞেস করে কেন তুমি এমনটি করলে? কেন আমাকে জানাওনি? শানুর হাত দুটো ধরে বলে চল আমরা পালিয়ে যাই। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলেই হু হু করে কাঁদতে থাকে। প্লিজ শানু আমাকে শেষ করে দিও না।শানু চুপ করে থেকে খানিক্ষণ পরে বলে, কুদরত এখন আর তা হয় না। সব আয়োজন শেষের পথে তাছাড়া সন্মানেরও বিষয় জড়িত। তুমি আমাকে ভুলে যাও। কুদরত বলে শানু আমি এখন কি করবো বলো।শানু কষ্টটা বুকে চেপে বলে কুদরত, তুমি লেখাপড়া শেষ করে চাকরি বাকরি নাও তারপর বিয়ে করে সংসারি হয়ো। কুদরত হঠাৎ দিশেহারার মত বলে উঠে, ‘শানু তুমি আমাকে শেষ করে দিয়ে ভূল করলে। দেখো আমি কোনদিন তোমাকে ভুলতে দেবনা এই আমাকে। আমাকে চিনতে তুমি ভুল করেছো শানু, আমার ভালবাসাকে অপমান করে ভূল করলে শানু।’ কুদরত চলে যায় ঝড়ের গতিতে শানুর হাতটা ঝটকা দিয়ে ছেড়ে। শানু হাতে প্রচন্ড ব্যাথা পায় তবুও এ ব্যাথা হৃদয়ে ব্যাথার চেয়ে ক্ষুদ্রতম।
শানু উদাস দৃষ্টিতে কুদরতের চলে যাওয়া দেখে আর নীরবে চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় জল গড়ায়। ‘এই শানু ,শানু এই শাহানা’ একটু জোরেই ডাক দেয় সাজ্জাদ । ‘ওদিকে কি দেখছো? দেখো আপেল নেবে না পেয়ারা নেবে?’ একটা ফলের দোকানে রিক্সা থামিয়ে ফল কিনছিলো ওরা। ‘ওদিকটায় দেখ উনি আসগর ভাই না ? শানু চোখের জল লুকোতে চায়। চোখ ওর ঝাপসা হয়ে আসে। আসগর ওদিকে চেয়ে বলে ‘হ্যাঁ তাইতো।’ আসগর আসগর বলে ডাক দেয় সাজ্জাদ। আসগর ওদিকে তাকিয়ে হাত ইশারা করে অপেক্ষা করতে বলে। কুদরত শানুর দিকে তাকায়। শানু ডান দিকে ঘুরে যায় যেন কুদরত ওকে দেখতে না পারে। কিন্তু সাজ্জাদ দেখে ফেলে শানুর চোখে জল।
‘কি হয়েছে চোখে?’ 
‘চোখে কি যেন পড়েছে,’ শানু আঁচল দিয়ে চোখ মোছে। ঢাকার বাস এলে কুদরত ওতে উঠে যায়। কুদরতকে বিদায় জানিয়ে আসগর ওদের কাছে আসে। 
‘কি ব্যাপার স্যার এখানে? ভাবির চোখে কি হয়েছে?’  
‘ওর চোখে পোকা টোকা পড়েছে মনে হয়’। 
আসগর দ্রুত পাশের চায়ের দোকান থেকে এক মগ পানি নিয়ে আসে। চোখে মুখে পানি ছিটা দেয় শানু। সাজ্জাদ জিজ্ঞেস করে ‘ঐ লোকটা কে?’
‘আরে ওকে চিনলেন না স্যার উনিতো বাংলাদেশের নাম করা কবি কুদরত ই খুদা!’ 
শানু হা করে তাকিয়ে থাকে আসগরের মুখের দিকে। মুখ ফসকে বলে উঠে ‘ও এখানে কেন?’ ‘বগুড়াতে একটা সাহিত্যের আসর ছিল উনাকে চিফ গেষ্ট করা হয়েছিল।’ 
‘উনাকে তুমি চেন,’ সাজ্জাদ জিজ্ঞেস করে। 
শানু বলে ‘হ্যা উনি বেশ নাম করা কবি চিনবোনা কেন?’ 
‘ও হ্যাঁ তুমিতো আবার গল্পের বই টই পড়ো।’ 
‘উনিতো বিজ্ঞানের ছাত্র ছিল,’ শানুর প্রশ্ন। 
‘বাহ, তাঁর অনেক খবরই জানেন দেখি,’ আসগর বলে। 
‘এতটুকুই জানি এর বেশি না।’ মনে মনে ভাবে কিছুই জানতাম না এখন জানলাম। বা বিজ্ঞান নিয়ে পড়লে কি কবিতা লেখা যায় না! তা যায় বৈকি। ‘আচ্ছা আসগর ভাই উনি চাকরি বাকরি করেন না?’ ‘তা করেন একটা সরকারি অফিসে। জানেন ভাবী উনার একটা স্যাড ব্যাক আছে। উনি এখনো বিয়ে থা করেনি।’ 
‘বলেন কি কেন?’ 
‘একটা মেয়ের সাথে উনার প্রেম ছিল কিন্তু মেয়েটা অন্যত্র বিয়ে করে, ফলে উনি আর বিয়েই করবে না বলে পণ করে। আরো একটা মজার ঘটনা আছে।’ 
‘কি সেটা?’ 
‘উনি সারাদিন হেড ফোনে একটি মাত্র গানই শোনেন।’ 
‘কোন গানটি?’ শানু জিজ্ঞেস করে।’ 
‘ঐ যে 'যেটুকু সময় তুমি থাক কাছে মনে হয় এদেহে প্রান আছে বাকিটা সময় শুধু মরন আমার, হৃদয় জুড়ে নামে অথৈ আধার।' 
‘কেন শুধু এ গানটিই শোনে?’ 
‘উনি যাকে ভালবাসতো সেই মেয়টির নাকি এই গানটি ভাল লাগতো।’ 
আর সহ্য করতে পারছে না শানু। বুকের মধ্যে হু হু করে উঠে।সাজ্জাদকে বলে, ‘চলোতো আমার চোখ জালা করছে। তাছাড়া ছেলে মেয়ে দুটোরই পরীক্ষা।’ 
‘ওরা যেন কি পরীক্ষা দিবে ভাবী’, আসগরের প্রশ্ন। 
শানু উত্তর দিতে পারে না, কান্না ঠেকাতে পারছে না, শাড়ীর আঁচলে চোখ মোছার ভান করে।  উত্তরটা সাজ্জাদই দেয়। মেয়েটা এইচ এস সি, ছেলেটা এসএসসি। বাসায় এসো আসগর,’ বলেই ওরা রিক্সায় উঠে বসে। বাসায় এসেই সোজা ওয়াশ রুমে ঢুকে যায় শানু। ট্যাপ ছাড়ে ফুল স্পিডে তারপর ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকে, কান্নার দাপটে গলার ভিতর থেকে শুধু ঘড় ঘড় শব্দ বের হয়। যখন কান্নার ঝড় থেমে যায় তখন বেসিনের আয়নায় নিজেকে নিজেই বলে, ‘কিরে শাহানা খাতুন শানু তুই ঠিকই হেরে গেলি। কুদরত তোকে কিছুই ভূলতে দিলো না। তোর হৃদয় মাঝে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তা কোনদিন কি মুছবে?  কোনদিনই মুছবে না।।’

শূন্যতা........................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

শূন্যতা........................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

ই তরী শুনছো চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেতনও একদম খারাপ না তাহলে আমাদের বিয়ে কেউ আটকাতে পারবে না কি বলো! তানভির অবাক বিশ্ময়ে তরীর দিকে চেয়ে আছে বুঝতে পারছে না চাকরির কথাটা শুনেও তরী কিভাবে নির্বিকার থাকছে আবার ডাকলো এই তরী কি হলো শুনছো না?
তরী ঘাড় কাত করে তানভিরের দিকে চেয়ে মুচকি হেসে বললো স্যালারী কত?
শুরুতেই পঁচিশ পরে আরো বাড়বে।
না চলবে না এমনিতেই প্রমিনেন্ট কোম্পানি না তার উপর স্যালারী এত কম চলবে কিভাবে বিয়ে হবে না।
কথা শুনে তানভির খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললো তাহলে!
তানভিরের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে তরী বলে তাহলে আমাকেও চাকরি করতে হবে।
কিন্তু তোমার তো সবে মাত্র অনার্সের রেজাল্ট বের হলো কবে চাকরি পাবে আর কবে হবে বিয়ে।
এইতো হয়ে যাবে বলে হাসলো তরী। এই আমি উঠছি বলেই তরী বিদায় নিয়ে চলে গেল।
তানভির ভাবছে এপ্রিলের পাঁচ তারিখে জয়েনিং ডেট আগে জয়েন করে নিই পরের মাসেই বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলবো তরী তখন না করতে পারবে না।
তানভির মাস্টার্স আর তরী অনার্স কমপ্লিট করেছে। একে অপরকে পাগলের মত ভালবাসে বিয়েটাও সেরে ফেলবে এমন সময় করোনার জন্য সরকার লক ডাউন করে দিল সমগ্র দেশ, তানভির ফোন দিয়ে তরীকে ডেকে আনলো ক্যাম্পাসে কতদিন দেখা হবেনা তাই তরীও চলে এলো। তুমিতো গ্রামে চলে যাচ্ছো তাইনা তানভিরের জিজ্ঞাসা।
হ্যা, হল বন্ধ করে দিয়েছে কাল সকালেই যাচ্ছি। এমন সময় ঘটনাটা ঘটলো যে সব ভজঘট হয়ে গেল। আরে কয়েকটা দিনইতো এরপর সব ঠিক হয়ে যাবে।ক্যাম্পাস নীরব হয়ে গেছে দু'চার জন ছেলে মেয়ে আছে তাও কাল থেকে কেউ থাকবে না পরুশু থেকে সরকার সব বন্ধ করে দিবে।
হলের সামনে কাঠ বাদাম গাছের নিচে ওরা দাড়িয়ে,কেমন ভয় ভয় লাগছে তরীর।ঠিকাছে তানু চলি গোছগাছ করতে হবে আর তুমিও যাও রাস্তাঘাট ফাঁকা ফাঁকা হয়ে গেছে বলেই তরী বিদায় নিতেই তানভির তরীর হাতটা ধরে মুচকি হাসি দিয়ে বললো এই একটা আবদার রাখবে?
কি বলো? তোমাকে একটা কিস দিবো কতদিন পর দেখা হবেতো তাই।
এ্যাই ফাজলাম বাদ দাও বিয়ের আগে এগুলো আমার পছন্দ নয়।
আরে পাগলী আমিতো কখনোই এরকম আবদার করিনি আজ কেন যেন ইচ্ছে করছে।
শোন পাগলা বিয়ের পর সব হবে বিয়ের আগে কিছুই নয় জানোনা বিয়ের আগে খুল্লাম প্রেম করলে বিয়ের পর হবে শুধুই ঝগড়া বলেই তানভিরের ডান হাতটা তরীর দুই হাতের মাঝে নিয়ে একটু চাপ দিয়ে ফিরে গেল,হলে যাবার সময় বললো ফোনে কথা হবে জান।
তানভির ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো তরীর গমন পথের দিকে।
লক ডাউনের পর তানভির ব্যস্ত হয়ে গেল অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য। ওদের একটা সংগঠন আছে ওরা অসহায় ছাত্র ছাত্রীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করে। এই দুঃসময়ে অনেক ছাত্র ছাত্রী গ্রামে যেতে পারেনি তারা কেউ কেউ টিউশনি করে চলতো এখন সেটাও বন্ধ বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা পাঠানোর মত অবস্থাও নেই মুলতঃ তাদেরকে সহায়তা দিচ্ছে এই সংগঠন। এরা মুলত নিজস্ব এলাকার ধনীক শ্রেণীর লোকদের থেকে চাঁদা তুলে একাজ করছে এই সংগঠনের নেতৃস্থানীয় তানভির যার কারণে সে গ্রামে যেতে পারেনি।করোনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সরকারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে কিন্তু দারিদ্র্যতা ও খাদ্যাভাব মানুষকে বড় অসহায় করে তোলে ফলে বাজারে ভিড় লেগেই আছে করোনার সংক্রমণ বেড়েই যাচ্ছে। তানভিরদের টিম নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।একদিন তানভির নিজেই করোনায় আক্রান্ত হলো সে একটা ম্যাচ বাড়িতে ভাড়া থাকে সেখানেই একরুমে একা আইসোলেশন ঘরবন্দী হলো।একটু জ্বরজ্বর হলেই টেস্ট করাতেই পজেটিভ ধরা পড়ে আর এভাবেই একা একা ঘরে থাকে সে কাউকে জানতে দেয় না এমনকি তরীকেও জানায় না। ফোনে তরীর সাথে স্বাভাবিক কথাবার্তা বলে শুধু তার টিমের বন্ধুরা জানে তাদেরকেও নিষেধ করে দিয়েছে কাউকে কিছু না বলতে।
হঠাৎ একদিন সে ভীষণ অসুস্থ হয়ে গেলে বন্ধুরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখানেই ক'দিন প্রচন্ড শ্বাস কষ্টে ভুগে মারা যায়।ডাক্তাররা আন্তরিক চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারে না। ক'দিন ধরে তরী ফোন করে তানভিরকে পায় না মনে মনে রেগে যায়,না ফোন আর করবো না সিদ্ধান্ত নিয়েও আবার ফোন করে কিন্তু কোন উত্তর পায় না।কয়েকদিন পর তানভিরের ফোন থেকে কল এলে তরী অভিমানে কল ধরে না এভাবে অনবরত ফোন এলে একসময় ধরেই কেন ফোন করেছো আমাকেতো ভুলেই গেছো কি দরকার ফোন করার ইত্যাদি। ওপাস থেকে একটু পর কান্নার শব্দে তরী বলে ন্যাকামি করো কেন ফিসফিস করে ওপাস থেকে একটা পুরুষ কণ্ঠ বলে তরী আমি আনান
সম্বিত ফিরে পায় তরী, আনান ভাই তানভির কোথায় আপনি কেন তানভিরের ফোনে?আপনি কাঁদছেন কেন কি হয়েছে তানভিরের? নানা প্রশ্নে জর্জরিত করে তোলে আনানকে।
আনান হাউ হাউ করে কেঁদে উঠে অস্ফুট কণ্ঠে আনান বলে তরী তানভির আর নেই, ওপাস থেকে ধপ করে একটা শব্দ শুনতে পেল আনান এরপর হ্যালো হ্যালো করে অনেকবার চেষ্টা করেও তরীর কথা শুনতে পায় না আনান। এই লকডাউনে এমন কতযে ঘটনা কতরকমের ঘটনা ঘটেছে তার হিসেব কেউ কি রাখবে।কত প্রেম মরে গেছে কত বিয়ে ভেঙে গেছে কত জীবন চলে গেছে কেইবা তা মনে রাখে।।