Showing posts with label মুশফিকুর রহমান আবীর. Show all posts
Showing posts with label মুশফিকুর রহমান আবীর. Show all posts

চিরবসন্ত........মুশফিকুর রহমান আবীর

চিরবসন্ত........মুশফিকুর রহমান আবীর

মানুষের সম্পর্কগুলো অনেকটা ফুটন্ত গোলাপের মতো। গোলাপ দূর থেকে তার স্বজীবতার চিরন্তন নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু মানুষ সেই সৌন্দর্যের আলিঙ্গন লাভ করার জন্যে গাছ থেকে সংগ্রহ করে প্রসাদময়  অট্টালিকার সবচেয়ে সুন্দর ফুলদানিতে গোলাপটিকে স্থান দেয়। তাতে গোলাপটির সৌন্দর্য যেন আরো বৃদ্ধি পায়। গোলাপটির সৌন্দর্য দেখে তার উপর ভ্রমর এসে বিচরণ করে।

এতো কিছু দেখে মানুষ তখন ভাবতে শুরু করে গোলাপটিকে গাছ থেকে তার আরো আগে এই ফুলদানিতে রাখা উচিত ছিলো।  আহ!  কি না ভুল করে ফেলেছে সে!

পর দিন তারা দেখতে পায় ফুলটি একটু মলিন হয়ে পড়েছে হঠাৎ করে। কালকের মতো আজ আর ভ্রমররা গোলাপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেনি। পরের দিন দেখলো ফুলদানির সব সুন্দর জিনিস গুলোকে গোলাপটি কেমন যেনো বিবর্ণ করে রেখেছে। পরের দিন গোলাপটির পাতা গুলো শুকিয়ে মাটিতে পরে গিয়ে ফুলদানিটা সহো আসে পাশের জায়গাটা ময়লা করে দিতেছে। তখন মানুষ ভাবে এই সুন্দর ফুলদানিটার ভিতোর এই গোলাপটা রাখলে ফুলদানিটা অসুন্দর হয়ে যাচ্ছে। তাই তাকে ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। গোলাপটা যেনো সময় যাওয়ার সাথে সাথে তার সব সৌন্দর্য হারিয়ে আজ তার আশেপাশের সব সৌন্দর্যের জন্যে বিশাদময় হয়ে উঠেছে।


মানুষে মানুষে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তার সম্পর্ক গুলোও যেনো একই সূত্রে গাঁথা।  সম্পর্ক গুলোতে আপনজনদের সন্নিকটে পাওয়াটা অনেক বেশি মধুর মনে হয়।একটা সময় যখন সে তাদের সান্নিধ্য লাভ করে এবং ভাবতে থাকে, কতো না ভালো হতো, যদি এই কাছের মানুষগুলোকে আগে কাছে পাওয়া যেতো। তখন নিজেকে পৃথিবীর সবথেকে খুশি মানুষ মনে হয় আপন ভালোবাসার মানুষগুলোকে কাছে পাওয়ার জন্যে। মনে হয় এই সুখ যেনো চিরস্থায়ী, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও এ ভ্রাতৃত্ব ভালোবাসার বন্ধন যেনো শেষ হওয়ার নয়।


কিন্তু মানুষের স্বভাব এমনই যে, তুমি যদি তোমার ভালোবাসা, ভাতৃত্বের বন্ধনের  দুয়ার ভালোবাসার মানুষগুলোর জন্যে যতটুকু উন্মোচিত করবে, তারা তোমাকে দিন যাওয়ার সাথে সাথে ঠিক ততোটুকুই বা হয়তো তার চেয়ে বেশি তোমাকে হেয়ো করবে। ভালোবাসার প্রতিদানে তারা কষ্ট, হিংসা,গৃণা, অবহেলা, তাচ্ছিল্যতা ছাড়া আর কিছুই দিবে না। 


সময় যাওয়ার সাথে সাথে এই পরিচিত মানুষগুলোই যেনো খুব অপরিচিত হয়ে পড়ে। কাছের সবাইকে পেয়েও যেন নিঃসঙ্গ দ্বীপের কোনো এক বাসিন্দা হয়ে পড়তে হয়।  আজ তারাই যেন তোমাকে সব থেকে একা করে দিয়েছে। কাছে আসার জন্যে আজ তারা সবচেয়ে দুরে চলে গিয়েছে। শেষ পান্তে এসে মানুষ গুলোর সাথে  সম্পর্কটায় তিক্ততা ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকে না। মনে হয় তখন,

সম্পর্কটা তো দুর থেকে চিরস্থায়ী মধুর ছিলো। তখন তো সম্পর্কের ভিতর কোনো তিক্ততা ছিলো না। সবাই থেকেও আজ যেনো তুমি একা কোনো এক জনসমুদ্রের মাঝখানে। 


মানুষকে বিশ্বাস আর ভালোবাসলেই মানুষ সে বিশ্বাস আর ভালোবাসার অমর্যাদা, অবহেলা করবেই। এটাই মানুষের আসল পরিচয়।

জননী মহীয়সি..............................মুশফিকুর রহমান আবীর

জননী মহীয়সি..............................মুশফিকুর রহমান আবীর
মানুষ শব্দটি আমরা যদি বলতে চেষ্টা করি তাহলে সবার আগে একটি শব্দই আসবে মা তারপরে নুষ। মা শব্দটি ব্যতীত যেমনভাবে মানুষ শব্দটির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তেমনভাবেই প্রার্থীব জগতেও মায়ের অস্তিত্ববাদে সন্তান তার নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধে কেবলই এক রিক্তহস্ত কাঙালি বলেই প্রতীয়মান হয়ে পড়বে।
মহাকাশের বিশালতা যেমনিভাবে মানুষের কাছে কল্পনাতীত, তেমনি ভাবে মায়ের ভালোবাসা, মহত্ব সাধারণ মানুষ তার ক্ষুদ্র বিচার-বুদ্ধি দারা সম্পূর্ণ অনুধাবন করা অসম্ভব। সে জ্ঞান অনুধাবনের ক্ষেত্রে আমি কেবলি একটি পদ্ম পাতার উপরে এক বিন্দু শিশির কণার সরুপ।
এই পৃথিবীতে যদি কোন মানুষের মনের কঠোরতার পরীক্ষা নেয়া হতো, তাহলে সেই পরীক্ষায় মা জাতী বিনা দ্বিধায় জয়লাভ করতে পরবে। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে একজন মায়ের কাছ থেকে শিখতে পারা যায় নিজের আত্মত্যাগের সদৃশ্য। বাবা-মায়ের সুখের কথা চিন্তা করে নিজের অস্তিত্ব, নিজের ভয় কে পিছনে ফেলে চলে যেতে হয় অচেনা এক ঠিকানায় চিরতরে। কাছের মানুষগুলোর কাছ থেকে চিরতরে পর হয়ে স্বামীর সংসারের প্রতিটি মানুষের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার নতুন যুদ্ধে নিজেকে সমর্পণ করতে হয়। বিয়ের পর তার নতুন জগৎ, নতুন পরিজনকে আপন করে নেওয়ার কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে জীবন তরী পরিচালিত হয়। যে জননী নতুন এই জীবন যুদ্ধে নিজের সর্বস্ব অকাতরে বিলিন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে হার মনতে বাধ্য হয় , সেইতো শিকার হয় স্বামীর কঠোর অত্যাচার ও মানসিক পীড়নে, হতে হয় শাশুড়ির চোখের বালি আর বাড়ির একমাত্র আদরের ননদের পরনিন্দা করার উপকরণ। আর যে মাতা তার নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত এ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাই কেবল সেই হয়ে ওঠে আমাদের সমাজের কথিত আদর্শ গৃহিণী। যার নিজের কোনো ভালো লাগা নেই, নিজের কোনো ইচ্ছা নেই। শুধুমাত্র পরিবারের সুখের জন্য নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করা দাসি সদৃশ্য কথিত গৃহিণী মাত্র।
শত ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য পেরিয়ে একদিন সেই নারী তার শরীরে সন্তান ধারণ করে। প্রতিটি মায়ের কাছে তার সন্তান শুপ্ত সত্য সপ্নের মতো বিরাজ করে। দিনের পর দিন একটি স্বপ্ন দেখেয় নিজের সন্তানকে স্নাহাডোরে তিল তিল করে বড় করে তোলে,সন্তান একদিন মানুষের মত মানুষ হয়ে তার ক্লান্ত জীবনের শেষ সম্বলটুকু হবে এই আশাই। সন্তান ও পরিবারের সুখের চিন্তা করে নিজের সর্বস্ব আত্মত্যাগের মাধ্যমে একজন মাতা হয়ে ওঠে মমতাময়ী মহীয়সী। একজন নারীর ভিতর কেবল মাত্র মায়া মমত্ব বিরজ করলেই একজন মাতার মহিমার সমকক্ষ হতে পারে।
পৃথিবীতে সেই জাতির সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যে জাতি নিজের মা কে সম্মান দিতে জানে না। যে সন্তান তার পরিবারের সদস্যদের কুটিলতার কথা শুনে নিজের জন্মদাত্রী মাকে নিজের বাড়িতে রাখতে পারে না অথচ দশ মাস দশ দিন অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করেও মাতা তাকে পরম যত্নে আগলে রেখেছিল, তার চেয়ে বড় হতভাগ্য এবং নিকৃষ্ট মানুষ দুনিয়াতে আর হয় না। যে ব্যক্তির নিজের মায়ের সম্মান যথাযথ দিতে পারে না, সে ব্যক্তি দেশমাতার ক্ষতিসাধন করতে সামান্য পরিমাণ দ্বিধাবোধ করবে না। তার মানসিকতা পশুর থেকেও নিকৃষ্ট পরিগণিত হবে। নারী জাতিকে সম্মান করা ব্যতীত সমাজের প্রকৃত সুখ শান্তি মরীচিকার মত প্রতীয়মান হবে। সেই জাতি পিছিয়ে পরে,যে জাতি নারী জাতিকে সম্মান দিতে জানে না। সন্তান মাতার প্রতি বর্বরতা দেখাতে পারলেও, মাতা কখনো তার সন্তানের প্রতি নিষ্ঠুর হতে পারে না। 
কেবল মাতৃত্ব থেকে একজন নারী তখনই সরে আসে যখন তার সাধারন মমতাময়ী স্বভাবের পরিবর্তন ঘটে। নারিতো কেবল তার মমতাময়ী স্বভাবের জন্য সমাজের সকলের কাছে মহীয়সী। সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে যদি সেই নারী তার সকল মায়া মমতা বোধ বিসর্জন দিয়ে নিকৃষ্টতাই পর্যবসিত হয়, তাহলে তার থেকে কষ্টকর -সমাজের কাছে আর কিছু হতে পারে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন ঘটেছে। নারী তার অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে তার প্রকৃত স্বভাব থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে। শালীনতা, মমতাময়ী, মহীয়সী মাতার পরিচয় বহন করে। কিন্তু বর্তমানে সমাজের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে নারীরা তাদের শালীনতা আধুনিকতার কাছে বিসর্জন দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে দিনের পর দিন নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে চলেছে।
নারী আমার মায়ের জাতি । তার যেমন চাওয়া থাকে সমাজে সর্বোচ্চ সম্মান নিয়ে নিজের জীবনটাকে রঙীন করতে। তার থেকেও বেশি চাওয়া থাকে সমাজের অন্যদের যেনো মায়ের জাতির সমতুল্য সম্মানের বাতায়ন থেকে সে নারীর মমতাময়ী সভাবের এমন কোন পরিবর্তন না হয় যেনো সেই নারীকে নিকৃষ্ট পশুর সমতুল্য মনে করতে হয়।
নারী তুমি আমার দেশ মাতার মমতা লালন করো নিজের ভিতর । তবেই তুমি হবে মমতাময়ী মহীয়সী।

স্বার্থই সকল স্বার্থকতা..................মুশফিকুর রহমান আবীর

স্বার্থই সকল স্বার্থকতা..................মুশফিকুর রহমান আবীর

পৃথিবীতে প্রতিটি সার্থকতার পিছনে স্বার্থই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। পৃথিবীতে কোন কাজই নিঃস্বার্থভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, তেমনিভাবে প্রতিটি ভালোবাসার পিছনে স্বার্থই মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

ক্ষনিকের সুখ......................মুশফিকুর রহমান আবীর (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

ক্ষনিকের সুখ......................মুশফিকুর রহমান আবীর (ঈদ সংখ্যা ২০২০)
মুদ্রে অবস্থানরত পিপাসার্ত ব্যক্তি, যদি তার পিপাসা মেটানোর জন্য সমুদ্রের পানি পান করে থাকে তাহলে সেই পানি কখনোই তার তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে না। বরং তা তার পিপাসার্ততা বাড়িয়ে দেয়। এমনিভাবে মানুষের লোভ লালসাও কখনো তাকে সত্যিকারের সুখের সন্ধান দিতে পারে না।
নেশার সমুদ্রে বিচরণ করা ব্যক্তি, কখন যে নেশার সমুদ্রের নিমজ্জিত হয়ে পড়ে তা সে নিজেই উপলব্ধি করতে পারে না। নিজের কষ্ট লাঘবের আশায় সে বরংবার নেশা করতেই থাকে। কিন্তু সেটা তার কষ্ট বাড়ানো ছাড়া কমাতে পারেনা। ক্ষনিকের স্বর্গতুল্য সুখের জন্য সে তার স্বর্ণ-মন্ডিত ভবিষ্যতকে নেশার পাণে বিসর্জন দেয়।

শত কষ্ট স্বীকার করে, নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে তিল তিল করে নিজের সামান্য সম্পদ যদি কেউ অন্যায় ভাবে চুরি করে বা ছিনিয়ে নেওয়াটা এ দুনিয়ায় সবচেয়ে পাপের কাজ। অন্যের সম্পদ আত্মসাত করে বা অন্যের সম্মান নিষ্পেষিত করে সুখের আকাশচুম্বী অট্টালিকা তৈরি করা অনেকটা তাসের ঘর বানানোর মাধ্যমে নিজের কবর নিজে খোড়ার মত অবস্থা হয়।মানুষকে দেওয়া কষ্ট গুলো লোভে বশীভূত ব্যক্তির জীবনে চোরাবালির সাদৃশ্যতা ধারন করে। আত্মসাত করা মানুষের আকাশচুম্বী অট্টালিকা কিংবা দামি মার্সিডিজ গাড়ি মরীচিকার মত তার মরুভূমিময় জীবন থেকে হারিয়ে যায় তা সে কল্পনাও করতে পারে না।

রাস্তায় ভবঘুরে কুকুরটিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারার ক্ষণিকের সুখ অর্জনকারী লোকটির ছেলে কখন যে বড় হয়ে তার বৃদ্ধ বাবাকে পেটানো শুরু করে তাও তার কল্পনা অতীত।

নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রীপ্রাপ্ত সরকারি কর্পোরেট অফিসার যখন তার সামান্য স্বাক্ষরের জন্য সামান্য স্বল্প বেতনের চাকরি করা কেরানির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করে, তখন তার আদরের রাজকন্যার জুয়াখোর স্বামী যৌতুকের আশায় তার গোলাপী মুখে, গলায় পাঁচ আঙুলের দাগ বসিয়ে দেয় তা সে ভাবতেও পারে না।
তাই দীর্ঘস্থায়ী সুখের জন্য নিজের ক্ষণস্থায়ী অন্যায়ভাবে প্রাপ্ত সুখ বিসর্জন দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।