এটা একটা স্বপ্নে পাওয়া গল্প.....
প্রচন্ড জ্বরের ঘোরে এই গল্পটা আমার মাথায় চলে আসে গভীর রাতে,
জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে বারবারই গল্পটা ঘোরে মাথার ভেতর,
তাই সকালে উঠেই লিখতে বসে গেলাম জ্বর উপেক্ষা করে।
লক্ষ কোটি বছর আগে মহাশূন্য ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। ছিলনা পৃথিবী বা গ্যালাক্সি বা কোন গ্রহ নক্ষত্র। ছিল শুধু স্বর্গ নরক আর ইশ্বর। যেহেতু কোন গ্রহ নেই তাই কোন প্রানের অস্তিত্বও ছিলনা কোথাও। শত শত কোটি বছর ধরে স্বর্গ নরক নিয়ে কাজ করতে করতে ইশ্বরের ঘুম পায়। কিন্তু সে কি সম্ভব? এতো দায়িত্ব ফেলে কি ঘুম দেয়া যাবে? ইশ্বর বসে বসে ভাবতে লাগলেন কি করা যায়। এদিকে তার চোখ ঘুমে ঢুলঢুল করছে। কোন উপায় না দেশে তিনি এক বুদ্ধি বের করলেন। তার এক সমকক্ষ তৈরি করতে হবে যে তার ঘুমের সময় তার হয়ে দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু আরেকটা ইশ্বর বানালে সে যদি আবার ঘুমের মূহুর্তে সব দখল করে বসে? এই চিন্তাও তার মাথায় ঘুরতে লাগলো। শেষ মেষ ভেবে চিন্তে তিনি তার ক্ষমতা দিয়ে এক শিয়াল তৈরি করলেন। সেই শিয়ালকে নিজের সব ক্ষমতা দান করলেন। ঘুমের সময় এই শিয়াল তার হয়ে স্বর্গ নরক সব দেখা শোনা করবে। সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত দিলেন না ইশ্বর, শিয়ালটাকে অন্ধ করে দিলেন যেন কোন কুবুদ্ধি তার মাথায় না আসে। আর আসলেও অন্ধত্বের কারনে সে কিছুই করতে পারবেনা।
অন্ধ শিয়ালকে স্বর্গের বাগানে বেঁধে রেখে ইশ্বর চললেন ঘুমোতে। এদিকে অন্ধ শিয়াল কোটি কোটি বছর ধরে স্বর্গ নরক পাহারা দিতে লাগলো। বিরক্তি কি জিনিষ সেটা ইশ্বর তার ভেতর দেননি বলে সে নিশ্চিতে কাজ করতে থাকে। কিন্তু একটা সমস্যা দেখা দেয়। স্বর্গের বাগান থেকে কিসের গন্ধ যেন তার নাকে আসতে থাকে। এমনই মোহনীয় গন্ধ যে সে খোঁজার চেষ্টা করে কিন্তু অন্ধত্বের কারনে বারবারই ব্যর্থ হয়। নাক তো আর চোখের কাজ করতে পারেনা। কোথায় এমন মোহনীয় গন্ধের উৎস আছে সেটা বের করতে পারেনা বেচারা ক্ষমতাবান শিয়াল। কয়েক কোটি বছর অপেক্ষা করার পর শিয়াল একটা সিদ্ধান্ত নেয়। সে তার ক্ষমতা খাটিয়ে গন্ধের উৎসকে তার সামনে আসার হুকুম করে। আর তখনই কি যেন তার নাকের সামনে দুড়ুম করে পড়ে। চমকে ওঠে শিয়াল। মোহনীয় গন্ধটা একেবারে নাকের সামনে চলে এসেছে এবার। মনে হচ্ছে সুস্বাদু কোন ফল টল হবে। শিয়াল নাক দিয়ে গন্ধের উৎসটাকে খোঁজার চেষ্টা করে। তার নাক পড়ে ডুমো ডুমো কিছুর ওপর। ধারালো কোন কিছু। ভেতর থেকে সুস্বাদু ফলের গন্ধ তাকে পাগল করে দেয়। কিন্তু ফলের ওপরের প্রান্ত ধারালো শক্ত শক্ত কিছুর তৈরী যেকারনে তার দাঁতও বসতে চাইছে না। কয়েকবার চেষ্টা করার পরও ফলটা ভাঙতে ব্যর্থ হয় শিয়াল। আর সেই কারনে প্রচন্ড রেগে যায় ইশ্বরের ক্ষমতায় তৈরী শিয়াল। রেগে গিয়ে সে ফলটাতে সজোরে লাথি মারে। আর বেচারা কাঁঠাল শিয়ালের এক লাথিতে স্বর্গের বাগান টপকে চলে যায় মহাশুন্যে। আর বিদীর্ন হয়ে তার কোষগুলো ছিটকে বেরিয়ে পড়ে, আর একটি আরেকটির কাছ থেকে সরে যেতে থাকে মহাশূন্যের অন্ধকারে। এভাবে কোটি কোটি বছর ধরে কাঁঠালের কোষগুলো মহাশূন্যে ঘুরপাক খেতে থাকে। একসময় সেগুলো পচে যায় এবং সেখানে জন্ম নেয় সবুজ ছত্রাক। সেই সবুজ ছত্রাক থেকে জন্ম নেয় পোকা। সেই পোকার পর আসে নানা ধরনের প্রানী, টিকটিকি, গিরগিটি, সাপ, ব্যাঙ, কুমির, ডায়নোসর এবং সবশেষে মানুষ নামের ভয়ংকর এক দানব। এই দানব এসে পশুপাখি মেরে খেতে থাকে, একে অন্যের সাথে ঝগড়া বিবাদ খুনোখুনিতে লিপ্ত হয়, কেটে ফেলে গাছ গাছালি, পাহাড়। নিজেদের সেরা সৃষ্টি বলে প্রচার করতে থাকে। শক্তিশালী মানুষ দুর্বল প্রজাতীর মানুষদের ওপর নির্যাতন চালায়। দুর্বল প্রজাতীর মানুষরা দলে দলে ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে থাকে বাঁচার জন্য। কিন্তু ওদিকে ইশ্বর তো ঘুমিয়ে কাদা। তার নাক ডাকার শব্দে কাঁপছে স্বর্গ নরক। মানুষ তাকে ডাকতেই থাকে সুবিচার পাওয়ার জন্য, পশুকুলও মানুষের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রার্থনা করতে থাকে ইশ্বরের কাছে। কারো ডাকেরই জবাব দেননা ইশ্বর। কোটি কোটি বছর ধরে তিনি ঘুমোচ্ছেন আর ঘুমোচ্ছেন। আর তাই পৃথিবীতে এতো হিংসা বিদ্বেষ মারামারি সংঘাত হত্যা ধর্ষন আর অনাচার। বিচার করবেন যিনি তার ঘুম ভাঙার প্রত্যাশায় তাকিয়ে থাকে সৃষ্টিকূল। কিন্তু ইশ্বরের ঘুম তো ভাঙেনা। যেদিন তার ঘুম ভাঙবে সেদিন হয়ত আমরা তার নিকট থেকে সুবিচার পাবো।
গল্পটি একেবারে স্বরচিত। কোন বিদেশী গল্পের অনুবাদ বা ছায়া অবলম্বন নয়।