Showing posts with label অনুগল্প. Show all posts
Showing posts with label অনুগল্প. Show all posts

শেয়াল ও ইশ্বরের ঘুম.................তুহিন রহমান

শেয়াল ও ইশ্বরের ঘুম.................তুহিন রহমান
এটা একটা স্বপ্নে পাওয়া গল্প..... 
প্রচন্ড জ্বরের ঘোরে এই গল্পটা আমার মাথায় চলে আসে গভীর রাতে,
জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে বারবারই গল্পটা  ঘোরে মাথার ভেতর,
তাই সকালে উঠেই লিখতে বসে গেলাম জ্বর উপেক্ষা করে।

ক্ষ কোটি বছর আগে মহাশূন্য ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। ছিলনা পৃথিবী বা গ্যালাক্সি বা কোন গ্রহ নক্ষত্র। ছিল শুধু স্বর্গ নরক আর ইশ্বর। যেহেতু কোন গ্রহ নেই তাই কোন প্রানের অস্তিত্বও ছিলনা কোথাও। শত শত কোটি বছর ধরে স্বর্গ নরক নিয়ে কাজ করতে করতে ইশ্বরের ঘুম পায়। কিন্তু সে কি সম্ভব? এতো দায়িত্ব ফেলে কি ঘুম দেয়া যাবে? ইশ্বর বসে বসে ভাবতে লাগলেন কি করা যায়। এদিকে তার চোখ ঘুমে ঢুলঢুল করছে। কোন উপায় না দেশে তিনি এক বুদ্ধি বের করলেন। তার এক সমকক্ষ তৈরি করতে হবে যে তার ঘুমের সময় তার হয়ে দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু আরেকটা ইশ্বর বানালে সে যদি আবার ঘুমের মূহুর্তে সব দখল করে বসে? এই চিন্তাও তার মাথায় ঘুরতে লাগলো। শেষ মেষ ভেবে চিন্তে তিনি তার ক্ষমতা দিয়ে এক শিয়াল তৈরি করলেন। সেই শিয়ালকে নিজের সব ক্ষমতা দান করলেন। ঘুমের সময় এই শিয়াল তার হয়ে স্বর্গ নরক সব দেখা শোনা করবে। সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত দিলেন না ইশ্বর, শিয়ালটাকে অন্ধ করে দিলেন যেন কোন কুবুদ্ধি তার মাথায় না আসে। আর আসলেও অন্ধত্বের কারনে সে কিছুই করতে পারবেনা।

অন্ধ শিয়ালকে স্বর্গের বাগানে বেঁধে রেখে ইশ্বর চললেন ঘুমোতে। এদিকে অন্ধ শিয়াল কোটি কোটি বছর ধরে স্বর্গ নরক পাহারা দিতে লাগলো। বিরক্তি কি জিনিষ সেটা ইশ্বর তার ভেতর দেননি বলে সে নিশ্চিতে কাজ করতে থাকে। কিন্তু একটা সমস্যা দেখা দেয়। স্বর্গের বাগান থেকে কিসের গন্ধ যেন তার নাকে আসতে থাকে। এমনই মোহনীয় গন্ধ যে সে খোঁজার চেষ্টা করে কিন্তু অন্ধত্বের কারনে বারবারই ব্যর্থ হয়। নাক তো আর চোখের কাজ করতে পারেনা। কোথায় এমন মোহনীয় গন্ধের উৎস আছে সেটা বের করতে পারেনা বেচারা ক্ষমতাবান শিয়াল। কয়েক কোটি বছর অপেক্ষা করার পর শিয়াল একটা সিদ্ধান্ত নেয়। সে তার ক্ষমতা খাটিয়ে গন্ধের উৎসকে তার সামনে আসার হুকুম করে। আর তখনই কি যেন তার নাকের সামনে দুড়ুম করে পড়ে। চমকে ওঠে শিয়াল। মোহনীয় গন্ধটা একেবারে নাকের সামনে চলে এসেছে এবার। মনে হচ্ছে সুস্বাদু কোন ফল টল হবে। শিয়াল নাক দিয়ে গন্ধের উৎসটাকে খোঁজার চেষ্টা করে। তার নাক পড়ে ডুমো ডুমো কিছুর ওপর। ধারালো কোন কিছু। ভেতর থেকে সুস্বাদু ফলের গন্ধ তাকে পাগল করে দেয়। কিন্তু ফলের ওপরের প্রান্ত ধারালো শক্ত শক্ত কিছুর তৈরী যেকারনে তার দাঁতও বসতে চাইছে না। কয়েকবার চেষ্টা করার পরও ফলটা ভাঙতে ব্যর্থ হয় শিয়াল। আর সেই কারনে প্রচন্ড রেগে যায় ইশ্বরের ক্ষমতায় তৈরী শিয়াল। রেগে গিয়ে সে ফলটাতে সজোরে লাথি মারে। আর বেচারা কাঁঠাল শিয়ালের এক লাথিতে স্বর্গের বাগান টপকে চলে যায় মহাশুন্যে। আর বিদীর্ন হয়ে তার কোষগুলো ছিটকে বেরিয়ে পড়ে, আর একটি আরেকটির কাছ থেকে সরে যেতে থাকে মহাশূন্যের অন্ধকারে। এভাবে কোটি কোটি বছর ধরে কাঁঠালের কোষগুলো মহাশূন্যে ঘুরপাক খেতে থাকে। একসময় সেগুলো পচে যায় এবং সেখানে জন্ম নেয় সবুজ ছত্রাক। সেই সবুজ ছত্রাক থেকে জন্ম নেয় পোকা। সেই পোকার পর আসে নানা ধরনের প্রানী, টিকটিকি, গিরগিটি, সাপ, ব্যাঙ, কুমির, ডায়নোসর এবং সবশেষে মানুষ নামের ভয়ংকর এক দানব। এই দানব এসে পশুপাখি মেরে খেতে থাকে, একে অন্যের সাথে ঝগড়া বিবাদ খুনোখুনিতে লিপ্ত হয়, কেটে ফেলে গাছ গাছালি, পাহাড়। নিজেদের সেরা সৃষ্টি বলে প্রচার করতে থাকে। শক্তিশালী মানুষ দুর্বল প্রজাতীর মানুষদের ওপর নির্যাতন চালায়। দুর্বল প্রজাতীর মানুষরা দলে দলে ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে থাকে বাঁচার জন্য। কিন্তু ওদিকে ইশ্বর তো ঘুমিয়ে কাদা। তার নাক ডাকার শব্দে কাঁপছে স্বর্গ নরক। মানুষ তাকে ডাকতেই থাকে সুবিচার পাওয়ার জন্য, পশুকুলও মানুষের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রার্থনা করতে থাকে ইশ্বরের কাছে। কারো ডাকেরই জবাব দেননা ইশ্বর। কোটি কোটি বছর ধরে তিনি ঘুমোচ্ছেন আর ঘুমোচ্ছেন। আর তাই পৃথিবীতে এতো হিংসা বিদ্বেষ মারামারি সংঘাত হত্যা ধর্ষন আর অনাচার। বিচার করবেন যিনি তার ঘুম ভাঙার প্রত্যাশায় তাকিয়ে থাকে সৃষ্টিকূল। কিন্তু ইশ্বরের ঘুম তো ভাঙেনা। যেদিন তার ঘুম ভাঙবে সেদিন হয়ত আমরা তার নিকট থেকে সুবিচার পাবো।

গল্পটি একেবারে স্বরচিত। কোন বিদেশী গল্পের অনুবাদ বা ছায়া অবলম্বন নয়। 

আক্ষেপে কথোপকথোন....................আরিফা সানজিদা

আক্ষেপে কথোপকথোন....................আরিফা সানজিদা
-কিভাবে সময় কাটাচ্ছো ইদানীং? 

-এইতো লেখালিখি,টুকটাক গল্প পড়ি, বইয়ের ভাজে ভবিষ্যৎ খুঁজি, বিকেল বেলায় সূর্যের ডুবে যাওয়া দেখি আর রাতের আধারে বেলকনিতে বসে অন্ধকার দেখি!! আর তোমার তো বেশ যাচ্ছে দিন, বন্ধু বান্ধব হৈ,হুল্লোড় বেশ তো কাটাচ্ছো তাইনা?হাহা সময় পাও এসবের মাঝে নিজের অস্তিত্ব খোঁজার? 

-ভালোই তো হেয়ালি সুরে কথা বলতে শিখেছো দেখছি! কাব্যিক সুরে, তো কাব্যগ্রন্থ বের করলেই তো পার! 

- হাহা! মাঝে মাঝে এমন হেয়ালি হতে হয়, তা না হলে একাকিত্ব কাটানো যায়না! আর হ্যাঁ লিখছি তো আমি। 

- কি লিখো? 

- এইতো দু দন্ড লাইন, অনুভূতিকে শব্দচয়নে রূপান্তর, ঝলসে যাওয়া হৃদয়কে টেনেটুনে বাক্যতে পরিণত করা; এইতো এসব লিখছি! 

- শুনাবে একলাইন? 

- এখন তোমার যাচ্ছে বেশ দিন, ঝলসানো এই পোড়া বুকে কি হবে আর বিলীন! 

শান্ত চোখের চাহনি দিয়ে শীতল করবে কি? 

একটুখানি পাশে বসে দেখো ভেজা আঁখি!! 

- সবখানেই কি আমাকে টেনে আনো? 

- হুম! তোমাকে ছাড়া সবকিছুই যে অপরিপূর্ণ! এই যে আমি নিস্পলকে আকাশ দেখি তার পিছনে রয়েছে তোমার শূন্যতা! 

এই যে আমি কাজল চোখে কান্না লুকাই তার পিছনে তোমার উপেক্ষা, এই যে আমি বইয়ের ভাজে মুখ লুকিয়ে থাকি এর পিছনে ও আছে দূরে যাওয়ার প্রচেষ্টা! কিসে বলবে তুমি নেই? 

- জানো এসব না আমার ভালো লাগেনা, এসব কাব্যিকতা কেবল শুনতেই ভালো লাগে জীবন চলে না এসব দিয়ে। 

- জীবনটা কি খুব বেশি বড়? আমার এই ব্যকুলতা শুনে এক জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়না কি? 

- না যায়না! 

- খুব কঠিন তুমি! 

- জীবন মানুষকে কঠিন করে দেয়! একদিন দেখবে তোমার এ আবেগ থাকবেনা, তখন বুঝবে জীবন কি। 

- হুম জীবন কঠিন মানলাম, আমি কঠিন হব তবে কি রাখা যায়না সেই জীবনে আমাকে পাশে? 

- সবার সবকিছু ভালোলাগেনা! জীবনকে গুছিয়ে নাও আর কতবার বলব তোমাকে। 

- হুম, ঠিক বলছ! সবার সবকিছু ভাললাগেনা! এই যেমন আমাকে তোমার ভাললাগেনা! একজীবনে পাবে এতটা আকুলতা কোথাও? 

- জানিনা! আজ উঠি আমি। 

- যদি না পাও তবে এসো দীর্ঘ আলোকবর্ষের পর কোন এক ক্লান্তি লগন গোধূলির সন্ধ্যায় সেদিন আমি লিখে দেব একখানি আকুলতা প্রেম উপাখ্যান-- দেখো কতকাল কাটিয়েছি তব পথ চেয়ে ঝাপসা চোখে কালি জমে হয়েছে ক্ষীণ, দেখো আজও চিনেছি তোমায়,মন থেকে হওনি এতোটুকু বিলীন! 

জানো সেদিন তোমার অজান্তে তোমারে চোখের কোণে একফোঁটা নোনা জল জমবে! সেদিন বুঝবে আমি ছিলাম কতটা তোমার!! 

- ভালো থেকো! 

-খুব তাড়া? ডাকছে তোমায় আড্ডা- হৈ হুল্লোড়? তবে যাও!ভাল থেকো আদিত্য!

বন্ধু আমার..............................নাজমুল জুবায়ের (সেরা অনুগল্প)

বন্ধু আমার..............................নাজমুল জুবায়ের (সেরা অনুগল্প)

কেমন আছ প্রিয়,

মাত্র ২৪ টা পূর্নিমা তিথিতে তোমার সাথে আমার দেখা হয়েছে কথা হয়েছে। বাকি দিনগুলো আমাবস্যার রাতের মতোই আমার কাছে অন্ধকার ছিল। অন্ধকারে তোমাকে খুজতে খুজতে কখন যে অন্ধকার ই আমার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে তা জানা নেই। যে জগতে তোমার বিচরণ সেই জগতে আমি নেই, যে জগতে আমার বিচরণ সেই জগতে তুমি নেই। অথচ পূর্নিমা তিথি আসলেই আমার জগতে তোমার আনাগোনা। ব্যাপারটা যে ইলিউশনস তা আমি জেনেও না জেনে থাকি। তবে আমি এটাও জানি যে এটাকে বলা হয় Self created Reality যেখানে তুমি না থাকা সত্তেও মনে হবে এইত তুমি আমার পাশেই। একটি বছর হয়ে গেল অচিনপুরে তোমার। ওয়াও ট্রিট কি দিবে না নাকি?
সেইদিনটাও ছিল বৃহস্পতিবার। ঘড়ির কাঁটায় ১টা ছুই ছুই, এমন সময়ে অচেনা নাম্বার থেকে কল এসে জানান দিল যে চন্দ্রলোকের অচিনপুরে তুমি আমাকে না জানিয়েই চলে গেছ। তুমি তো দেখি ভারি দুষ্ট একটাবার বল্লেও তো পারতে হাসপাতালে এসে আমাকে দেখে যাও,আমি না হয় তোমার উপর অভিমান করেছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে বললে না কেন তুমি লাস্ট স্টেজে আছ?
আমাকে না বলে চলে যাওয়ার প্ল্যান করেছিলে বুঝতে পেরেছি।
বাহ রে তোমার অনেক কথাই তো দেখি এখন সত্যি, তুমি বলেছিলে আমার কোন প্রকৃত বন্ধু থাকবে না তাই হচ্ছে দেখি। সবাই মনে করেছে আমি তোমাকে ভুলে গেছি, কিন্তু তারা তো জানে না পূর্নচাদের দিনে তোমার আমার দেখা হয়, বকুল তলায় তোমার কাধে মাথা রেখে সারারাত গল্প হয়।
আচ্ছা তাড়াতাড়ি একটা সিমকার্ড নিয়ে নাও না ওখানকার, তারপর আমাকে রোজ রাতে কল দিবে আমি নির্ঘুম রাত তোমার সাথে কথা বলব।
ধ্যাত আজকে তোমাকে আর কিছু বলতে পারতেছি না, বড্ড ঘুম পাচ্ছে। আচ্ছা শোন সামনের পূর্নিমায় আসবে কি?
আসলে আমাকে বলে যেও কিন্তু আমি কবে আসতে পারব তোমাদের চন্দ্রলোকের অচিনপুরে।এই জগতে না আমার আর ভালো লাগতেছে না। সবাই কেমন যেন পর হয়ে যাচ্ছে। আমি কারো চেহারা চিনতে পারতেছি না, মনে হচ্ছে চোখের সামনে কিসের যেন একটা পর্দা টানানো। তবে এবার আসলে কিন্তু আমাকে নিয়ে যেতেই হবে তা না হলে কিন্তু আমি রাগ করব। তোমার হাতটি ধরে কোন এক অন্ধকার রাতে আমিও চলে আসব অচিনপুরে। কেউ আর এই জগতে আমাকে খুঁজে পাবে না।
আচ্ছা আমি তৈরি হয়ে থাকব। এখন তবে একটু ঘুমুতে যাই।
ভালো থেকো বন্ধু।


স্মৃতি সতত সুখের.............................শ্রীলা পান্ডা (কোলকাতা)

স্মৃতি সতত সুখের.............................শ্রীলা পান্ডা (কোলকাতা)
ছর কুড়ি পর রোহিত এবার ঘুরতে এলো পাহাড়ে। ছোটো থেকেই ওর খুব ঘোরার নেশা।আসলে নেশাটা ছিল ওর বাবার। বাবার ছিল খুব বড়ো পাবলিশিং হাউস, আয় মন্দ ছিলনা তাই সুযোগ পেলেই বাবা আর ও বেরিয়ে পরত। হ্যাঁ, রোহিত আর ওর বাবা।রোহিত এর মা ওর ৫বছর বয়সেই হটাৎ একদিন রাতে বুকের ব্যথায় ছট্ফট্ করতে করতে মারা যান।ডক্টর এসে বলেন হার্ট অ্যাটাক। যাই হোক,যে কথা বলছিলাম,এবার এত বছর পরে রোহিতের ঘুরতে আসতে ইচ্ছে করলো তাও আবার পাহাড়ে।
অনেক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবিটা তুলবে বলে। কিন্তু আজকে এত মেঘ মনে হচ্ছেনা সেটা সম্ভব হবে। মন টা খারাপই হয়ে গেলো।হটাৎ পিছনে শুনলো কিছু কথাবার্তা। একজন কিছু নিয়ে জেদ করছে আর একজন তাকে ধমকাচ্ছে।পিছনে ফিরতে দেখে একটি ১২-১৩বছরের মেয়ে ও তার মা। মেয়েটি সাতসকালে ঘুম ভেঙে আসতে চাইছিলনা কিন্তু মায়ের কাছে সে আপত্তি খাটেনি। এখন কুয়াশা আর মেঘের জন্যে যে কিছু দেখা হবেনা সেটা বুঝে মেয়ে মাকে কথা শুনাচ্ছে। হাসি পেয়ে গেলো রোহিতের।হেসেও ফেললো। কিন্তু তারপরই নিজের ভুলটা বুঝতে পারলো। মেয়েটা কটমট করে তাকিয়ে আছে তার দিকে। আর সেই দৃষ্টিতেই প্রথম বার রোহিত নিজের একটা হার্ট বিট মিস করলো। মেয়েটির মা কিন্তু খুব সাবলীলভাবেই বলে উঠলেন " দেখো না,আমি কি করে বুঝবো যে এরকম ওয়েদার হবে,এখন এনার ঘুম নষ্ট হবার জন্যে আমাকে মেজাজ দেখাচ্ছে।এর হচ্ছে খালি ঘুম।" হটাৎ পাশ থেকে মেয়েটি রেগে উঠলো "আহ্! মা কি হচ্ছে কি।" মা ধমক খেয়ে তাড়াতাড়ি চুপ করে গেলেন ঠিকই কিন্তু মুচকি মুচকি হাসতে থাকলেন। মেয়েটি রেগে উঠে হোটেলে চলে গেলো। মা ও অগত্যা উঠে পড়লেন আর সাথেসাথেই রোহিত ও। রাস্তায় যেতে যেতে মোটামুটি সব খবরই নেওয়া হয়ে গেলো। উনারা কালকেই ফিরে যাবেন কলকাতায়। ভদ্রমহিলাও রোহিতকে তার ব্যাপারে সব জিজ্ঞেস করে যাচ্ছিলেন। হোটেলের কাছে এসে রোহিতকে তাদের রুমে আসতেও বললেন ,কিন্তু হটাৎ করে চোখের সামনে সেই কটমট দৃষ্টি ভেসে উঠতেই ও তাড়াতাড়ি সে প্রস্তাব খারিজ করে পরে আসবে কথা দিয়ে চলে এলো নিজের হোটেলে।
বোধহয় পাহাড়ের এই জায়গাটাই এই স্মৃতি গুলো মনে করিয়ে দিলো আজ।পুরো কুড়িটা বছর পিছনে চলে গেছিলো সে। আজও এসেছিল কাঞ্চনজঙ্ঘার সামনে ।আজ খুব ইচ্ছে করছিলো পিছনে ফিরে যদি সেদিন এর মতন মা ও মেয়েকে দেখা যায়,কিন্তু তা তো হবার নয়।মাঝে কুড়িটা বছর কেটে গেছে। না রোহিতের আর দেখা হয়নি তার সঙ্গে।সে সেদিন বিকেলে গেছিলো ওদের হোটেলে কিন্তু গিয়ে রিসেপশনে শোনে ওরা ঘুরতে বেরিয়েছে কখন ফিরবে জানা নেই। আবার পরের দিন ও সকালে গেছিলো । তখনও তার কপাল খারাপ,গিয়ে শোনে ওরা চলে গেছেন। কলকাতার ঠিকানা নেওয়া হয়নি, তাছাড়া সেভাবে আলাপ পরিচয় ছাড়া কারোর বাড়ি যাওয়াটাও ঠিক শোভা পায়না। তাই আর কিছুই ঘটে উঠতে পারেনি তার সাথে।
রাস্তা দিয়ে এসব ভাবতে ভাবতে আনমনে সে চলছিল।হটাৎ একটা আওয়াজ শুনে দাঁড়িয়ে পড়লো।একটি বাচ্চা মেয়ে রাগ দেখাচ্ছে আর তার মা তাকে খুব চোখ বড়ো বড়ো করে শাসন করার চেষ্টা করছে। ঘটনাটা এতটাই আকস্মিক যে রোহিত নিজের মধ্যেই নিজে কিরকম হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। সেই চোখ,সেই একই দৃষ্টি ,সেই একই কটমট করে তাকানো। আবারও নিজের একটা হার্ট বিট মিস হলো। কিন্তু আজ আর কিছু বললো না। মুচকি হেসে সে সেই সুখস্মৃতি নিয়ে নিজের গন্তব্যে ফিরে চললো।

দু- ফোঁটা দুঃখ শব্দের বিসর্গ...................................ইমরান মাহমুদ

দু- ফোঁটা দুঃখ শব্দের বিসর্গ...................................ইমরান মাহমুদ
কোনো গল্পের ভূমিকাতেই যে উপসংহার টানা যায় তাঁর সাকুল্যে এমনি এক গল্প শোনাচ্ছিলেন বিনয়'দা।
' রজত তোর বিদেশিনীর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার ছিলো। বলবো?  'যদিও এই কথাগুলো শোনার জন্য তুই একদমই প্রস্তুুত না, তবুও এক্ষুনে বলাটা জরুরি '
- নয় -ছয় না করে কি বলার আছে বল? 
বলে রাখা ভালো, 
চিঠির চালাচালিতে পূর্ববঙ্গের এক মেয়ে ' শ্রেয়ার' সাথে আমার একটু ভাব ছিলো আগে থেকেই, এই ভাবটি যে কখন ঢের গিয়ে ভালোবাসায় পরিনত হবে তা না জানতো বিদেশিনী, না জানতাম আমি। 
কিন্তু পূর্বে থেকে চণ্ডালে যা খোদাই করা থাকে তাই তো হবে; 
তারপর বিনয় বলতে লাগলো, 
_ ' দশমিতে শ্রেয়ার একটা দুঃসম্পর্কের পিসতেতো ভাইয়ের বন্ধুর সাথে হঠাৎ ওর বাবা মা আশীর্বাদের ব্যবস্থা করে৷ আর শ্রেয়া তখন নিরুপায় হয়ে ঔ বিয়েতে মত দিতে বাধ্য হয়। তার পরেরদিন শ্রেয়া আমার হাতে একখানা পত্র ধরিয়ে দিয়ে তৎক্ষনাৎ চলে গেলো। আমার পক্ষ থেকে যে একটা শব্দ করবো সেই সময়টি পর্যন্ত ও দেই নি। আমি খবরটা তোকে জানাতে বিকেলের গাড়ি ধরেই কলকাতা ছেঁড়ে ঢাকা আসি। কিছু বলবি রজত ? ' 
মূহুর্তটায় নীরব থাকবারই কথা। আমিও তাঁর বিপরীত না করে স্বভাবতই নিশ্চুপ থেকে ইশারায় বিনয়কে বললাম, 
-তুই এখন যেতে পারিস;
বিনয় মুখখানা কালো করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
তারপর আমার হাতে থাকা চিঠিটি হতস্তত করে খুলে পড়তেই, অমনি দেখলাম লেখা.... 

"দুঃখিত "
এতটুকুই _

মানুষের জীবনের রং যতোটা গাঢ় হওয়া উচিত ততোটা গাঢ় না, ঈষৎ কালচেও বটে । সম্পর্কের ব্যবধানে আমরা কেউ আকাশের সমান সুবিশাল, প্রশস্ত, আবার কেউ সুউচ্চ। আবার কিছু সম্পর্কের টানাপোড়ন আমাদের কাছে ঘুড়ি আর লাটাইয়ের সদৃশ মনে হয়। যে পারে ইচ্ছে মতো ওড়ায় আর যে পারে না সে আকাশে উঁড়ে। 
সুতোখানি ছিঁড়ে গেলে, কতখানি দূরে গেলে, কতখানি ফেরো? 
দূরে গেলে তবুও হয়, কাছে এলেই তো ভয়, এই বুঝি হারালে।
কথাগুলো ভাবতে- ভাবতে কখন যে চিঠির উপর দু-ফোঁটা জল আলগোছে এসে পড়েছে, বুঝতেই পারি নি। আচ্ছা শ্রেয়া যখন তাঁর শেষ চিঠিতে" দুঃখিত " লেখাটি লিখছিলো তখন কি ওর কাজল চোখের দু- পাশের আধুলিতে একটুও পানি জমে নি? যদি পানি এসেই থাকে তাহলে কখনো কি তাঁর চোখ কচলাতে গিয়ে" দুঃখিত " শব্দের ( ঃ)বিসর্গের উপর দু- ফোঁটা জল সাদা কাগজটিতে পড়ে নি? আচ্ছা সে কি তাঁর ডোরাকাটা সূতি ওড়না দিয়ে চোখের পানি লুকাতে চেয়েছিলো? না চোখের পানি মুখে নিয়ে তা নোনতা কিনা তা যাচাই করছিলো!

আচ্ছা এমনটিও তো হতে পারতো শ্রেয়ার একচোখের জল এসে ঠিক "দুঃখিত " শব্দের একটা ফোঁটার উপর এসে পড়তো! আর বাকি একটা ফোঁটা চোখের জল শুকিয়ে যাবার কারনে বিসর্গের আরেক ফোঁটা অপূর্ণই থেকে যেতো। পরবর্তীতে আমার এক চোখের জল টপটপ করে ঠিক বিসর্গের অপূর্ণ ফোঁটাটির উপর পরতো। 
-এসব কিছু কিন্তু ব্যথারই দান ; এখানে রোমান্টিকতার ছিটে ফোঁটা না থাকলেও দুঃখ ভাগাভাগির একটা আলাদা আনন্দ আছে। এ জন্মে এক "বিনোদিনীকে" ভালোবেসে দুঃখ ভাগাভাগির চেয়ে অধিকতর সুখ আমি আর দ্বিতীয়টি পাই নি।
আরেকদিন হয়তো এই দুরারোগ্য অসুখের কিছুটা পথ্য পেয়েছিলাম। 
ঐটা আমার জীবনে দুঃখ পাইবার দিক দিয়ে দ্বিতীয় আর ব্যথা লুকানোর আনন্দের দিক দিয়ে তৃতীয়। 

আমার এক বই প্রকাশের কাজে কলিকাতায় অনুষ্ঠিত বইমেলাতে যাবার সময় ঘটে। শিয়ালদহ এর ট্রেনে উঠে জানলায় আড়ি পেতে তাকাতেই দেখি এক মেয়ে আমার কামড়ার দিকে আসছে! তার কিছু পরে মেয়েটির পেছন পেছন আরেকটা মধ্য বয়সী পুরুষ স্যাুটকেস বোঝাই মালপত্র নিয়ে এদিকেই আসছে।
- "জায়গা আছে " 
মেয়েটির চাপা স্বর আমার কাছে এক চিরপরিচিত কন্ঠের সুরেলা গলা মনে হলো।
আমার বসার সিটের কাছে তাদের আসতেই দেখি আসলেই, উনিই তো আমারই সেই চির পরিচিত
" শ্রেয়া"
আমি ব্যাপারটি আন্দাজ করে যা বুঝলাম, ট্রেনে উনারা সিট পান নি। 
_ ভদ্রলোককে আমি ডেকে বললাম,
আপনার কোনো সমস্যা না থাকলে আমার পাশে বসতে পারেন ; 
- " ধন্যবাদ" 
তাছাড়া আমার সামনের সিটটাও খালি পড়ে আছে।
একটু পরে দেখলাম ভদ্রলোকের স্ত্রীকে সেখানে বসতে দিলো। 
- যাত্রাপথে ভদ্রলোক আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই আমি আমি আমার পরিচয় দেই। 
_ ও "আপনি সেই লেখক রজত বাবু?
আমি আপনার সব বই পড়েছি, আপনি ভীষণ ভালো লেখেন। এবারের বইমেলায় আমরা কি পাচ্ছি? 
_" চার অধ্যায়" এটি আমার দ্বিতীয় উপন্যাস। 
_ এই বলে আমি আমার আসন ছেড়ে কামড়ার দরজার কাছে এসে বসি। 
পকেট থেকে সিগারেটের খোসাটা বের করে একটা সিগারেট ধরাই। আর আমার চোখ ছিলো ট্রেনের বাহিরের লোকালয়ে, সিগারেটের তামাক পাতা গুলো যখন এক চুমুক দু - চুমুক করে ভেতরে নিতাম মনে হতো এই বুঝি স্বস্তি পেলাম। মুখের সামনে থেকে ধোঁয়া উঁড়ে যখন আমার বিপরীত দিকে যাচ্ছিলো আমি ঔ দিকে এক বার তাকাতেই দেখি শ্রেয়া আমার দিকে এক দৃষ্টিতেই চেয়ে আছে।
কি জানি ভাবছে! সম্পর্কের গোড়া আমাদের কতটা দূর, কতটা সুদূর নিয়ে এসেছে। বাস্তবতা জানি কত কঠিন! সেসময় দু- একবার আমি শ্রেয়ার বিচলিত ভাবনার দিকে তাকাতেই দেখি শ্রেয়ার বাম পাশের সিঁথির চুলগুলো এলো বাতাসে কেমন করে জানি ডাকছে। তার সেই ভাবনার কাছে গেলে মনে হয়, অতো কাছে যেতে নেই। কিছুটা দূরত্বই ভালো।
কেননা কিছু মানুষের জীবনে দু- ফোঁটা দুঃখ শব্দের বিসর্গ আছে।

চড়ুই পাখির ভালবাসা.................................শাহানা ফেরদৌসী (অনুগল্প)

চড়ুই পাখির ভালবাসা.................................শাহানা ফেরদৌসী (অনুগল্প)
ড়ুই পাখিটা একা একা বসে আছে। সঙ্গীকে খুঁজছে। সকাল থেকেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। খাবারের সন্ধানে কোথাও গেছে, নাকি পথ হারিয়ে সেও তার মতো একা কোথাও বসে চিৎকার করে ডাকছে তাকে, জানেনা সে। সব সময়ই তারা একসাথে ছিল। এক মূহুর্তের জন্যও তারা আলাদা হয়নি। কিন্তু আজ কি হয়ে গেল!
বাসাটা খালি পড়ে আছে। মেয়ে চড়ুইটা হারিয়ে গেছে। তাই আজ তার খাওয়াও হয়নি। সে একা বসেই আছে। আর মনে মনে ভাবছে এই বুঝি মেয়ে চড়ুইটা ফিরে এলো। কিন্তু না, সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো, বিকেল হলো, সন্ধ্যে নেমে এলো তাও মেয়ে চড়ুইটার কোন খোঁজ পাওয়া পাওয়া যাচ্ছেনা। 
এদিকে মেয়ে চড়ুইটা আটকা পড়ে আছে এক শিকারীর জালে। ধান ক্ষেতে আটকা পড়ে আছে। অনেক চেষ্টা করেও সে তার পা ছাড়াতে পারছেনা। সে চিন্তায় শেষ। ছেলে চড়ুইটা তার জন্য কতো চিন্তা করছে। তাকে না পেয়ে সে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে নিশ্চয়ই। মনে মনে সে ধরেই নিয়েছে সে আর মুক্তি পাবেনা। হঠাৎ ধান ক্ষেতের পাশ দিয়ে একজনকে আসতে দেখলো সে। ওমনি মেয়ে চড়ুইটা চিৎকার শুরু করলো। চড়ুইয়ের চিৎকার শুনে পথিক এগিয়ে গেল। তার মনে দয়া হলো। সে চড়ুইটাকে জাল থেকে ছাড়িয়ে দিল। ছাড়া পেয়ে মেয়ে চড়ুইটা মনে মনে অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। আর পথিকও পাখিটাকে ছাড়িয়ে দিতে পেরে খুব খুশি হল। ছাড়া পেয়েই মেয়ে চড়ুইটা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার পথ ধরলো। 
বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল তার।এদিকে মেয়ে চড়ুইকে ফিরে পেয়ে ছেলে চড়ুইটার সে কি আনন্দ! সে আনন্দে আত্মহারা। কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল সে তাকে জিজ্ঞেস করলো। মেয়ে চড়ুইটা সব ঘটনা খুলে বললো। তারপর দু’জনে শপথ করল আর কারো ফসলের ক্ষেতে তারা আর যাবেনা। মেয়ে চড়ুইটা ছেলে চড়ুইকে জিজ্ঞেস করল কিছু খেয়েছে কিনা। ছেলে চড়ুইটা বলল সে কিছুই খায়নি। ‘তাহলে চলো ঘরে কিছু খাবার আছে দু’জনে মিলে ভাগাভাগি করে খাব। আজ রাতে আর কিছু খেতে হবেনা। কাল আবার খাবারের সন্ধানে বের হব।’ পরে দু’জন খেয়ে একসাথে ঘুমিয়ে পড়ল। এই হল চড়ুই পাখির ভালবাসা।