Showing posts with label ভ্রমন কাহিনী. Show all posts
Showing posts with label ভ্রমন কাহিনী. Show all posts

নীল নির্জনে...................সেমন্তী ঘোষ

নীল নির্জনে...................সেমন্তী ঘোষ
প্রকৃতির বিমূর্ত বিচিত্র রূপ। একদিকে তার সৃষ্টির মহিমান্বিত মধুর কলতান,অন্যদিকে প্রলয়হারিনি ধ্বংসের সুর।চতুর্দিকে কত বৈচিত্রের সমাবেশ -কল্পনার ইন্দ্রধনুর বর্ণালী। কোথায় মরুর বুকে উঠের সারি,কখনো অরন্যের বুগিয়ালী স্বপ্নসুখ।আবার কখনো সহস্য তুষারধবল শৃঙ্গরাশি উচ্চশির দণ্ডায়মান,কখনো বা দরিয়ার দিগন্ততটে শুভ্র ফেনায়িত তরঙ্গ রাশির উত্তাল সমীরন। প্রত্যেক রূপেই সে অনন্যা। কর্মসূত্রে 'ইনফরমেশন এন্ড টেকনোলজির সেন্টারে'র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ম্যানেজার,সহ অধ্যাপিকা হওয়ার জন্য এই অনন্ত চলার পথে বারংবার বিভিন্ন রূপে দেখা সেই প্রকৃতির সাথে__তার সৃষ্টির জলছবির কাহিনী তাই স্বপ্নের বিভোরতায় গল্পের পাহাড় বুনে হৃদয়ে এক বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছে....

প্রকৃতির ক্যানভাসে স্বপ্নিল সুখ 
অনাহুত আবিলতা দরিয়ার রূপ
বিগলিত অশ্রুর মুখরিত ধ্বনি
"কলমের ডাকনামে" দিনমানে শুনি......

নীল দিগন্তের মাঝে উত্তাল সমুদ্রের শান্ত সমাহিত রূপের সন্ধানে এবারের যাত্রা আন্দামানে।বহুচর্চিত ঐতিহাসিক ও স্বদেশীদের সাক্ষ্য বহন করা পোর্টব্লেয়ারের 'সেলুলার জেল'আর নীল আইল্যান্ডের নিবিড় সমুদ্র তটে।কলকাতা থেকে সকালের বিমানে পোর্টব্লেয়ার। বিমানবন্দরে নামার আগেই বিমান থেকে দেখা যায় সবুজ বনানী ঘেরা বিভিন্ন আইল্যান্ড আর নীলরঙা সমুদ্র। ভারতবর্ষের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপাসাগরের বুকে অবস্থিত ৫৭২ টি দ্বীপের সমষ্টি নিয়ে এই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। যার মধ্যে যাওয়ার অনুমতি মেলে কেবল মাত্র ৩৮ টি দ্বীপে। এই দ্বীপ গুলির মধ্যে সবথেকে শান্ত সমাহিত রূপে বৈচিত্র্যে ভরা অথৈ নীলের অপার সাগর বেলা নীল আইল্যান্ড। কাজের সূত্রে বারবার আসার জন‍্য এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে যাওয়ার সময় ২০১৪, ২০১৭ আর ২০১৯ পরিবর্তনটা বেশি করে যেন চোখে পড়ছিল। কালের নিয়মে পরিবর্তন আসবেই তবুও প্রকৃতির মায়াবী রূপের যে মনোহর ছটা আগে দেখেছিলাম আজ মানুষের ঢল, হোটেলাদি নির্মাণে অনেকটাই ম্লান মনে হল।

এসব দেখে মনে প্রশ্ন জাগে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় 'সবুজ দ্বীপের রাজা' তার গৌরব হারিয়ে ম্লান হয়ে যাবে না তো যন্ত্রমানবের রূপায়নে!!!!যদিও পরবর্তী মুহূর্তেই নীলাভ প্রকৃতির সুরেলা ধ্বনি এই প্রশ্ন ভুলিয়ে হৃদয়ের আঙিনায় প্রশান্তির ঢেউ তুলে সব দ্বিধা দূর করে দিল তার অসীম রূপমাধুর্যে।হোটেলে পৌঁছে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে পৌঁছে গেলাম নিরালা নিভৃতে আকাশের নীল আর সমুদের নীলের নীল দরিয়ায়। নিরালা নির্জনে শ্বেতশুভ্র সৈকতবেলা 'করবাইনস কোভ'। প্রকৃতির পরম যত্নে কোমলতায় আচ্ছাদিত এখানকার ঢেউয়ের খেলায় একবার নামলে খুব কম মানুষ এখান থেকে সহজে উঠতে চান।মনে হয় যেন শান্ত বেলাভূমির কোলঘেঁষে চঞ্চল সমুদ্র শখার অনন্তকালের অবিশ্রান্ত খেলায় আরো কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে যাই। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে থেকে হোটেলে ফিরে এসে দ্বিপ্রাহরিক আহার শেষে যাওয়া হল ঐতিহাসিক সেলুলার জেলে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের জীবন্ত দলিল। সাগরমুখী পাহাড়ের পিছনেও খাড়া পাহাড়। জানালাহীন সংকীর্ণ সেল। সাগরের রং কালো হোক বা না হোক রক্ত সংগ্রামের ইতিহাসে "কালাপানি"। পাশে রয়েছে ফাঁসি ঘর।উপরে টাওয়ার;যেখান থেকে পূর্বে নজর রাখা হত সমগ্র জেল চত্বরের। সেখান থেকে উন্মুক্ত প্রকৃতির রূপ বিস্মিত করে। বিকেলে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বিপ্লবী সংগ্রামের ইতিহাস। যা এই অনন্ত সৌন্দর্যের মাঝেও মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া হলো মেরিন পার্কে। সাগরপারের মৃদুমন্দ নির্মল বাতাসের মনোরম পরিবেশ।চোখে পড়বে বিধ্বংসী সুনামির স্মারকরূপে' একটি স্মৃতিসৌধের স্তম্ভ। রাত্রি অতিবাহিত সুখস্মৃতি রোমন্থনে।পরের দিন সকালে যাত্রা করা হল নীল এর উদ্দেশ্য। পোর্টব্লেয়ার থেকে নীলের দূরত্ব প্রায় 37 কিলোমিটার।পোর্টব্লেয়ার বা হ্যাভলক থেকে জাহাজে চেপে আসা যায় নীল আইল্যান্ড। জাহাজের সামনের আর পিছনের ঢেউ খেলানো জলের তোড় ডেকে বসে দেখতে দেখতে আমরা পৌছে গেল নীল দ্বীপে। জাহাজ থেকে নেমে জেটি দিয়ে হেঁটে আস্তে আস্তে চোখে পড়ল স্বচ্ছ নীল জলের নীচে কোরালের রাজ্য। তটভূমি বরাবর সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে স্পিডবোট, গ্লাস-বটম র্বোট, ওয়াটার স্কুটার। সবদিক জুড়ে নারকেল সুপারি সহ বিভিন্ন গাছ গাছালি। সাথে আনা ব্যাগ হোটেলে রেখে বেরিয়ে পড়া হল নীলাভ্র জলের মায়ার টানে। আসমানী নীল আর জলতলের নীলে প্রকৃতির রূপের বাহার। জলের স্বচ্ছ রং এ যারা শুধুমাত্র পাহাড় প্রেমী তারাও এসে প্রেমে পড়ে যাবেন।এখানে বেশ কতকগুলি সমুদ্র সৈকত রয়েছে -ভরতপুর, লক্ষণপুর,সীতাপুর প্রভৃতি।প্রত্যেক জায়গাতেই নীল জলের স্বচ্ছ রূপ। জলের স্বচ্ছতা এতটাই যে গভীর জলে দাঁড়িয়ে নিজের পায়ের পাতা দেখা যায়।বেশ কয়েকজনকে দেখলাম 'স্নরকেলিং' এ যেতে।আমরা গেলাম 'গ্লাসবটমে' চেপে গভীর জলের তলদেশের কোরাল,স্টারফিশ দেখতে।বেশিরভাগই জীবিত কোরালের সমাগম। ফিরে আসার সময় সমুদ্রতটে কিছু শামুক,ঝিনুক,শঙ্খ জমে আছে দেখলাম। সেখান থেকে যাওয়া হলো রক ফাউন্ডেশন দেখতে। অসংখ্য কোরাল, কাঁকড়া,সামুদ্রিক ছোট ছোট প্রাণী,রঙিন মাছ আর পাথুরে বোল্ডারে পরিপূর্ণ অঞ্চল। মুহূর্তকে মুহূর্ত বন্দি করে সেখান থেকে ফিরে এসে সীতাপুর বীচে ঘুরে আসা হলো। চাইলে নীল জলতটৈ নিজেকে ভিজিয়ে নেওয়া যেতে পারে।নীল সবুজের চোখজুড়ানো জলছবি। 

আবারো ফিরে যাওয়া হল লক্ষণপুর বীচে। নীল নির্জন বালুচরে বসে মনে হল সমুদ্রের অসীম জলরাশি যেন সাদা বালির বুকে আলপনা এঁকে দিয়ে যাচ্ছে।প্রাত্যহিক ক্লান্তিময় শহুরে জীবন থেকে দূরে নিস্তব্ধতার মাঝে ঢেউয়ের তালে পৃথিবী যেন তার আপন সৌন্দর্য ছড়িয়ে রেখেছে এখানে। রুপমাধুরীর এক অমোঘ আকর্ষণে স্নিগ্ধ বাতাস অনির্বচনীয় নির্জনতা মুখর হয়ে উঠেছে। ধীরে ধীরে সূর্য অস্তাচলে। সমুদ্রের জলে ক্ষণে ক্ষণে সেই রঙের পরিবর্তন। কখনো আবির রাঙালাল,কখনো কমলা,আবার কখনো হালকা লালে।ধীরে ধীরে দূর সমুদ্রের বুকে অস্তগামী সূর্যের রক্তিম হাসিতে গোধূলি বেলার ঝিরঝিরে সমীরন। মধুর হাওয়া আর নীলাভ স্বপ্নকে সাথে নিয়ে হোটেলে ফিরে আসা হলো। পরেরদিন প্রভাতে একই ভাবে ক্রজে চেপে ফিরে আসা হল পোর্ট ব্লেয়ার।পোর্টব্লেয়ার এসে দেখে নেওয়া হলো এনথ্রপলজিকাল মিউজিয়াম,সামুদ্রিকা নাভাল মিউজিয়াম আর জুওলজিক্যাল মিউজিয়াম। এক মুঠো স্বপ্নসুখের স্মৃতি কে অবলম্বন করে পরের দিনের বিমানে ফিরে আসা হল কলকাতায়। তবুও চোখে লেগে রইল নীল মেঘতটে সাদা বালুকারাশিতে নীল আইল্যান্ডের মোহ........

(চলবে)

ছবি: পৃথ্বীশ ভদ্র

ইউরোপ ভ্রমন পর্ব ২ (ফ্রান্স)....................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার

ইউরোপ ভ্রমন পর্ব ২ (ফ্রান্স)....................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার
য়ারপোর্টের ভেতরে বাস থেকে নেমে চলন্ত সিড়ি দিয়ে উপরে চলে এলাম। চারিদিকে তাকিয়ে এয়ারপোর্টের সৌন্দর্য্য দেখছিলাম আর চমকিত হচ্ছিলাম। বিশাল বড় এই সিডিজি এয়ারপোর্ট। প্লেনের কমতি নেই যাত্রীরও কমতি নেই তবুও হৈ চৈ বিহীন অনেকটা নীরবে সমস্ত কার্যক্রম চলছে। চেকিংয়ের পর ইমিগ্রেশান পার হয়ে লাগেস বেল্টের কাছে দাড়ালাম, কিছুক্ষণ পর লাগেসগুলি পেলাম, দুটো ট্রলি নিয়ে এলো আনান। ব্যাগগুলো উঠিয়ে ইমিগ্রেশন পার হয়ে চলে এলাম এক্সিট এরিয়ায়। ওদের গাড়ি ছেড়ে দিলে আমি আর কাকা ছয় তলা থেকে তিন তলায় নেমে এয়ারপোর্টের বাইরে বেরিয়ে এলাম।রাস্তায় ছোট্ট কাঁচের এক রুমের টিকেট কাউন্টার থেকে কাকা একটা টিকেট কিনলো উনার টিকেট মাসিক হিসেবে আগেই কেনা। টিকেট দুটো ইলেকট্রনিক বক্সের মেশিনে এক দিকে ঢুকাতেই তা আরেক দিক দিয়ে বের হয়ে এলো। সে টিকেট দুটো হাতে নিয়ে আমরা কোমর সমান গেট পার হয়ে একে একে বের হয়ে এসে মাটির নিচে নির্মিত ট্রেন স্টেশানের ভেতরে ঢুকলাম। সে এক অদ্ভূত ব্যাপার বাস্তবে না দেখলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হতো। মাটির উপর দিয়ে চলছে নানা ধরনের গাড়ি নিচ দিয়ে চলছে ট্রেন। স্টেশানগুলিও অত্যাধুনিক এবং কম্পিউটারাইজড। এখনে ঘড়ির সময় ধরেই চলছে যেন সব। এয়ারপোর্ট মেট্রো স্টেশানে ট্টেনের অপেক্ষায় থাকলাম। পাসাপাসি দুটো ট্রেন লাইনে দু মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করে।একটা আপ অন্যটি ডাউন। এই ট্রেন লাইন শহরের নানা দিকে ছড়ানো। সোজা গন্তব্য না হলে লাইন বদলাতে হয়। বিভিন্ন লাইনের নাম সংখ্যা দিয়ে উল্লেখ করা আছে যেমন লাইন ১,২,৩,৪। ট্রেন এলে অটো দরজা খুলে যাচ্ছে আবার ত্রিশ থেকে চল্লিশ সেকেন্ডের মধ্যে দরজা লক হয়ে যায় তবে শুনলাম কখনো কখনো ড্রাইভার দরজা নিজের কন্ট্রোলে নিতে পারে। আগে যাত্রীদেরকে নামতে দিতে হয় পরে উঠে সবই শৃঙ্খলের সাথে। আমরা ট্রেনে চড়লাম সিট খালি নেই দাড়িয়েও আছে অসংখ্য মানুষ অগ্যতা আমরাও রড ধরে দাড়ালাম। ট্রেনের ভেতরটা বেশ ঝকঝকে এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। দরজার উপরে দুপাসেই ইলেকট্রনিক বোর্ডে প্রতিটা স্টেশনের নাম লেখা আছে যে স্টেশানে থামবে পাঁচ সেকেন্ড আগে থেকেই সেখানে লাইট জ্বলে এবং লাউড স্পীকারে ফ্রেন্স ভাষায় স্টেশানের নাম বলে।

হঠাৎ চোখ পড়লো এক জোড়া যুবক যুবতীর দিকে ওরা দুজন কথা বলতে বলতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করছে শুধু একবার না বারবার সেকি আবেগঘন চুম্বন আমিতো এসব দেখে অভ্যস্ত না ফলে মাথা ঘুরিয়ে কাকার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম কাকা বাংলায় বললো এসব এখানে ডালভাত দেখছেননা কেউ ফিরেও তাকাচ্ছে না আপনি চুপচাপ দেখতে থাকেন ভুলেও কিছু বলেন না কিন্তু। আমি আর ভুলেও তাকাইনি। ডান দিকে তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে দাড়িয়ে এক হাতে রড ধরে আছে অন্য হাতে এক মনে মোবাইল টিপছে বয়স বাইশ চব্বিশ হবে গায়ে হাতা কাটা ছোট্ট গেঞ্জি পায়ের দিকে দৃষ্টি গেল দেখি পরনেও জিন্সের একটা ছোট্ট হাফপ্যান্ট এত ছোট যে হিপের (বাংলায় যাকে বলে পাছা) উঁচু জায়গাটার নিম্নাংশ থেকে পুরো পা খোলা। আমি আবারো চোখ সরিয়ে নিলাম।দু এক জন হিজাবী মহিলাকেও দেখলাম। এরা সবাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত কেউ কারো দিকে ভ্রুক্ষেপ করছে না। অনেককে গভীর মনোযোগের সাথে বই পড়তে দেখলাম। একজন পাগলকে দেখলাম ট্রেনের এমাথা ওমাথা ঘুরে বেড়াতে। যাহোক কিছুদুর আসার পর লাইন চেঞ্জ করে আবার অন্যদিকে অন্য স্টেশানে ঢুকে অন্য ট্টেনে চড়ে গন্তব্যে পৌছালাম। লুমিয়া স্টেশানে এসে এস্কেলেটরে উঠে দাড়ালাম। এস্কেলটরের ডান দিক ঘেসে দাড়িয়ে থাকছে সবাই বাদিকে একজনের যাওয়ার পথ খালি রাখতে হয় যারা চলন্ত এস্কেলেটরেও দ্রুত যেতে চায় তাদের জন্য। স্টেশানের ভিতরে ল্যান্ডিং এবং লবিতে দেখলাম দু একজন হকার দ্রব্য বিক্রি করছে একজনকে দেখলাম গীটার বাজিয়ে গান গাইছে আমদের তাড়ার জন্য দ্রুত সরে এলাম কাকার কাছে শুনলাম গান শেষে অনেক শ্রোতা দু এক ইউরো দিয়ে যায়। এটা অনেকের পেশা তবে এরা আরো নামীদামি গায়ক হবার জন্য চেষ্টা করে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে মেট্রো ট্রেন বা বাসের টিকেট ঘন্টা হিসেবে বা মাস হিসাবে কিনতে হয়।সময় শেষ হয়ে গেলে টিকেট আবার কিনতে হয়। 
ঠিক বিকেল আটটায় হোটেলে পৌছালাম।
বড়সড় একটা রুম ভাড়া করেছে কাকা আমাদের চার জনের পরিবারের জন্য খুব একটা অসুবিধা হয়নি। দুটো বেড একটা ডাবল একটা সেমি ডাবল। বেশ সস্তার জন্য এই এক রুম নেওয়া। তবুও আমাদের টাকায় প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় চার হাজার টাকা। 
প্যারিসে তখনো রাত হয়নি।আগষ্ট মাসের শেষ দিকে ওখানে সন্ধ্যে হয় সাড়ে নটায়। হোটেলে পৌছেই আনোয়ার কাকা বললো একটু রেষ্ট নিয়ে চলেন আইফেল টাওয়ার দেখে আসি। মেট্রোতে গেলে পনের মিনিট লাগবে। আমরা সুটকেসগুলো না খুলেই ঢাকা থেকে যে পোশাক পরে এসেছি সেভাবেই ফ্রেস হয়ে নটার দিকে বেরিয়ে পড়লাম


আইফেল টাওয়ার 
-----------
বিশ মিনিটের মধ্যেই আইফেল টাওয়ারের সামনে চলে এলাম মেট্রোতে করে। মনুমেন্টের মত কংক্রিটের তৈরি সামান্য উঁচু ট্রোকেডরো চত্বরের পাসেই মেট্রো স্টেশান 6 থেকে রাস্তার উপরে উঠলাম। মনুমেন্টের সামনে পাকা চত্ত্বরের উপর উঠে এলাম। এই চত্ত্বরের নামও ট্রোকেডরো আসলে ঐ এলাকার নামই এটা। ওখান থেকে একটু দূরে আইফেল টাওয়ার দেখা যাচ্ছে। তখন সন্ধ্যা হয় হয় লাইটগুলো এখনো জ্বলে উঠেনি।আইফেল টাওয়ার দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আমরা ছবি তুলতে ব্যস্ত হলাম।খানিকটা পর আলো জ্বলে উঠলো আইফেল টাওয়ারের সৌন্দর্য্য বাড়তে লাগলো। এই চত্তরে অনেক লোকের আনাগোনা। ফলে এখানে অনেক হকার দেখা গেল এরা বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে। দুজন বাংলাদেশীকেও দেখলাম। পুলিশের আগমন টের পেয়ে ওরা দৌড় দিল ফলে কথা বলতে পারলাম না। এই সব বাংলাদেশীরা দশ বারো লাখ টাকা খরচ করে এসে এই হকারি কেন করে আমি বুঝতে পারছি না। তবে কেন আসে এবং এত কষ্ট করে পরে বুঝেছিলাম তা অন্য পর্বে লিখব আশা করছি। সে যাই হোক 
ধীরে ধীরে ওখান থেকে নেমে আইফেল টাওয়ারের দিকে চললাম।
আইফেল টাওয়ার এলাকায় ঢুকতে ব্যাগ চেক করা হলো। আমরা টাওয়ারের চারদিক ঘুরে দেখলাম। বিংশ শতাব্দীর বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের এক আশ্চর্য ছিল এই আইফেল টাওয়ার।১৮৮৪- ১৮৮৯ সালে লোহার তৈরী টাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে উর্দ্ধমুখি তাকিয়ে দেখলাম এর উচ্চতা, ঘাড় ব্যাথা হয়ে গেল। নিরেট লোহা দিয়ে তৈরী এর স্ট্রাকচার। নানা ধরনের অতি আশ্চর্যের আবিস্কারের ফলে এটি এখন আর আশ্চর্য নেই। অনেকে মনে করে আমাদের দেশের ইলেক্ট্রিক টাওয়ারের মতই এটা দেখতে এত আদিখ্যেতা কেন।আসলে এর সৌন্দর্য দেখতে হলে চলে যেতে হবে সোয়াশো বছর পূর্বে।সবে মাত্র ফ্রান্সে শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছে এই সময় স্বল্প উন্নত যন্ত্র দিয়ে তৎকালীন সময়ে এই রকম একটা উচু টাওয়ার তৈরী করা ভাবলে অবাক হতে হয়। তাছাড়া এর আর্কিটেকচারাল ভ্যালু সাংঘাতিক রিচ।এই টাওয়ারে এখন নানা ধরনের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক যন্ত্রাংশ ও সার্ভার সেটিং করা হয়েছে। টিকেট কেটে লিফটে চড়ে আইফেল টাওয়ারের চুড়ায় উঠা যায়।ওখান থেকে সারা প্যারিসের সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হওয়া সহজ ব্যাপার। আলোকছটায় প্রজ্জ্বলিত আইফেল টাওয়ার দেখে ফিরে এলাম হোটেলে তখন রাত বারটা।

চলবে.....।

স্বপ্নের স্বর্গরাজ্যে:স্মৃতিকথা...................সেমন্তী ঘোষ

স্বপ্নের স্বর্গরাজ্যে:স্মৃতিকথা...................সেমন্তী ঘোষ
কৃত্রিম হিমালয়,হিমবন্ত হিমালয়,দেবভূমি হিমালয়। দিগন্তপ্রসারী হিমাদ্রি তার সহস্র তুষারধবল শৃঙ্গরাশি নিয়ে উচ্চশিরে দণ্ডায়মান।ধ্যানমগ্ন এক তপস্বী -যুগ যুগ ধরে মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কখনো তার ভয়াল ভয়ার্ত রূপ কেড়ে নেয় অসংখ্য প্রাণ,আবার কখনও সেই অভ্রভেদী চূড়াই মানুষকে বাঁধে প্রাণের সুরে।এবারের পূজায় আকাশচুম্বী অট্টালিকার দৃষ্টিনন্দন থেকে দিন কয়েকের ছুটি নিয়ে আমাদের যাত্রা মর্ত‍্যের সেই স্বর্গধামে।দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের এক অন্যতম অদ্বিতীয়ম কেদারনাথে।প্রকৃতির ক্রুদ্ধ অভিশাপে ২০১৩ সালে যেখানে হঠাৎই নেমে এসেছিল জলের তোড়,মৃত্যু মিছিলে পরিণত হয়েছিল পুন‍্য তীর্থভূমি ;ধীরে ধীরে দুঃখ দূরে সরিয়ে আজ আবার তা মাটির স্বর্গ হয়ে চোখ মিলেছে এক অনন্ত নন্দনের বুকে।

কেদারনাথে যেতে গেলে প্রথমে পৌঁছাতে হবে হরিদ্বার। হাওড়া থেকে প্রতিদিন হরিদ্বার যায় দুন এক্সপ্রেস। এছাড়াও প্রতি মঙ্গল আর শুক্রবার ছাড়ে হাওড়া দেরাদুন উপাসনা এক্সপ্রেস।এবং মঙ্গল ও শুক্র ছাড়া বাকি দিনগুলো চলে হাওড়া হরিদ্বার কুম্ভা এক্সপ্রেস।অথবা রাজধানী এক্সপ্রেসে চেপে বা বিমানে দিল্লি গিয়ে সেখান থেকে জনশতাব্দীতে চেপে বা গাড়ি ভাড়া নিয়ে পৌঁছানো যায় হরিদ্বার।সেদিনটা হরিদ্বারের 'হর কি পৌড়ি' ঘাট দর্শন করে বিশ্রাম নেওয়াই শ্রেয়। পরেরদিন প্রভাতে সীতাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা। কিলোমিটার হিসেবে যেতে ৮_৮.৩০ঘন্টা লাগার কথা হলেও রুদ্রপ্রয়াগের পর কেদারের দিকে যাওয়ার রাস্তা সরকার থেকে নির্মাণ করার জন্য এবং মাঝে মাঝেই ধ্বস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তার গতি বেগতিক হলে তা ১২ থেকে ১৫ ঘন্টাও লাগতে পারে।সীতাপুর ছাড়াও উত্তরকাশী,শোনপ্রয়াগ থেকেও কেদারনাথ যাত্রা শুরু করা যায়।তবে কেউ যদি হেলিকপ্টারে কেদার দর্শনে যাবেন ঠিক করেন তারা অবশ্যই সীতাপুরে থাকতে পারেন কারণ ফাটা সেরসি সহ আরেকটি হেলিপ্যাড তিনটি সীতাপুর থেকে প্রায় সমদূরত্বে।
দিগন্তের নীলাভরণ প্রকৃতি আর মহাদেবের ধ্যানমগ্ন সৌন্দর্যের নিকেতন কেদারে এটা তৃতীয়বার যাত্রা।যতবারই আসি বারবার ফিরে আসার ইচ্ছা জাগে মনের কোণে।সীতাপুরে সেদিনের রাত্রি অতিবাহিত করে প্রকৃতির রূপ আস্বাদনে হাঁটাপথে আমাদের কেদার যাত্রা শুরু হলো। 

সীতাপুর থেকে এক কিলোমিটার শোনপ্রয়াগ। বাস বা প্রাইভেট গাড়ির দু'ই যায়-ব্যবস্থা রয়েছে সরকারি পার্কিংয়ের। আগে গৌরীকুণ্ড পর্যন্ত গাড়ি গেলেও ২০১৩-র বিধ্বংসীকতার পর তা বন্ধ হয়ে এখন শোনপ্রয়াগ পর্যন্ত যাওয়া যায়। শোনপ্রয়াগেই রয়েছে বায়োমেট্রিক পারমিশনের শেষ জায়গা।এছাড়া হরিদ্বার হৃষীকেশ থেকেও পারমিট পাওয়া যায়।শোনপ্রয়াগ থেকে গৌরীকুণ্ড ৫.৫/৬ কিলোমিটার।২০১৬ থেকে গৌরীকুণ্ডের হাফ্ কিলোমিটার আগে পর্যন্ত চলে লোকাল জিপ।গৌরিকুন্ড এর ৫০০ থেকে ৫৫০ মিটার যাওয়ার পর রয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকারের কাউন্টার,যেখানে ঘোড়া,ডুলি,পালকির ব্যবস্থা রয়েছে।ঘোড়ার খরচ ২৫০০/ টাকা একপিঠ। ডুলি ৪০০০/ টাকা একপিঠ।আর যারা হেলিপ্যাডে যাবেন তাদের পড়বে ৪৭৫০/ টাকা উভয় পিঠ।প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মানি রিসিট(স্লিপ) দেওয়া হয়। 

পৌরাণিক কাল থেকে কেদারনাথের উল্লেখ বিভিন্ন জায়গায়। কখনো মহাভারতে আবার কখনো দেবাদিদেব মহাদেব আর পার্বতীর বিবাহ প্রসঙ্গে-ভ্রাতৃহত‍্যার পাপস্খলনে পাণ্ডবরা এসেছিলেন কেদারধামে,আবার শোনপ্রয়াগ থেকে ৭-৭.৫ কিলোমিটার দূরে প্রাচীন মন্দির 'ত্রিযুগীনারায়নে'স্বয়ং নারায়ন কে সাক্ষী রেখে শিব পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।সেখানে রয়েছে একটি জ্বলন্ত ছোট্ট অগ্নিকুণ্ড 'অক্ষয়ধুনী'-অনন্ত কাল ধরে একইভাবে প্রজ্বলিত তার শিখা। 
গৌরীকুণ্ড থেকেই কেদারের আঁকাবাঁকা চড়াইপথের শুরু।এর ডান দিকে কুলুকুলু শব্দে প্রবাহিত মন্দাকিনীর জলধারা।২০১৩ -র ধ্বংসলীলার পর গৌরীকুণ্ড প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও এখানে থাকা উষ্ণপ্রস্রবণটি আজও প্রসারিত হয়ে মন্দাকিনী তে গিয়ে মিশেছে।ধ্বংসলীলা পারেনি তার গতিপথ রুদ্ধ করতে।২০১৩-র আগে গৌরীকুণ্ড থেকে কেদার ১৪ কিলোমিটার রাস্তা ছিল,সরকারি হিসাবে এখন তা পরিবর্তিত হয়ে প্রায় ১৭-১৮ কিলোমিটার।ঘোড়া সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গিয়ে পৌঁছায় কেদারে।সাধারণ মানুষের হেঁটে যেতে প্রায় লাগে ৬ সাড়ে ৬ ঘন্টা। 
চড়াই রাস্তায় মন্দাকিনী কে ডান পাশে নিয়ে কিছুটা যাওয়ার পর আসে চিরবাসা ভিউ পয়েন্ট।এখানে একটি হেলিপ্যাড ও আছে তবে তা সাধারণের জন্য ব্যবহৃত হয় না।এই হেলিপ্যাডের উপর দাঁড়ালে প্রকৃতির রূপ লাবণ্যে বিস্মিত হতে হয়।কখনো পাহাড় 
ছাপিয়ে কালো কাজল মাখা আকাশ,কখনো শ্বেতশুভ্র শৃঙ্গরাশির মনোহরণ রূপ।এখান থেকেই প্রথমবারের জন্য কেদার মন্দিরের পশ্চাতের বরফাবৃত শৃঙ্গের দেখা মেলে।চড়াই পথে শীতল হাওয়ায় মেঘবালিকাকে সঙ্গী করে আরো কিছুদূর যাওয়ার পর বা'হাতে পড়ে চোখ জুড়ানো মিঠাপানি ওয়াটারফল্স।জলাধারে জল মাটির অর্ধেক ভিজা অর্ধেক শুষ্ক রাখলেও দুষ্টু মিষ্টু ঘোড়ার দলের জলের মধ্যে দিয়ে গিয়ে নিজেদের আর দর্শনার্থীদের ভিজানোর মজাদার দৃশ্য দৃষ্টিগোচর হয়।সারথির তাদের আয়ত্তে আনার শতচেষ্টা বিফলে যায়। 
আরো কিছুটা যাওয়ার পর গৌরীকুণ্ড আর কেদারের প্রায় মাঝ বরাবর ভীমবালি।সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে হাজার হাজার দর্শনার্থী অক্ষয় তৃতীয়ার পূজার দিন থেকে কালীপুজোর দিন পর্যন্ত মহাদেবের প্রার্থনায় শংকরের নাম নিয়ে এগিয়ে চলেন এই পথে।এখানে তাই সরকারি চেকপোস্টের সাথে বিশ্রাম নেওয়ার চা-নাস্তার বেশকিছু দোকান রয়েছে।ধ্বংসলীলার পর এই 
ভীমবালির পর থেকেই রাস্তা পরিবর্তিত হয়ে গেছে।পুরানো পথ চলে গেছে রামবারার দিকে,যেখান থেকে কিছুটা যাওয়ার পর স্বামী রামানন্দ সন্ত আশ্রম,কিছু ধর্মশালা রয়েছে।তবে প্রকৃতির তাণ্ডবে রুদ্ধ হয়েছে যাত্রাপথ আজ রামবারার সাথে কেদারের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। 

আমরা এগিয়ে চললাম নতুন পথ ধরে।ভীমবালির এক কিলোমিটার পর রাস্তা ভাগ হয়ে গেল। মন্দাকিনী নদীর ওপর নির্মিত নতুন মেটালব্রিজ অতিক্রম করতেই মন্দাকিনী চলে এলো আমাদের বামদিকে।বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর চোখে পড়ল উত্তরাখন্ড সরকারের নির্মিত রাত্রিযাপনের কটেজ।সাথে লিনচোলি হেলিপ্যাড,লিনচোলী ভিউ পয়েন্ট।সেখান থেকে মন্দিরের পশ্চাতের পর্বত শৃঙ্গ অনেক স্পষ্ট ও বৃহৎ দেখায়।আরো ৩-৪কিলোমিটার হাঁটার পর কেদারনাথ হেলিপ্যাড।মূলত যারা সীতাপুর থেকে হেলিকপ্টারে আসেন তারা এখানে এসে নামেন।তার থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে সরকারি তরফে অস্থায়ী হাসপাতাল।সেখান থেকে ৭০০-৮০০ মিটার দূরত্বে বেশ কয়েক ধাপ সিঁড়ি ভেঙে কেদারনাথ মন্দির। 

অপূর্ব নৈসর্গিক শোভার মাঝে প্রস্তর নির্মিত সুশোভন কেদারনাথের মন্দির,যা যাত্রাপথের সমস্ত ক্লান্তি নিমেষেই মুছিয়ে দেয়।প্রশান্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে মন্দিরময়।মন্দিরপ্রাঙ্গণে বিরাজমান নন্দীদেব,বেশকিছু ত্রিশূল মন্দিরের চারপাশে।ধ্যানে নিমগ্ন সাধুসন্তের দল।পাশেই পুণ্যার্থীদের সারিবদ্ধ লাইন।তাদের কারও হাতে পূজার ডালি কেউবা মনস্কামনা পূরণে করজোড়ে দাড়িয়ে।প্রবেশ করলাম মন্দিরের ভিতর।প্রস্তরখন্ড রূপে পূজিত মহাদেবেকে স্পর্শ করে জীবনের সব গ্লানি যেন দূর হয়ে গেল।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পান্ডবদের ধরা দেবেন না বলেই তিনি মহিষ রূপ ধারণ করেছিলেন।সেই মহিষের পশ্চাৎভাগ এখানে মহাদেব রূপে পূজিত।মন্দিরের পশ্চাতে সজ্জিত ও পূজিত বিশালাকৃতির ভীমশিলা,যার জন্য ধ্বংসলীলার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল এই মন্দিরপ্রাঙ্গণ।মন্দির চত্বরে বেশকিছু বসার জায়গা,কেদার মন্দিরকে সামনে রেখে বাঁদিকে তাকালে মন্দাকিনী নদীর ওপারে পাহাড়ের গায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিস্থাপিত 'মেডিটেশন ক্যাম্প' যা লোকমুখে 'মোদি গুহা' নামেও পরিচিত। 

মন্দির চত্বরে বসে প্রাণভরে দেখলাম প্রকৃতিকে।নবারুণ আলোর নীলাকাশের প্রেক্ষাপটে একটু একটু করে অবগুণ্ঠন সরিয়ে উন্মোচিত তুষারগিরি।পড়ন্ত রোদের কিরণছটায় তার মহিমাদীপ্ত উপস্থিতি।সান্ধ্যকালীন ইলেকট্রিকের আলোয় প্রজ্বলিত মন্দিরপ্রাঙ্গণ।সন্ধ‍্যারতি শেষে কেদারের ধর্মশালায় রাত্রিযাপন।(বলে রাখা ভালো পারদ যত নিচে নামে অক্সিজেনের কিছুটা অভাব বোধ হয়)ভোরের প্রস্ফুটিত আলোয় কেদারজীকে প্রণাম জানিয়ে ফিরে আসার পালা. ......
''কতভাবে বিরাজিছ বিশ্বমাঝারে,মত্ত এ চিত তবু তর্ক বিচারে''
চিত্র সৌজন্যঃ পৃথ্বীশ ভদ্র।

ইউরোপ ভ্রমন ( ফ্রান্স -১ম পর্ব).....................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার

ইউরোপ ভ্রমন ( ফ্রান্স -১ম পর্ব).....................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার
প্রিয় শ্যালক তৌহিদ বললো দুলাভাই পর্তুগালে আর বেশি দিন নাই ইউরোপের বাইরে হয়তো অন্য কোথাও ট্রান্সফার করে দিবে সুতরাং আমি থাকতে থাকতেই পর্তুগাল বা পারলে ইউরোপের কয়েকটা দেশ ঘুরে যান। ঢাকায় তৌহিদের সাথে দেখা হলেই বলতাম তুমি শালা যেখানে যেখানে পোষ্টিং পাবে আমি সেখানে সেখানেই যাব। তোমার পিছু ছাড়বো না।ফলে তৌহিদের এই অফারটি এড়িয়ে যেতে মন চাইছিল না। বললাম ব্যবস্থা কর তোমার বুবু ভাগনে ভাগনি সহ যাব।

শেষ পর্যন্ত তৌহিদের ইনভাইটেশানে চারজনের পুরো পরিবারের সেনজেন ভিসাটা হয়েই গেল। অবশ্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফ্রান্স এ্যামবেসিতে জমা দিয়েই ভিসা পেয়েছি। তৌহিদ যেহেতু পর্তুগালে অবস্থান করছে সেহেতু ওখানেই যেতে হবে। ভাবলাম সেনজেন ভিসা পেলাম ২৭টা দেশ ঘুরতে পরবো তবে কেন শুধু একটা দেশ ঘুরবো। এবার খোঁজা শুরু হলো কোন দেশে ঘনিষ্ট স্বজন বাস করে। পেয়েও গেলাম ভাস্তেকে। আমার কাজিনের ছেলে ইটালিতে বসবাস করছে স্ত্রী ও মাকে নিয়ে। ভাস্তেকে বললাম বাবা ইটালিতে আসতে চাই কদিনের জন্য তো হোটেল ভাড়াতো অনেক পড়বে তা তোমার বাসায় কি দু একদিন থাকা যাবে? ভাস্তে রেগে গিয়ে বললো কি বলেন কাকা দু এক দিনতো থাকা যাবে না আপনাকে কমপক্ষে দশদিন থাকতে হবে।আমিতো আপ্লুত। বললাম ভিসা পেয়েছি ৩০ দিনের শুধু ইটালিতে দশ দিন থাকলেতো হবে না। ভাস্তে বললো আগে আসেনতো তারপর দেখা যাক।
তৌহিদকে বলতেই সে বললো যেখানেই যান পর্তুগালে ১৫ দিন থাকতে হবে। এবার ভাবলাম তাহলে রওনা দেই প্রথমে ইটালি পরে পর্তুগাল।আমার বন্ধুবর শাহিদুলের ট্রাভেল এজেন্সি সিটিকম ট্রাভেলে যেয়ে টিকেট কিনলাম। শাহিদ ভাই সর্বোচ্চ ডিসকাউন্টে টিকেটের ব্যবস্থা করলো। টিকেট আনতে গেলে শাহিদ ভাইয়ের স্টাফ বললো এখন নিয়ম হয়েছে যে দেশের এ্যাম্বেসি থেকে ভিসা নিবেন সেই দেশ হয়ে অন্যদেশে যেতে পারবেন। শ্যালককে জিজ্ঞেস করতেই সে বললো না এমন কোন নিয়ম নেই। কিন্তু স্টাফ ভদ্রলোক অনড় । 

সেদিন শাহিদ অফিসে ছিল না। তো কি করা প্রায় একই মুল্যে প্যারিস হয়ে যেতে পারছি তাছাড়া আমার মেয়ে আরশীর প্রচন্ড ইচ্ছা প্যারিস দেখা আমারও ইচ্ছে তাই তো কেটে ফেললাম সামান্য কয়েকটা টাকা বেশি দিয়ে। রিটার্ন টিকেট নিলাম ঢাকা- প্যারিস, লিসবন -ঢাকা। এখন খোঁজা শুরু হলো ফ্রান্সে পরিচিত আত্মীয় কে আছে পেয়েও গেলাম আমার ভায়রা আরাফাতের ছোট কাকা মি.আনোয়ার ওখানে বাস করছে টানা দশ বছর। ফেসবুকে তাঁকে খুঁজে এড করে কথা বলা শুরু করলাম।আরাফাত বলেছিল অসাধারন ভাল মানুষ কথা বলে দেখলাম ভালোর সাথে অসাধারন আন্তরিকও। ভিসা পাবার পর থেকেই ফ্রান্সে আনোয়ার কাকা ইটালিতে সজীবের সাথে প্রতিদিনই ম্যাসেঞ্জারে কথা চলছে অবিরত আর তৌহিদের সাথে যখন তখন। যেহেতু প্যারিসে প্রথমেই যাব তাই আনোয়ার কাকাকে হোটেল বুকিং দিতে বললাম। প্যারিসে আনোয়ার কাকা ও কয়েকজন যুবক মিলে এক ফ্লাট ভাড়া করে বসবাস করে।ফলে আমাদের জন্য হোটেল ঠিক করলেন। 
তবুও আমি একটু আশন্কায় ছিলাম যদি হোটেল ঠিকমত না মেলে মহা বিপদে পড়ে যাব।আনোয়ার কাকা আমাকে আশ্বস্ত করলেন। আমরা ২০ আগষ্ট টার্কিশ এয়ারে রওনা দিলাম। ঢাকা এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন পার হয়ে বোর্ডিং পাস নিয়ে অপেক্ষা করছি কখন প্লেনে উঠবো। ভোর পাঁচটায় প্লেনে উঠলাম প্লেন উড়লো ঠিক ছটা কুড়িতে। সিটে বসতেই আনান ঘুমিয়ে পড়লো।ছেলাটা গতরাতে একটুও ঘুমায়নি।আমরা কেউই ঘুমাইনি কিন্ত ওতো মাত্র আট বছরের ছেলে।উনিশ তারিখ রাত সাড়ে বারটায় বাসা থেকে বের হয়েছি ভ্রমনের উত্তেজনায় সারাদিন সারারাত ব্যস্ততার মধ্যে কেটে গেছে এখন সবাই গা এলিয়ে দিয়ে সিটে বসলো।সিট বেল্ট বেধে বসতেই প্লেন ছেড়ে দিল। একটু পর আকাশে উড়লো। জানালা দিয়ে দেখলাম নীচের বাড়ি ঘর ছোট ছোট কাগজের বক্সের মত। সামনের সিটের পেছনে আমার সামনে স্ক্রিনে দেখলাম সাত হাজার মিটার উপরে আছি। একটা সো সো আওয়াজ পাচ্ছি কানে। ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পড়লাম।একটু পর মেয়েলি কন্ঠে ইংরেজীতে কিছু কথা শুনে ঘুম ভাংলো। দেখি এয়ার হোস্টেস খাবার নিয়ে এসেছে।তাড়াতাড়ি সামনে ভাজ করে রাখা ট্রেটা মেললাম এয়ার হোস্টেস খাবারের প্যাকেট রেখে মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেল। প্যাকেট খুলে হাইজেনিক খাবার দেখে মনটা ভরে গেল। খাওয়ার পর জুস খেলাম। খানিকটা পর কফি খেয়ে ঘুম। ঘন্টা চারেক পর আবার হালকা নাস্তা ও কফি খেলাম। স্থানীয় সময় চারটায় প্লেন ইস্তান্বুলে ল্যান্ড করলো। ছটা থেকে চারটা মোট দশ ঘন্টা প্লেন উড়েছে মনে হলেও আসলে সাত ঘন্টা উড়েছে। বাংলাদেশের সাথে তুরুস্কের সময়ের পার্থক্য তিন ঘন্টা এবং আটোমেটিকভাবে সময় এ্যাডজাস্ট হয়ে যায় বিশেষ করে মোবাইলে ও প্লেনের ঘড়িতে। ইস্তাম্বুলে চার ঘন্টা ট্রানজিট। ভিতরেই বসে থাকলাম। প্যারিসের প্লেন কত নাম্বার প্যাসেজ ওয়ে থেকে ছাড়বে জেনে নিয়ে লাউঞ্জে বসলাম।

এরপর আমি আর আনান ঘুরে ঘুরে সমস্ত এয়ারপোর্ট দেখলাম তারপর আমরা হ্যান্ড ব্যাগগুলো পাহারা দিলাম আর ডলি আরশী এয়ারপোর্ট ঘুরে দেখলো। বিশাল বড় এয়ারপোর্ট প্লেনের অভাব নেই যাত্রীরও অভাব নেই। এত যাত্রী তবুও হৈচৈ কম। ঠিক চার ঘন্টা পর প্যারিসের পথে বদলি প্লেন ছাড়লো। আবার প্লেনের ভিতর হোস্টেসের দেওয়া খাবার খেয়ে ঘুম।স্থানীয় সময় ছটা ত্রিশ মিনিটে প্যারিস সিডিজি এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেলাম।ধীরে ধীরে প্লেন থেকে নেমে এয়ারপোর্টের বাসে উঠে চলে এলাম এক্সিট এরিয়ায়। সবচেয়ে অবাক লাগলো সারা এয়ারপোর্টে ইংরেজি লেখা নেই। ইংরেজি অক্ষরে ফ্রেন্স ল্যাঙ্গুয়েজ।শুধু এ্যারো চিহ্ন দেখে বের হলাম। এ্যারো চিহ্নের পাসে লেখা sorte পরে শুনেছি sorte অর্থ বাহির। ভিজিটর এলাকায় এসে দেখি আনোয়ার কাকা দাড়িয়ে সাথে আরো একজন। দেখে বুকের ভেতর আশ্বাসের চাঁদরটা লম্বা হয়ে গেল। আনোয়ার কাকার সাথে এই প্রথম সরাসরি দেখা এর আগে শুধুমাত্র মোবাইলে কথা ও দেখা হয়েছে।আনোয়ার কাকা জড়িয়ে ধরলো ও পাসের যুবকটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিল ও রতন। ওঁদের পাসে দেখি আরো দুজন দাড়িয়ে সামনে এসে পরিচয় দিল সে নির্ঝর অধিকারী ফ্রান্সে বাংলাদেশ দুতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি তৌহিদের কলিগ। আমার স্ত্রীকে চেনে ওঁর সাথে কথা বললো। নির্ঝর অধিকারী মোটর কার নিয়ে এসেছে। নির্ঝরের একটা বড় প্যাকেট ঢাকা থেকে আমরা নিয়ে এসেছি যার মধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলা নববর্ষ পালনের সরঞ্জাম ছিল। ওঁর গাড়িতে লাগেস সহ আমি আনোয়ার কাকা বাদে সবাইকে উঠিয়ে দিলাম। আমরা দুজনে মেট্রো রেলে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। মেট্রো রেলের কথা অনেক শুনেছি এবার চড়লাম।সে এক অন্যরকম অনুভুতি।

চলবে.…...।

দিনমানে দরিয়ায়..................সেমন্তী ঘোষ

দিনমানে দরিয়ায়..................সেমন্তী ঘোষ
শ্চর্য সৌন্দর্য আর বৈচিত্র্যে ভরা অথৈ-নীলের অপার সাগরবেলা প্রত্যেকবারই হৃদয়ের আঙিনায় প্রশান্তির ঢেউ তোলে।কখনো তার উত্তাল সৃষ্টির শৈল্পিক আদল আবার কখনো বা বিপুল বিশালতার মাঝে প্রাণবন্ত নির্মল রূপ। নারিকেল বীথিকায় ছাওয়া রূপালী বালুকাবেলায় কেরালার কোভালাম জলনিধি তেমনি এক শান্ত সমাহিত রুপমুগ্ধতা নিয়ে অভিসারী মনে কল্পকাহিনী রচনা করে। ভারতের দক্ষিণ ভাগের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত কেরালা রাজ্যের, তিরুবনন্তপুরম জেলার দক্ষিণ ভাগের একটি কোস্টাল অঞ্চল কোভালাম। মূলত হাওয়া বিচ ও সমুদ্র বিচ এই দুটির একত্রিত নাম কোভালাম বিচ।শালিমার থেকে ত্রিবান্দম সাপ্তাহিক দুদিন ট্রেন চলাচল করে এছাড়াও হাওড়া থেকে চেন্নাই পৌঁছাতে পারেন করমন্ডল এক্সপ্রেস করে। সেখান থেকে ত্রিবান্দম।রেল স্টেশন বা শহর থেকে কোভালামের দূরত্ব আনুমানিক ১৪ কিলোমিটার। যারা বিমানে আসবেন কলকাতা থেকে ত্রিবান্দম এয়ারপোর্ট -সেখান থেকে দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার।
ছায়াসুনিবিড় বেলাভূমির শান্ত প্রশস্থ রূপের মাঝে ব্ল্যাক স‍্যান্ড -কালো বালির সাথে নীল জলরাশির স্বর্ণালী মেলবন্ধন। বিচ টিকে বেষ্টন করে রয়েছে সাধারন থেকে উচ্চতম মানের বিভিন্ন হোটেলাদি।সমুদ্রের জলের মোহিত করা রূপ।সারাদিনই চোখে পড়ল মৎস্যজীবীদের অবাধ আনাগোনা। গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরে নৌকায় প্রত্যাগমনের মনোরম দৃশ্য। বিচের মাঝ বরাবর দ্বীপে Vizhinjam jama Masjid। বিচের উত্তর প্রান্ত ধরে হাঁটলে লাইটহাউস।
নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে সুউচ্চ বাতিঘরের ওপর থেকে নীলকান্ত কোভালামের নীলাভ অনুভূতির মনকাড়া দৃশ্য।এর থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার দূরে সামুদ্রা মেরিন একুরিয়াম এর অবস্থান।চারিদিকে ঘুরে এসে সমুদ্র সৈকতে বসে উপলব্ধি করলাম ২০১৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন কর্তৃক এটির পৃথিবীর সুন্দরতম বিচের মধ্যে একটির সম্মান পাওয়ার কারণ,এই দৃষ্টিনন্দন মোহিত রূপ আর ঢেউয়ের খেলা। শান্ত -অনুগত ঢেউ। বিচের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের জন্য চোরাবালি বা গভীর খাদ এখানে নেই। তাই সুখের ছোঁয়া লাগে ঢেউয়ের দোলায়। খুব বড় ঢেউ না হওয়ার জন্য ভাসিয়ে বা ডুবিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ও থাকে না। জলকেলিতে ভরে ওঠে মন ও প্রাণ। নেত্র পল্লবে সুদূরের মায়াঞ্জন।নীল নির্জন বালুচরে সমুদ্রের অসীম জলরাশি যেন কালো বালির বুকে আল্পনা এঁকে দিয়ে যাচ্ছে।
তরঙ্গের নৃত্যচপল ভঙ্গীর বিচিত্র লীলারঙ্গ।প্রাত্যহিক ক্লান্তিময় শহুরে জীবন থেকে দূরে নিস্তব্ধতার মাঝে ঢেউয়ের তালে পৃথিবী যেন তার আপন সৌন্দর্য বিছিয়ে রেখেছে এখানে।রূপমাধুরীর সেই অমোঘ আকর্ষণে স্নিগ্ধ বাতাস অনির্বচনীয় নির্জনতা মুখর হয়ে উঠেছে। অনাদি অনন্ত সৌন্দর্যের রূপবৈভব দেখতে দেখতে সূর্যের ধীরে ধীরে সমুদ্র শায়ন।শেষ বিকেলের আলোর গোধূলিলগ্নে পশ্চিম কোলে সূর্যের ঢলে পড়ায় আবির রাঙা আকাশের রেশ। সমুদ্রের নীল রং কালো বালি সূর্যের আভায় এক মায়াময় জগতের সৃষ্টি। ক্ষণে ক্ষণে রঙ পরিবর্তন।কখনো আবির রাঙালাল,কখনো কমলা,আবার কখনো হালকা লাল। তবুও কিছু আলো যেন অবশিষ্ট রয়ে গেল ঈশান কোণে জমা হওয়া পুঞ্জীভূত মেঘের মতো। সিঁদুর রাঙা অস্তগামী সূর্যের রক্তিম হাসিতে গোধূলিবেলার ঝিরঝিরে সমীরণে প্রণয়ভিসারী হয়ে উঠল মন। হোটেলে ফিরে গিয়ে সেই রাত্রিটা এক মুঠো সুখ স্মৃতিকে অবলম্বন করে হোটেলেই কেটে গেল। নবপ্রভাতে প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচনের সাথে সূর্যোদয় দেখে আবার একই পথ ধরে ফিরে এলাম কলকাতায় . ..... তবুও চোখে লেগে থাকল সেই কদিনের সমুদ্রসৈকতের মাধুর্য.......
দিগন্তের বালুকাবেলায় উত্তাল হওয়া
অচেতন মনে তার রোজ আসা যাওয়া...

চিত্র :পৃথ্বীশ ভদ্র