Showing posts with label মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন. Show all posts
Showing posts with label মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন. Show all posts

শিরোনামহীন পর্ব ২................মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন

শিরোনামহীন  পর্ব ২................মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন
ব্দুর রহমান সা‌হেব বন্দী পাক চৌ‌কি‌তে। গত তিন দি‌নে তাঁর ওপর দি‌য়ে অমানু‌ষিক নির্যাতনের ষ্টিম রোলার চ‌লে‌ছে। শারী‌রিকভা‌বে ভীষণ ক্লান্ত তি‌নি। প্রচন্ড ঘুম পা‌চ্ছে কিন্তু শরী‌রের ব্যথায় ঘুমা‌তেও পার‌ছেন না। তারপরও সন্ধ্যার পর থে‌কেই ঘু‌মের ভান ক‌রে রূ‌মের এক কোণায় মে‌ঝে‌তে শু‌য়ে আছেন আর স্ত্রী সন্তা‌নের জন্য দু‌শ্চিন্তা কর‌ছেন। রাত ১১টার পর চারদিকের সব আলো নি‌ভি‌য়ে দেয়া হ‌লো। 
অন্ধকারের ম‌ধ্যেও তি‌নি প‌রিষ্কার দেখ‌তে পা‌চ্ছেন দু'জন সিপাহী পাহারা দি‌চ্ছে। হঠাৎ লক্ষ্য কর‌লেন, তারা ফিস‌ফিস ক‌রে পরষ্পর কথা বল‌ছে। তি‌নি কান খাড়া কর‌লেন, এখন শুন‌তে পা‌চ্ছেন কিন্তু বুঝ‌তে পার‌ছেন না। চার‌দি‌কে তা‌কি‌য়ে নি‌শ্চিত হ‌য়ে নি‌লেন যে, আপাতত আলো জ্বলার সম্ভাবনা নাই। 
এবার উঠে পা টি‌পে টি‌পে এগু‌তে লাগ‌লেন গেটের দি‌কে। হ্যাঁ, এখন প‌রিষ্কার বুঝ‌তে পার‌ছেন তি‌নি। 
১ম ব্যক্তিঃ অপা‌রেশান শুরু হোয়া। ইন সাব‌কো মি‌ত্তি‌কে সাথ পিছাল দো।
২য় ব্যক্তিঃ হামা‌রে সাথ কন্স‌পি‌রেসী? ইতনা বড়া হিম্মত হো তোম কেহ‌তে হো, এবা‌র কো সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। দে‌খো আভি কিত‌নে মজা! আভি পি‌ঞ্জি‌রে মে ছাড়‌তে রা‌হো।
১ম ব্যক্তিঃ আজ এক অফিসার কো কেহ‌তে শুনা কি কালুরঘাট‌সে আজাদী কি এলান কিয়া। শালা, বাঙ্গালী কো মালুম নে‌হি কি পাক আর্মি কেয়া চিজ হ্যায়।
২য় ব্যক্তিঃ শুনা‌য়ে কি কাল এক বকরা কা ব‌লিদান হোগা। বকুল মোল্লাসে এক বিরাট বা‌হিনী বানা‌নে কা কাম শুরু হোয়া।
যা বুঝার আব্দুর রহমান সা‌হে‌বের বুঝা হ‌য়ে গে‌ছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নি‌লেন, মৃত্যু তো নি‌শ্চিতই। দেখা যাক চেষ্টা ক‌রে কিছু করা যায় কিনা। অন্ততপ‌ক্ষে যে ভয়াবহ ষড়য‌ন্ত্রের কথা তি‌নি জান‌তে পে‌রে‌ছেন তা স্থানীয় লিডার‌দের‌কে জানা‌নো দরকার। আর য‌দি কো‌নোভা‌বে বা‌পের ব্যাটা মেজ‌রের সা‌থে সাক্ষাৎ করা যায় তাহ‌লে সব খু‌লে বল‌তে হ‌বে। 

তাঁর মন বল‌ছে এবার কিছু একটা হ‌বেই। মাত্র ক‌য়েক‌দিন আগেই বঙ্গবন্ধু সকল‌কে যার যা আছে তা নি‌য়ে প্রস্তুত হ‌তে ব‌লে‌ছেন। কিন্তু অস্ত্র ছাড়া ঘ‌টি বা‌টি দি‌য়ে তো আর যুদ্ধ হয় না। এবার যে‌হেতু আর্মির একজন মেজর ঘোষণা দি‌য়ে‌ছেন কা‌জেই কিছু একটা নি‌শ্চিত হ‌বে। এখন বা‌কি শুধু সকলে একত্র হওয়া। 
‌তি‌নি ঘ‌রের কোণায় ফি‌রে গে‌লেন। সেখান থে‌কে সিপাহীকে ফিস‌ফি‌সি‌য়ে ডাক‌তে ডাক‌তে এগি‌য়ে এলেন সাম‌নে। বল‌লেন, বাথরূ‌মে যাওয়া প্র‌য়োজন। একজন মুখ ভেং‌চি‌য়ে ঘ‌রের ম‌ধ্যেই কাজ সার‌তে বল‌লেন। তি‌নি কাতরভা‌বে বুঝা‌তে লাগ‌লেন, এটা তার অভ্যাস নাই। অব‌শে‌ষে অন্যজন গেট খু‌লে তা‌কে বাথরূ‌মে যে‌তে দি‌লো আর বলল, কাজ সে‌রে দ্রুত ফির‌তে। 
‌তি‌নি ভেত‌রে ঢু‌কেই আল্লাহর নাম নি‌য়ে ভে‌ন্টি‌লেট‌রে হাত দি‌লেন। সময় অল্প, খুব দ্রুত কাজ সার‌তে হবে। নতুবা একটু প‌রেই দরজায় ধাক্কাধা‌ক্কি শুরু হ‌বে। 
পুর‌নো বি‌ল্ডিং। একটু চাঁড়া দি‌তেই ভে‌ন্টি‌লেট‌রের বড় জানালাটা খু‌লে গে‌লো। কাকতালীয়ভা‌বে তা এতো দ্রুত হ‌লো যে, তি‌নি কিছুটা ভড়‌কেই গে‌লেন। আস্তে ক‌রে জানালার ভার সাম‌লে তা নি‌চে না‌মি‌য়ে রেখে বের হ‌য়ে পড়‌লেন খুব সাবধা‌নে।
একবার শুধু পেছন ফি‌রে দেখ‌লেন। আবছা আলোয় যা দেখা যায় তা দি‌য়ে দে‌খে অনেকটা হামাগু‌ড়ি দেয়ার ম‌তো ক‌রে দ্রুত দৌড় দি‌লেন বাগা‌নের পা‌শে দি‌য়ে। ধরা পড়ার ভ‌য়ে রাস্তা এড়ি‌য়ে চল‌লেন তি‌নি।
মূল গে‌টের কাছাকা‌ছি এসে দেখ‌তে পে‌লেন দু'জন বিশালদেহী সিপাহী ভারী অস্ত্র হা‌তে পাহারা দি‌চ্ছে। চেহারা দে‌খেই অনুমান কর‌লেন, এরা বেলুচ রে‌জি‌মে‌ন্টের হ‌বে। বেলুচরা সাধারণত পাঠান‌দের চে‌য়ে দূর্ধর্ষ হয়। 
‌সেখান থে‌কে কিছুটা বাঁক ঘু‌রে একটা বড় ড্রে‌নের সাম‌নে গি‌য়ে হা‌জির হ‌লেন। খেয়াল ক‌রে দেখ‌লেন ড্রেনটা সাম‌নের পাঁ‌চিলটা ভেদ ক‌রে বে‌রি‌য়ে গে‌ছে বাই‌রে। নে‌মে পড়‌লেন ড্রে‌নে খুব সাবধা‌নে। আস্তে আস্তে হামাগু‌ড়ি দি‌য়ে এগু‌তে লাগ‌লেন। বিশ্রী দূর্গ‌ন্ধে ব‌মি আস‌তে চা‌চ্ছিল কিন্তু পে‌টে কিছু থাক‌লে তো! গত তিন‌দিন পে‌টে তেমন কিছু প‌ড়ে‌নি। বাঙ্গালী মানুষ, সারা‌দি‌নে দুইপিস রু‌টি আর এক দলা গুড় খে‌য়ে কি চল‌তে পা‌রে?
অব‌শে‌ষে পাঁ‌চিলটা পে‌রি‌য়ে বাই‌রে এসে যে‌নো হাঁফ ছাড়‌লেন। কিন্তু এখনই ওপরে ওঠা যা‌বে না। এখনও ঝুঁ‌কি আছে। মূল গেটটা এখান থেকে কা‌ছেই। সুতরাং, আরো কিছু দূর যাবার পর ড্রেন থে‌কে বের হ‌তে হ‌বে।
‌কিছুটা এগি‌য়ে‌ছেন, হঠাৎ পা‌য়ে কিছু একটা ধাক্কা লাগা‌তে শব্দ হ‌য়ে‌ছে। মাথা তু‌লে দেখ‌লেন, একজন সিপাহী এদি‌কে তাকি‌য়ে‌ছে। ভয় পে‌য়ে গে‌লেন। দেখ‌লেন, ঐ সিপাহী পা‌শের সিপাহী‌কে কিছু একটা ব‌লে এদি‌কেই আস‌ছে। এবার তো দম বন্ধ হবার পালা। চিন্তা কর‌ছেন উ‌ঠে দৌড় দি‌বেন কিনা। কিন্তু সেটা কর‌তে গে‌লে তো এক গু‌লি‌তেই ঝাঁঝড়া। সিদ্ধান্ত নি‌লেন দম বন্ধ ক‌রে ব‌সেই থাক‌বেন শেষ দেখার জন্য। সিপাহীটা দ্রুত এগি‌য়ে এলো একদম কাছাকা‌ছি। এবার কাঁধ থে‌কে অস্ত্র না‌মি‌য়ে হা‌তে নি‌য়ে‌ছে।

শিরোনামহীন...............মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন

শিরোনামহীন...............মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন
কাশ চৌধুরী। টগব‌গে গ্রাম্য যুবক। স‌বে কিছু‌দিন হ‌লো এইচএস‌সি পাশ ক‌রে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‌লোকপ্রশাসন বিভা‌গে ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছে। ক্লা‌সের সক‌লের সা‌থেই তার সুন্দর বন্ধুত্ব। তার স্কুল জীব‌নের বন্ধু জাফরও একই বিভা‌গে ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছে। কিন্তু সে অন্তর্মুখী স্বভা‌বের। কা‌ছের বন্ধু-বান্ধব ছাড়া বে‌শি মানু‌ষের সা‌থে সে মিশ‌তে পা‌রে না। কোথা থে‌কে যে‌নো একটা আড়ষ্টতা ভাব এসে তার গলা চে‌পে ধ‌রে। চাইলেও স্বাভা‌বিক হ‌তে পা‌রে না।
যখন দে‌খে আকাশ সক‌লের সা‌থে খুব সুন্দরভা‌বে বন্ধুত্ব কর‌ছে তখন সে খুব কষ্ট পায়। মা‌ঝে মা‌ঝে বন্ধু‌কে হিংসেও কর‌তে থা‌কে। বি‌শেষ ক‌রে যখন আকাশ‌কে মে‌য়ে‌দের স‌ঙ্গে কথা বল‌তে দে‌খে।
তা‌দেরই এক ক্লাস‌মেট, অধরা। ঢাকার অভিজাত এলাকায় বসবাস। দেখ‌তে যেমন সুন্দরী তেমনই আকর্ষণীয়া। টাকাওয়ালা বাবার আদ‌রের দুলালী। ব‌খে এখনও যায়‌নি ত‌বে উচ্চমাত্রার পাঙ্কু। পা‌জে‌রো‌তে চ‌ড়ে ক্যাম্পা‌সে আসে। বন্ধু-বান্ধব‌দের সা‌থে খুব সদ্ভাব, আচর‌ণে ম‌নেই হ‌বে না যে, তার বাবা দে‌শের প্রতি‌ষ্ঠিত অন্যতম একটা গ্রুপ অব কোম্পানীর ম্যা‌নে‌জিং ডাইরেক্টর।

ক্যাম্পাস অনেক‌দিন থে‌কেই শান্ত আছে। ক্লাসগুলোও চল‌ছে একদম ঘ‌ড়ির কাঁটা ধ‌রে। পড়াশুনা এগুচ্ছে, ওদের সক‌লের বন্ধুত্বও গাঢ় হ‌চ্ছে সম‌য়ের সা‌থে পাল্লা দি‌য়ে। 
আকাশ ক্লাস শে‌ষে লাইব্রেরী‌তে গি‌য়ে পড়াশুনা ক‌রে। তার লক্ষ্য একটাই, তা‌কে স‌ত্যিকা‌রের মানুষ হ‌তে হ‌বে। মা'র দেখা স্বপ্ন‌কে বাস্ত‌বে রূপ দি‌তে পারলেই না নি‌জে‌কে যোগ্য সন্তান ব‌লে ম‌নে হ‌বে। বাবা'র কথা তেমন একটা ম‌নে প‌ড়ে না। যখনই বাবা‌কে নি‌য়ে কিছু ভাব‌তে যায় কেবল অস্পষ্ট কিছু স্মৃ‌তি আর মা'র কা‌ছে শোনা গল্পগু‌লো যে‌নো জীবন্ত প্র‌তিক হ‌য়ে চো‌খে ভা‌সে।
তার ম‌তো তার বাবাও ছি‌লেন এক সন্তান। আকা‌শের বয়স যখন তিন বছর তখন চার‌দি‌কে শুরু হ‌লো গন্ড‌গোল! মা'র কা‌ছে আকাশ এমনই শু‌নে‌ছিল। এখনও কিছুটা ম‌নে কর‌তে পা‌রে গ্রা‌মে অনেক‌কেই বল‌তে শু‌নে‌ছে দে‌শে না‌কি গন্ড‌গোল হ‌য়ে‌ছিল। বড় হ‌য়ে আকাশ এখন মেলা‌তে পা‌রে না মানুষ কে‌নো এত বড় একটা ঘটনাকে গন্ড‌গোল না‌মের ছোট্ট একটা শ‌ব্দের ম‌ধ্যে সীমাবদ্ধ রাখ‌তে চায়। একটা শো‌ষিত ও ব‌ঞ্চিত জা‌তির মু‌ক্তির চেষ্টা‌কে কখ‌নো গন্ড‌গোল না‌মের শ‌ব্দের ম‌ধ্যে আট‌কে রাখা রী‌তিমত শহীদ‌দের আত্মার সা‌থে চরম বেঈমানী ম‌নে হয়।

আকাশ এ স‌বের অনেক কিছুই মে‌নে নি‌তে পা‌রে না। ছোট‌বেলা থে‌কেই সে মা'র কা‌ছে শি‌খে‌ছে ধর্ম ছাড়া কর্ম হয় না। সেও যথাসাধ্য চেষ্টা ক‌রে শরীয়‌তের বি‌ধি‌বিধান মে‌নে চল‌তে। সারা‌দিন ক্লাস, লাই‌ব্রেরী ওয়ার্ক, বন্ধু-বান্ধব‌দের সা‌থে কিছু সময় খোশগল্প অথচ এর মা‌ঝেও পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামা‌তে আদা‌য়ে তার কো‌নো গা‌ফিল‌তি হয় না। এজন্য তা‌কে অনে‌কেই পছন্দ ক‌রে ও ভা‌লোবা‌সে। 
এক‌দিন ‌সে লাই‌ব্রেরী‌তে ব‌সে ‌কিছু জরুরী পড়া নোট কর‌ছিল। হঠাৎ ক‌রে কে‌নো জানি, বাবার স্মৃ‌তি এসে উঁকি দি‌তে শুরু করল। মা'র কা‌ছে শুনা গল্প কিছুটা আবছা স্মৃ‌তি। 
২৫ মা‌র্চের কা‌লোরা‌তের পর‌দিন ২৬ তা‌রি‌খেই তার বাবা আব্দুর রহমান সা‌হেব‌কে গ্রেফতার ক‌রে পাকবা‌হিনী। তি‌নি সরকারী চাকুরী কর‌তেন। গতরা‌তের ভয়াবহ ঘটনা‌কে তি‌নি মে‌নে পার‌ছি‌লেন না। সকা‌লে অফি‌সে সহকর্মী‌দের সা‌থে সেসব আলোচনা কর‌ছেন। চার‌দি‌কে থমথ‌মে অবস্থা। কখন কি হয় বলা যায় না, সক‌লেই আতঙ্কিত। 
তাঁরই এক সহকর্মী বকুল মোল্লা, যি‌নি তাঁকে হিংসা কর‌তেন, সময় সু‌যোগ পে‌লেই তাঁর নামে ক‌ল্পিত রটনা রটা‌তেন, তি‌নি গতরা‌তের ঘটনা‌কে সমর্থন ক‌রে দু'চারটা কথা বল‌লেন। ভ‌য়ে কেউ প্র‌তিবাদ কর‌তে না পার‌লেও আব্দুর রহমান সা‌হেব তা সহ্য কর‌তে পার‌লেন না। তি‌নি বল‌লেন, নিরীহ, নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানু‌ষের ওপর হামলা শুধু পশুরাই কর‌তে পা‌রে। য‌দি কো‌নো মানুষ ক‌রে, তাহ‌লে তা‌কে কাপুরুষ বল‌লে প্রকৃত কাপুরুষরা লজ্জা পায়। কেননা এটা তা‌দের চে‌য়েও নিকৃষ্ট কাজ। এরপর কিছু বাদানুবাদ, অব‌শে‌ষে অন্য সহকর্মী‌দের মধ্যস্থতায় তখনকার ম‌তো সমাধান।

প‌রে তি‌নি জে‌নে‌ছি‌লেন, বকুল মোল্লা ঐদিনই পাকবা‌হিনীর এক হা‌বিলদা‌রের কা‌ছে সংবাদটা পৌঁ‌ছে দি‌য়ে‌ছি‌লেন আর তার প্রে‌ক্ষি‌তে সন্ধ্যায় তা‌কে বা‌ড়ি থে‌কে টে‌নে-‌হিঁচ‌ড়ে নি‌য়ে যায় হানাদার বা‌হিনী।
গ্রেফতা‌রের তিন দিন পর। গভীর রাত........(চলবে)

মুনতাহার মন ভালো হয়ে গেল...................মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন

মুনতাহার মন ভালো হয়ে গেল...................মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন
মুনতাহা ক্লাস থ্রি-তে পড়ে। খুব মেধাবী ছাত্রী। ক্লাসে কেউই তার সাথে পড়াশুনায় পারে না। এজন্য যারা তার সাথে প্রতিযোগিতায় পারে না তারা মনে মনে খুব হিংসে করে। কিন্তু হিংসে করলে কী হবে? মুনতাহার সাথে কেউ কোনো খারাপ আচরণ করতে পারে না। কারণ মুনতাহা শুধু মেধাবীই নয় বরং তার রয়েছে অপূর্ব এক গুণ।
সে খুব সহজেই যে কোনো কাউকে বন্ধু বানিয়ে নিতে পারে। কারো সাথে কখনো ঝগড়া-বিবাদ করে না। কোনো সহপাঠী পড়া জিজ্ঞেস করলে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেয়। এসব কারণে শুধু তার সহপাঠীরাই নয় বরং তার শিক্ষকরাও তাকে খুব স্নেহ করেন, অনেক সময় বাড়তি যত্নও নেন।
মুনতাহা তার বাবা, মা, চাচা, চাচী এবং তার চেয়ে যারা বড় তাদের সকলকেই খুব সম্মান করে আর যারা তার ছোট তাদের প্রতি রয়েছে তার এক সহজাত স্নেহপ্রবণ মন।
এতকিছুর পরেও কিন্তু মুনতাহার ভেতরে রয়েছে আলাদা একটি বিষয়। তা হলো, সে যে কোনো কিছুতেই খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়। যেমন, যদি তার মনের মতো কোনো কিছু হয়ে যায় তাহলে সে যেমন আহলাদে আটখানা হয়ে যায় ঠিক তেমনি তার বিপরীত হলে মন বিষন্নতায় ভরে যায়।
এই যেমন ধরো, যখন স্কুলে পরীক্ষা চলে তখন তার মধ্যে একটা ভীতি কাজ করে। সারাক্ষণ মনে হয়, যদি পরীক্ষায় নাম্বার কম পাই, যদি ক্লাসে সেকেন্ড হয়ে যাই কিংবা যদি পরীক্ষার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি। এজন্য সব সময়ই সে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ে। অহেতুক কোনো সময় নষ্ট করে না। এই এতো অল্প বয়সেও সে ক্লাসের পড়া সব শেষ না করে কখনো খেতে বসে না কিংবা ঘুমাতে যায় না। এ রকম দুশ্চিন্তার কারণে অনেক সময় তার পড়াশুনায় মন বসাতে খুব কষ্ট হয়। আবার অনেক সময় সে পরীক্ষায় জানা উত্তরও ভুল লিখে চলে আসে।
যদি এমন কোনো বিষয় আসে যা মুনতাহা করতে পারছে না বা সে যেভাবে চাচ্ছে সেভাবে ঘটছে না তখন তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, বিষন্নতা পেয়ে বসে, সে হতাশ হয়ে পড়ে। সে করতে পারছে না কিংবা যেভাবে চাচ্ছে সেভাবে হচ্ছে না বলেই তার মেজাজ বিগড়ে যায়।
একদিন সে খুব খুশি হয়ে এক রকম নাচতে নাচতেই স্কুল থেকে বাসায় ফিরলো। তাকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো ব্যাপারে ভেতরে ভেতরে সে খুব উত্তেজিত। যখন সে বাসায় ফিরলো, তখন তার মা রান্না ঘরে বিকালের নাস্তা তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন। সে বাসায় ঢুকেই গড়গড় করে বলতে শুরু করলো, জানো মা, আগামী শুক্রবারে আমরা সকলে স্কুল থেকে পিকনিকে যাবো। খুব মজার মজার খাবার থাকবে। সারাদিন আমরা অনেক খেলবো - লুকোচুরি, কানামাছি, লুডু ইত্যাদি। আমাদের মধ্যে যারা গান জানে, তারা গান গাইবে। আমাদের টিচাররাও নাকি গান শুনাবেন। খুব মজা হবে তাই না, মা?
হ্যাঁ, তাই তো মনে হচ্ছে। এ রকম হলে তো বেশ মজাই হবে। ঠিক আছে, স্কুল থেকে এসেছো, এখন হাত মুখ ওয়াশ করে নাস্তা খেয়ে পড়তে বসো। তাড়াতাড়ি হোম-ওয়ার্ক শেষ করতে হবে।
মুনতাহা মা’র নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে শুরু করলো। ড্রেস চেঞ্জ করে হাত মুখ ওয়াশ করে পড়তে বসলো। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে খুব উত্তেজিত। মনে মনে চিন্তা করতে লাগলো, আগামী শুক্রবারে কতোই না মজা করবে তারা। এমন সময় হঠাৎই তার মন থেকে খুশির ভাব দূর হয়ে দুশ্চিন্তা এসে ভর করলো। তার মনে হলো, ‘যদি আমি শুক্রবারের আগে অসুস্থ হয়ে পড়ি? তাহলে তো আর আমি পিকনিকে যেতে পারবো না। সারাদিন আমাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে আর আমার বন্ধুরা সব কতো মজা করবে, খেলবে, ফড়িং ধরবে।’
রাতের খাবারের কিছু আগে মুনতাহা’র বাবা সানাউল্লাহ অফিস থেকে ফিরলেন। তিনি ফ্রেস হবার পর মুনতাহা’র মা লোপা সকলকে খাবার জন্য ডাইনিং টেবিলে ডাকলেন। তারা সকলে একত্রে খেতে বসলো। কিন্তু মুনতাহা একদম চুপচাপই বসে আছে। কিছুক্ষণ আগে থেকেই তার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে আছে। কিছুতেই সে স্বাভাবিক হতে পারছে না। লোপা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না, যে মেয়ে কতক্ষণ আগেই স্কুল থেকে খুশিতে লাফাতে লাফাতে এলো তার হঠাৎ করে কী হলো? সানাউল্লাহও মেয়ের চুপচাপ থাকা লক্ষ্য করেছেন। কারণ তিনি জানেন, প্রতিদিন খেতে বসে মুনতাহা কত কথা বলে।

মা, তুমি আজ স্কুলে সারাদিন কী করেছিলে? মুনতাহা’র বাবা জানতে চাইলেন।

আমরা আজকে অনেক নতুন কিছু শিখেছি। মুনতাহা আরো বললো, জানো বাবা, আজকে আমাদের টিচার আমাকে বোর্ডে ডেকে একটা অংক করতে দিয়েছিলেন আর আমি একটুও ভয় না পেয়ে ঠিকভাবে তা করেছি।

খুব ভালো করেছো, সেজন্য ধন্যবাদ। কিন্তু তুমি কী তোমার স্কুলের সুখবরটা তোমার বাবাকে দিতে ভুলে গেলে? মুনতাহার মা বললো।

বাবা, আমরা আগামী শুক্রবারে স্কুল থেকে পিকনিকে যাচ্ছি।

খুব ভালো কথা মা। কিন্তু তোমাকে তো তার জন্য খুশি মনে হচ্ছে না।

লোপা বললেন, তুমি যখন স্কুল থেকে এলে তখন তোমাকে খুব বেশি উৎফুল্ল দেখাচ্ছিলো কিন্তু এখন কেমন যেনো বিষন্ন মনে হচ্ছে। এতো অল্প সময়ের মধ্যে এমন কী হলো যে তোমার মনটা এতো খারাপ হয়ে গেলো।

হ্যাঁ মা, তুমি ঠিকই বলেছো। আমি যখন স্কুল থেকে এলাম তখন সত্যিই আমি মনে মনে খুব খুশি ছিলাম। কিন্তু এরপর যখন আমি হোমওয়ার্ক করতে বসলাম তখন হঠাৎ করেই একটা বাজে চিন্তা মাথায় এসে আমার মনটা ভীষণ খারাপ করে দিলো।

বাবা বললেন, কী সে বাজে চিন্তা যা তোমার মনকে এতো খুশির সময়ও চুপচাপ করে রেখেছে?

বাবা, আমি যদি শুক্রবারে অসুস্থ থাকি তাহলে তো আর পিকনিকে যেতে পারবো না। আমার বন্ধুরা সকলে কতো মজা করবে আর আমি সারাদিন বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাটাবো!

মা বললেন, দেখো মা, তুমি কিন্তু এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আর আমরা কেউই বলতে পারি না যে, একটু পরে কী ঘটতে যাচ্ছে। সামনে কী ঘটবে, না ঘটবে সে ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। তাহলে চিন্তা করে দেখো, তুমি এমন এক বিষয় নিয়ে মন খারাপ করছো যা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।

তার বাবা আরো যোগ করলেন, দেখো মা, এটা তোমার এ জন্যই মনে হচ্ছে যে, যা এখনও ঘটেনি সে ব্যাপারে শয়তান তোমার মাথায় সারাক্ষণ একটা খারাপ চিন্তা ঢুকিয়ে দিচ্ছে। আমাদের মনে যতো খারাপ চিন্তা আসে কিংবা আমরা যতো দুশ্চিন্তা বা উদ্বিগ্নতায় ভুগি তার সবই শয়তান আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়। “আর যদি প্ররোচিত করে তোমাকে শয়তানের প্ররোচনা তাহলে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বোজ্ঞ।” [সুরা আল আ’রাফঃ আয়াত ২০০]

মুনতাহা, তার মা বললেন, যখনই তোমার মনে এসব খারাপ চিন্তা আসবে তখনই আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে। দোয়া করবে, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম।

তার বাবা বলতে লাগলেন, শোনো মা, আমাদের কার জীবনে কী ঘটবে তা আল্লাহ তা’আলা অনেক আগে থেকেই জানেন। যেহেতু তিনি আমাদেরকে অনেক ভালোবাসেন তাই আমাদের জন্য যেটা সবচেয়ে উত্তম সেটারই ব্যবস্থা সব সময়ে করে দেন। আমরা হয়তো ঠিকমতো বুঝতে পারি না। ধরো, তোমার যদি কোনো কারণে পিকনিকে যাওয়া না হয় তাহলে নিশ্চিত থাকবে তোমার জন্য এটাই সবচেয়ে মঙ্গলজনক। অনেক মানুষ আছে যারা ভুলে যায় যে, সব কিছুর মধ্যেই মঙ্গল আছে। কারণ হয়তো অনাকাঙ্খিত এমন দু’একটা ঘটনা তাদের সামনে ঘটে যার ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়ে। অথচ এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ কোনো না কোনো এক উসিলায় অলৌকিকভাবে সে বিপদ থেকে উদ্ধারও করতে পারেন। কিন্তু ঐ সকল মানুষ এভাবে চিন্তা করে না বলে তারা খুব সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে। আল্লাহর প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস কম বলেই এমন অবস্থা হয়।

মুনতাহা ঘাড় নাড়লো, হ্যাঁ, আমি এখন বেশ ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছি। আল্লাহ হলেন আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। এখন থেকে যখনই আমার মনে কোনো খারাপ চিন্তা আসবে, তখনই আমি তাঁর কাছে আশ্রয় চাইবো, সাহায্য প্রার্থনা করবো এবং তাঁকে ধন্যবাদ দিবো আমাকে সবচেয়ে উত্তম জিনিস দিবার জন্য।

তাসমিদের টিয়া পাখি.....................মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন

তাসমিদের টিয়া পাখি.....................মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন
খুব ছোট্ট বেলা থেকেই তাসমিদের পাখির প্রতি অন্য রকমের এক দুর্বলতা রয়েছে। যখনই সময় পায় বারান্দার গ্রীলে দাঁড়িয়ে পাশের বড় নিম গাছে পাখির লাফালাফি দেখে। অনেক সময় কোনো চড়ুই পাখি ফুরুৎ করে গ্রীল দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়লে সে খুশিতে টগবগ করতো।

ইউশা ও পেঙ্গুইন.................................মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

ইউশা ও পেঙ্গুইন.................................মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন (ঈদ সংখ্যা ২০২০)
ক রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ইউশা তার বাবার সাথে বসে বসে টিভিতে ডিসকোভারী চ্যানেলে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখছিলো। এটা সম্পূর্ণটাই ছিলো বিভিন্ন প্রাণীদের নিয়ে একটা প্রামাণ্য অনুষ্ঠান। সে অবাক বিস্ময়ে দেখছিলো যে, একেকটা প্রাণী কতো জটিল এবং প্রতিকুল পরিবেশে সংগ্রাম করছে বেঁচে থাকার জন্য।যখন সে বিছানায় ঘুমাতে গেলো, শুয়ে শুয়ে চিন্তা করছিলো যা দেখলো সে সম্পর্কে। কল্পনায় সে তাকে ঐ প্রাণীদের মাঝে দেখলো। তখন হঠাৎ করেই তার মনে হলো, সে এমন এক জায়গায় রয়েছে যেখানে তার চারপাশে তুষারে ভর্তি। সে উদ্দেশ্যহীনভাবে চারদিকে ঘুরতে লাগলো।একটু পরেই সে সুন্দর, কোমল ও মিষ্টি একটা সম্ভাষণ শুনতে পেলো। ‘স্বাগতম ইউশা। আমাদের ভূবনে তোমাকে স্বাগতম।’তুমি কে? ইউশা জিজ্ঞেস করলো।সে উত্তর দিলো, আমি পেঙ্গুইন।যে প্রাণীটি উত্তর দিলো তাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছিলো এবং মনে হচ্ছিলো যেনো সে আইনজীবিদের গাউনের মতো কালো সুন্দর ডিজাইন করা পোশাক পরিধান করে আছে। ইউশা মনে করার চেষ্টা করলো, আসলে কী ঘটেছিলো। তার পরিষ্কার মনে পড়লো আজ রাতে শোয়ার আগে যখন সে বাবার সাথে বসে টিভিতে ডকুমেন্টারী দেখছিলো সেখানে পেঙ্গুইনদের নিয়ে একটি অংশ ছিলো। হ্যাঁ, হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছো, ইউশা খুশির সাথে জবাব দিলো। আমি আজ রাতেই টিভিতে তোমাদের লাইফ নিয়ে একটা অনুষ্ঠান দেখলাম। এটা আসলেই খুব একটা ঠান্ডা জায়গা। তোমাদের কী শীত লাগে না?পেঙ্গুইনটি হেসে জবাব দিলো, এটা দক্ষিণ মেরু। এখানে তাপমাত্রা কমতে কমতে এতো নিচে নামে যে তা মাইনাস ১৩০ ডিগ্রী ফারেনহাইট (- ৮৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছায়। এতো কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়া অনেক প্রাণীকে মেরে ফেলে অর্থাৎ, অতিরিক্ত ঠান্ডার জন্য অনেক প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। কিন্তু দেখো, কী অবাক করা ব্যাপার! আমাদের কোনো সমস্যাই হয় না। খুব অবাক হচ্ছো, তাই না?আসলেই তাই। আমি ভাবছি এটা কীভাবে সম্ভব?শোনো, এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে বিশেষ কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন সে জন্য। আমাদের চামড়ার নিচে চর্বির মোটা ও পুরু একটা স্তর আছে। এই চর্বিই আমাদেরকে অতিরিক্ত ঠান্ডার মধ্যেও সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখে, যেটা অন্য অনেক প্রাণীর নাই। যখন শীত আসে তখন আমরা উপকূল বরাবর আরো দক্ষিণে চলে যাই।ইউশার মনে পড়লো, তার মানে তোমরা তখন মাইগ্রেট করে অন্য জায়গায় চলে যাও? আচ্ছা, তোমাদের আর অন্য কী কী আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে যেটা আমি এখনও জানি না? এই যেমন ধরো, আজকে আমি যে ডকুমেন্টারী দেখলাম সেখানে বললো, তোমাদের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার আগে পর্যন্ত তোমরা ডিমের খুব বেশি । যত্ন নাও। তুমি কী এ ব্যাপারে আমাকে কিছু বলবে?পেঙ্গুইনটি হেসে বললো, অবশ্যই। অন্য কিছু প্রাণীর মতোই পুরুষ প্রজাতির পেঙ্গুইন বেশির ভাগ সময় ডিমে তা দেয়। জানো, তারা স্ত্রী পেঙ্গুইনের চেয়েও বেশি সময় ডিমে তা দেয়। তারা এ কাজটা করে দীর্ঘ ৬৫ দিন ধরে মাইনাস ২২ ডিগ্রী ফারেনহাইট (মাইনাস ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস) তাপমাত্রায়। শুধু তা-ই নয়, এ দীর্ঘ সময় তারা এক মুহুর্তের জন্যেও ডিম ছেড়ে যায় না। আর নতুন যে বাচ্চাটা জন্ম নেবে তার জন্য এ সময়ে মা পেঙ্গুইন যায় খাবারের খোঁজে।জন্ম নেয়ার পর প্রথম এক মাস বাচ্চা পেঙ্গুইন তারা বাবা-মায়ের পায়ের ওপর থাকে। যদি তারা তাদেরকে দুই মিনিটের জন্যেও রেখে অন্য কোথাও যায় তাহলে তারা বরফে জমে মারা যাবে।ইউশা ঘাড় নেড়ে বললো, কী সাংঘাতিক! তার মানে এ সময়টা তোমাদেরকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হয়। কিন্তু এতোটা কীভাবে সম্ভব? যিনি সৃষ্টি করেছেন সেই আল্লাহই সকল প্রাণীকে সে জ্ঞান দিয়ে দিয়েছেন যে, তাকে কীভাবে কী করতে হবে। আমরা শুধু সেটুকুই করি যা আল্লাহ আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন। ইউশা বললো, তুমি ঠিক বলেছো। আমাদের মহান স্রষ্টা তাঁর প্রত্যেকটা সৃষ্টিকে ঠিক ততোটুকুই জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যেটুকু তার জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজন। সে কোথায় থাকবে আর কীভাবে তার খাবারের খোঁজ করবে সবই তিনি শিখিয়ে দিয়েছেন। তোমাদের জীবনের দিকে তাকালেই এ বিষয়টা খুব ভালো করে বুঝা যায়।পেঙ্গুইনটা এবার ঘুরে দাঁড়ালো। তুমি অন্যান্য সৃষ্টির মধ্যেও আরো অনেক অদ্ভুত এবং মজার মজার সব উদাহরণ দেখতে পাবে। তারা প্রত্যেকেই কিন্তু আল্লাহর দেয়া এসব জ্ঞানের জন্য তাঁর কাছে শুকরিয়া জানায়।আমি আজ আর দেরি করতে পারছি না। অনেকক্ষণ হয়ে গেলো। এবার আমাকে অবশ্যই যেতে হবে। আমার পরিবারের সদস্যরা সব আমার জন্য অপেক্ষা করছে। হঠাৎ ইউশা সুন্দর একটা মিউজিক শুনতে পেলো। পরক্ষণেই বুঝতে পারলো, এখন সকাল হয়েছে এবং তার টেবিল ঘড়িতে এ্যালার্ম বাজছে। তার মনে হলো, ঘুমের মাঝেই সে খুব সুন্দর একটা ভ্রমণ করে এসেছে।