Showing posts with label অনলাইন ভার্সন. Show all posts
Showing posts with label অনলাইন ভার্সন. Show all posts

সাদৃশ্যকরন...................................তুহিন রহমান (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

সাদৃশ্যকরন...................................তুহিন রহমান (ঈদ সংখ্যা ২০২০)
‘শালা একটা কুত্তার বাচ্চা!’
‘আরে কাকে বলছিস?’
‘তোকে না।’
‘আমাকে না তো বুঝলাম কিন্তু কাউকে না কাউকে তো বলছিস।’
‘হ্যাঁ বলছি একজনকে। আমার পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে এখন দিতে চায়না। বলে এগুলো নাকি এখন দিতে পারবে না।’
‘তা তুই কি বলেছিস?’

লাড্ডু জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো। ঝমঝম বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সবাই রাস্তা ছেড়ে পালাচ্ছে যেদিকে পারছে। একটু ঝড়ো হাওয়াও আছে সাথে। সামনের গাছগুলো দুলছে। সামনের মোটা ইলেকট্রিক তারের ওপর কয়েকটা কাক বসেছিল। বৃষ্টি নামতেই উড়ে পালালো। ‘আমি কিছু বলিনি। একটা কুত্তার বাচ্চাকে কি বলবো আমি?’
‘তোর উচিত ছিল তাকে সামনে থেকে এই গালিটা দেয়া যাতে সে নিজেকে ঘৃনা করতে শেখে।’ বললো চপল। ‘তুই গিয়ে কথাটা তাকে বলবি।’
‘ঠিক আছে, দেখা যাক।’ লাড্ডু আরামদায়ক সোফাটার ওপর বসলো। ‘এক কাপ চা আনতে বল তোর কাজের মেয়েটাকে। যে বৃষ্টি শুরু হলো যাবো কিকরে তাই ভাবছি।’
চপল কাজের মেয়েটাকে ডেকে দু’কাপ চা দিতে বললো। তারপর আপনমনে নিজের কাজ করতে লাগলো টেবিলে। দশ মিনিট পর কাজের মেয়েটা দু’কাপ চা রেখে গেল টেবিলে।
লাড্ডু নিজের চায়ে চুমুক দিল। হঠাৎ রাস্তার ট্রান্সফর্মারটা বিকট শব্দে আর্তনাদ করে উঠলো। একই সাথে রুমটা অন্ধকার হয়ে গেল। কারেন্ট চলে গেছে।
‘এই যা, এই অন্ধকারে কাজ করি কিভাবে?’ চপল উঠে পড়লো টেবিলটা থেকে। ‘আচ্ছা তুই বস, আমি গোসলটা সেরে আসি।’
লাড্ডু মাথা নাড়লো। চায়ের কাপটা শূন্য করে নামিয়ে রাখলো টেবিলে। খোলা জানালা দিয়েঠান্ডা বাতাস আসছে হু হু করে। ও আরামে চোখ বন্ধ করে সোফায় হেলান দিয়ে বসলো। এই গরমে যে এসি ছাড়া এমন ঠান্ডা বাতাস পাওয়া গেছে সেই তো অনেক। উফ, গরমে প্রানটা একেবারে গলার কাছে উঠে এসেছিল। পকেটে হাত দিতে সিগারেটের প্যাকেটটা হাতে ঠেকলো। খুশি মনে প্যাকেটটা বের করে দেখলো একটাও সিগারেট নেই তার ভেতর। মনে মনে একই রকম একটা গালি ঝেড়ে লাড্ডু প্যাকেটটা জানালা দিয়ে ছুঁড়ে দিল বাইরে। তারপর মাথার পেছনে হাত রেখে চোখ বন্ধ করলো। কিন্তু পেটটা টনটন করছে। সেই সকালে বাথরুম সেরে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল, এখন পর্যন্ত বাথরুম সারা হয়নি। প্রশ্রাব জমে পেটটা একেবারে ফুলে উঠেছে। অস্থির লাগছে ভীষন। চপলের রাথরুমটায় যাওয়া যেত! মনে পড়লো চপল বাথরুমে গোসল করছে। ওদের বাড়িতে একটাই বাথরুম। যে করে হোক চেপে বসে থাকতে হবে।
কি আর করবে, উপায় নেই। লাড্ডু প্রশ্রাব চেপে সোফায় হেলান দিয়ে বসে থাকে বাইরের দিকে তাকিয়ে। গতরাতে ভালো ঘুম হয়নি। এখন চোখ বেশ ভার ভার বোধ হচ্ছে। বাড়ি গিয়ে আচ্ছা করে ঘুম দিতে হবে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর। বৃষ্টির বেগ বাড়ছে। খোলা জানালা দিয়ে দুরের গাছগুলোর হেলে পড়া দেখতে ভীষন ভালো লাগছে।
বৃষ্টি থেমে যাবার পর আধাঘন্টা পেরিয়ে গেছে। চপল এখনও বেরুচ্ছে না বাথরুম থেকে। লাড্ডুও চেঁচিয়ে ডাকতে পারছেনা। ভেতরের ঘরে ওর মা, ওর দুটো বোন আছে। চপলের ছোট বোনটার প্রতি আবার লাড্ডুর একটু দুর্বলতা আছে। তাই এখানে জোরে কথা বলা বা কোন উদ্ভট আচরন করা যাবেনা। এদিকে পেট ফেটে যাচ্ছে।
‘দুর! উঠে পড়লো লাড্ডু। এখানে প্রশ্রাব করার দরকার কি? বাড়ি যাবার পথে সেরে নেয়া যাবে। চপল এসে দেখবে সে নেই। তাতে কোন সমস্যাও নেই। দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করার সিস্টেম আছে। সেই সিস্টেম মেনে দরজাটা বন্ধ করে লাড্ডু সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসে। ভেজা পিচঢালা রাস্তাটা চকচক করছে একেবারে। কি সুন্দরভাবে প্রকৃতি সব পরিস্কার করে দিয়ে গেছে!
লাড্ডু বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলো। কিন্তু প্রতি পদে তার পেটটা মুচড়ে উঠছে। মনে হচ্ছে পেটের ভেতর থেকে প্রশ্রাবগুলো ফেটেই বেরিয়ে আসতে চাইছে। আল্লাই জানেন কিভাবে মেয়েমানুষগুলো দশ মাস দশ দিন বাচ্চা পেটের ভেতর চেপে রাখে।
চারপাশে তাকাতে লাগলো লাড্ডু। কোথায় যাওয়া যায়। আশেপাশে কোন পাবলিক টয়লেট নেই যে সে সেখানে গিয়ে প্রাকৃতিক কাজটা সারবে। শেষ পর্যন্ত পেয়ে গেল সে জায়গাটা। একটা ডাস্টবিনের ঠিক পেছনে চমৎকার একটা দেয়াল। একেবারে নতুন রঙ করা হয়েছে দেয়ালে। সম্ভবত কোন রাজনৈতিক পার্টি তাদের কলাম লিখবে এখানে। একেবারে ফাস্টক্লাস প্রশ্রাব করার জায়গা, মনে হয় খোদা মিলিয়ে দিয়েছে তাকে। একটা শান্তির দম ছেড়ে সেদিকে এগিয়ে গেল লাড্ডু। প্যান্টের চেইনটা খুললো। তারপর আস্তে ধীরে ছাড়তে লাগলো নতুন রঙ করা দেয়ালের ওপর। আহ কি শান্তি! পৃথিবীতে এর চেয়ে শান্তির কিছু আছে নাকি কে জানে। একই সাথে একটা ডিজাইন আঁকাও হয়ে যাবে দেয়ালটার ওপর। লাড্ডু একটা মুখ আঁকতে চাইলো সেখানে।

আচমকা পাশ থেকে কেউ ঘেউ করে উঠলো। লাড্ডু পাশে তাকিয়ে চমকে উঠলো একেবারে। একটা হলুদ রঙের ঘেয়ো কুকুর এক ঠ্যাং তুলে তার ঠিক পাশে দাঁড়িয়েই প্রশ্রাব করছে একই দেয়ালের ওপর। লাড্ডু আরও অবাক হলো যখন দেখলো কুকুরটা তার দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসছে।
কোনমতে প্রশ্রাব শেষ না করেই তার যন্ত্রটা চেইনের ভেতর ঢোকালো লাড্ডু। সরতে যাবে কুকুরটা তার পথরোধ করে দাঁড়ালো। তারপর মানুষের গলায় বললো,‘প্রশ্রাব যে করলা, চাইয়া দেহ তোমার প্রশ্রাব গড়াইয়া রাস্তায় চইলা আসছে। এহান দিয়া মানুষ চলবো না? তাকায় দেহ আমি কেমনে করসি। আমারে তো কুত্তা বইলা গালি দাও। তুমি আর আমি তো একই জাগায় হিসি করলাম। তাইলে তুমিও আমার লাহান কুত্তার বাচ্চা।’
আঁৎকে উঠে ঢোক গিলল লাড্ডু। তাই দেখে কুকুরটা আরো জোরে হাসলো,‘হুনো মিয়া, তোমরা হইলা গিয়া মানুষের বাচ্চা। রাস্তায় মুতবা কেন? তোমাগো কত সুন্দর টয়লেট আসে, বাথরুম আসে হেইহানে এইসব কাম করবা। এইটা হইলো আমার মুতনের জাগা। ঠিক আছে তুমি আমার জাগায় তোমার কাম করসো ভালা কথা। দুই ট্যাকা দ্যাও।’
লাড্ডু ঢোক গিলে বললো,‘টাকা দিয়ে তুমি কি করবে?’
‘ওই মিয়া ট্যাকা দিয়া কি করে তোমারে শিখাই দ্যাওন লাগবো? তুমি আমার জাগায় মুতবা আর ট্যাকা দিবানা হেইডা কেমুন কথা?’ কুকুরটা আরো জোরো জোরে বললো।
লাড্ডু পকেট হাঁতড়ে দেখে তার কাছে কোন টাকাই নেই। তাই দেখে কুকুরটা যেন মজা পায় আরো। বলে,‘হুনো মিয়া, তুমি আজ থেইকা আর কোন মানুষরে কুত্তার বাচ্চা বইলা গালি দিবানা, ঠিকআসে?’
লাড্ডু ভয়ে ভয়ে মাথা নাড়ে। ‘তুমি দেহ,’ কুকুরটা আবার বলে,‘আমরা না খাইয়া থাহি। তোমরা কতো মজার মজার জিনিষ খাও। আর আমরা সারাদিন খালি পেটে ঘুরি। তোমরা দিলে খাই নাইলে খালি পেটে রাইতে ঘুমাইতে হয়। তুমি চিন্তা করসো কুকুরই হইলো একমাত্র প্রানী যে মানুষের উপরে পুরাপুরি নির্ভরশীল। অন্য সব প্রানীই নিজের খাবার নিজে খুঁইজা নিতে পারে, কিন্তু মানুষ না দিলে কুকুর নিজে কোন খাবার খাইতে পারেনা। মানুষের উচ্ছিষ্টের উপরে কুকুররা বাঁইচা থাকে। তোমরা ‘কতো বড়ো বড়ো কথা কও, অথচ দেহ তোমরা কি কখনও চিন্তা করসো তোমরা যহন লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলতাসো, কোটি টাকার গাড়ি চড়তাসো, মদ খাইতাসো, শত কোটি টাকা দিয়া পঞ্চাশ তলা বাড়ি বানাইতাসো তহন একটা কুকুর তোমার সামনের রাস্তায় না খাইয়া শুইয়া আসে?’
লাড্ডু মাথা নাড়ে। না, সেও কখনও এমন করে চিন্তা করেনি।
‘তোমাগো রাজনীতিবিদরা চিল্লায় গলা ফাটাইয়া ফেলায়।’ কুকুরটা দাঁতে দাঁত চিপে বললো,‘হ্যারা তোমাগোরে মিথ্যা সান্তনা দিয়া দ্যাশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে। হ্যারা যেমনে ট্যাকা চিবায় তেমনে আমরা হাড্ডিও চিবাইতে পারিনা। আর তোমরা মানুষরে কও কুত্তার বাচ্চা। আরে তোমগো তো কওন উচিৎ রাজনীতিবিদের বাচ্চা। গালি দিবা ঘুষখোরের বাচ্চা, মিথ্যাবাদীর বাচ্চা, মানুষের বাচ্চা, চোরের বাচ্চা, ডাকাতের বাচ্চা। তা না কইরা তোমরা গালি দাও আমাগোর জাতিকে নিয়া। এইটা কি ঠিক?’
লাড্ডু মাথা নাড়ে এপাশ ওপাশ। একদম ঠিক নয়।
দেহ, বিলাইরে তোমরা অনেক উপরে তুইলা রাখসো। কিন্তু বিলাই কি করে? তোমগো খাবার চুরি কইরা খায়। বিলাই তোমগোরে অভিশাপ দেয় য্যান তোমরা অন্ধ হইয়া যাও আর হ্যায় তোমগো খাওন চুরি কইরা খাইতে পারে। হ্যার পরও তোমরা মানুষরে বিলাইয়ের বাচ্চা বইলা কঠিন গালি দাওনা। তোমগো কঠিন গালি হইলো কুত্তার বাচ্চা, ক্যান উত্তর দাও?’
লেজ নাড়তে ইচ্ছে হলো লাড্ডুর। অন্তত সে যদি লেজ নাড়তে পারতো তবে এই কুত্তাটা তাকে কামড় না দিয়ে ছেড়ে দিতে পারতো। এখন তো এমনভাবে দাঁত খিচোচ্ছে যে ভাব কামড় দিয়ে বসবে পাছায়।
‘পারবানা, কোন উত্তর দিতেই পারবানা। কারন তোমরা মানুষরা খুব স্বার্থপর বুঝলা? কুকুরকে তোমরা কও কুত্তা। আরে কুত্তা তো হিন্দী উর্দু শব্দ। তোমরা দেশ স্বাধীন করসো বাংলার কথা ‘বলবা বইলা, অহন হিন্দী উর্দু কও ক্যান। কইবা কুকুরের বাচ্চা। যখন তোমরা কুত্তা কও তখন আয়নার মইদ্যে তাকাইয়া দেহ তোমার মুখটা কেমুন দেহায়। দেখবা মুখটা বাঁইকা গুলিস্থানের পাবলিক টয়লেটের লাহান লাগতাসে।’
লাড্ডু অনেক কষ্টে বলে,‘জ্বি স্যার।’
কুকুরটার মুখটা আনন্দের হাসিতে ভরে যায়। লেজ নাড়তে থাকে সে সুখে। বলে,‘এতোদিন পর একটা সুন্দর শব্দ শুনলাম। এইবার আমার মুখ দিয়ে শুদ্ধ কথা বেরুবে। লাড্ডু বাবাজি, আমার কাছে গতকালের একটা গরুর শুকনো হাড্ডি আছে, খাবে?’
লাড্ডুর গলা দিয়ে বমি উঠে আসে প্রায়। কোন মতে মাথা নাড়ে সে।
‘ওহ তোমরা তো আবার কুকুরের মুখের জিনিষ খাওনা।’ শুদ্ধ ভাষায় বলে কুকুরটা।‘ঠিকআছে, যাও বাকি প্রশ্রাবটা সেরে নাও। আমি জানি আমাকে দেখে তোমার প্রশ্রাব আবার ভেতরে ঢুকে গেছে। এবার শান্তিমতো বাকি কাজ সারো তো।’
লাড্ডু এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তার আগের স্থানে ফিরে যায়। তারপর প্যান্টের চেইন খুলে আরামে ছাড়তে থাকে দেয়ালের ওপর। ওদিকে কুকুরটা সুখের হাসি হাসছে ওর দিকে তাকিয়ে। আবার বৃষ্টি শুরু হলো নাকি? মুখের ওপর পানি পড়ছে কিসের?
আচমকা কানের কাছে আজানের শব্দ শুনে সচেতন হলো লাড্ডু। আরেনা, আজান নয়, কেউ চিৎকার করছে ক্রমাগত,‘ভাইয়া, ও ভাইয়া, একি করছে দেখে যাও!’


লাড্ডু যেন অচেতন থেকে সচেতন হলো। তার মুখের ওপর পানি ঢালছে কে? ঘুমঘুম আবেশে চোখ খুললো লাড্ডু। পায়ের দিক থেকে পিচকারী দিয়ে পানি এসে ওর চোখ মুখ ভিজিয়ে দিচ্ছে, সেই সাথে ভিজছে চপলের সোফা, দরকারী কাগজপত্র, ল্যাপটপ, মোবাইল, টেবিল। এক নিমিষে পুরোপুরি ঘুম থেকে জেগে উঠলো লাড্ডু গরম পানির ফোয়ারায়। তার প্যান্টের চেইন খোলা। সেখান দিয়ে পিচকারীর মতো পানি বেরিয়ে এসে সোজা ওর মুখ ভেজাচ্ছে। আর ওর সামনে মুখে হাত চাপা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে চপলের দু’দুটো বোন। তাদের চোখে লজ্জা আর মহা বিশ্ময়।
বৃষ্টি আর ভেজা বাতাসে কখন যে ও ঘুমিয়ে পড়েছিল আর স্বপ্নে দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করছিল। আসলে তখন সে চপলের সোফায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চেপে রাখা প্রশ্রাব আরাম করে ছাড়ছিল।






ISIL..................................David White (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

ISIL..................................David White (ঈদ সংখ্যা ২০২০)
David White
The poet from England

ISIL
If you love like I do ! ,
well it’s a mixture of feeling , but ever so true .
And i keep my word , to my soul ,
because it’s truly what I love , and how I know .
And my heart is , ever so true .
as it belongs to me and certainly not to you !
And once , a very lost and lonely man ,
and yes you have your friends and family , but no one truly understands .
As behind closed doors , nobody lives your life .
What with all of your problems and troubles and strife .
So we search and search , but there’s no ones to be seen .
And we search and search , for our peace and harmony .
As life can be a torture , but we can make it in the end .
So just trust in yourselves , and find you’re souls to , my friends .
And some may test , your spirit and soul , but please understand as they just
don’t know .
So don’t be so quick to judge these kind of people , as they are just lost and lonely souls , but remember we’re all equal .
And so I write , and i write some more , and then Isil , comes home from work ,and walks in the front door , hello baby how was your day , and she reply’s , well I love you Dave so what more can I say , and she sits down and she tells me about her day , and all of the thoughts of me haha , they just won’t go away , and she tells me that I have her soul and all of her love just like I know .
And of course , I knew this already , because from day one I gave her my heart .
As her voice to me was left in my heart , and this was , day one and knew
this at the start , because she has a voice like an angel , and her soul is in
my heart , and her soft caring voice , brings music to my ears , and I’ll love this woman forever , I’m in so many happiness tears , drenched my face as the tears keep falling , and just as they run , when it’s my mum I’m calling ,
so these tears of joy , that I share with you , are all from my heart , because my feelings are very true .I
love you baby ❤️

স্বপ্ন ও অপেক্ষা............................আহমেদ চঞ্চল (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

স্বপ্ন ও অপেক্ষা............................আহমেদ চঞ্চল (ঈদ সংখ্যা ২০২০)
আহমেদ চঞ্চল

স্বপ্ন
চলো দুজন হকার হবো বনগাঁ লোকালে 
সকালে বেড়িয়ে যাবো ফিরবো বিকালে,
হাসিমুখে বেড়াবো বেচে কবিতার বই
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা সাধারন তো নই।
বিনয়, সুনীল, শক্তি আর জয় গোস্বামী
কবিগুরুও থাকবে কাছে তবে তা দামী,
মাঝে মাঝে আওড়াবো প্রিয় কোন কবিতা
নিমিষেই ফুরাবে বই যা ছিল সব ই তা।
শেষ ট্রেনে ক্লান্ত দেহে চাঁদপাড়াতে এসে
তুমি হঠাৎ নেমে যাবে জনস্রোতে ভেসে,
আমি যাবো একা একা সেই হৃদয় পুর
কিছু স্বপ্ন নিকট অতি কিছু অনেক দূর।।


অপেক্ষা
কারো কাছে দোজখ কারো কাছে বেহেশত কেউ বা বলে পৃথিবী
আমি বলি এই মহা জংশনের নাম হতে পারে অপেক্ষালয়,
এখানে আমি, তুমি আমরা কারো না কারো জন্য অপেক্ষারত।
ইছেপুর ঘাটের কাছে ঠায় দাঁড়িয়ে ভুবন মাঝি অপেক্ষা করে
কবে কুমার নদীতে আবার সেই ভরা যৌবন ফিরে আসবে
শুরু হবে পারাপার, ঘাট পাড়ানি বেড়ে গিয়ে পাঁচ টাকা হবে।
অপেক্ষা করে নবীন ডাঙ্গার কিশোরী গায়ের বধু রোজিনা
আর বছর দুয়েক গেলেই ঋণের সব টাকা শোধ হয়ে যাবে,
তখন চাইলেই দেশে ফেরত আসতে পারবে তার প্রিয় স্বামী।
রুহানীপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসায় আঙ্গুলে হিসেব কষে এক শিশু
আসছে অগ্রহায়ণেই তার মাথায় আকাঙ্ক্ষিত পাগড়ি উঠবে,
তখন নির্দ্বিধায় সে ফিরে যেতে পারবে তার মায়ের কাছে।
আমি জানি না আমার জন্য কেউ কখনো অপেক্ষা করে কিনা
হৃদয়পুরের পরের স্টেশনে পথ চেয়ে থাকে কিনা কোন মুখ?
যদি কেউ থাকে তবে এ জগতে আমিও ভাগ্যবানদের একজন।
জগত সংসার তো মহা জংশন যার নাম হতে পারে অপেক্ষালয়
আমি তুমি সবাই অপেক্ষারত কারো না কারো অপেক্ষায়,
কারো অপেক্ষা সুখের, কারো অপেক্ষা অনাদি অনন্ত কালের।।

অশরীরি অবয়ব............................শাহরীন মৌন (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

অশরীরি অবয়ব............................শাহরীন মৌন (ঈদ সংখ্যা ২০২০)
বাগানের ওদিকটায় কে যেন দাঁড়িয়ে আছে।  হ্যাঁ, তাই তো। লম্বা মতো কেউ। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আমি। কিন্তু এখানে কে আসবে?? ভাবতেই হিমশীতল  শিহরণ বয়ে গেল মেঘলার গায়ে দিয়ে। এই পুরো বাড়িতে ও একা। আর বাগানে আসতে গেলে বাড়ির ভেতর দিয়য়েই আসতে হবে। চোর হলে তো এতক্ষণে চলে যেত ওকে দেখে। কিন্তু কই, অবয়বটা তো একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে। হঠাৎই ভয় ও তীব্র উত্তেজনা গ্রাস করল মেঘলাকে। কেননা বাড়িতে কেউ নেই। তাই কাউকে ডেকেও সাহায্য পাবে না। পেছনে সরে যাবে সেই শক্তিও নেই। অদ্ভুত একটা নেশা কাজ করতে শুরু করল মেঘলার। কে দাঁড়িয়ে আছে ওকে জানতেই হবে। ও এক পা দু পা করে এগিয়ে গেল। কাছে যেতেই মুখটা স্পষ্ট দেখতে গেল চাঁদের আলোয়। মেঘলার মনে হল কে যেন ওর গালে ঠাস করে একটা চড় মেরেছে। চারিদিকে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা, শুনশান করছে সব। যেন পৃথিবীর সবকিছু চোখের নিমিষে স্তব্ধ হয়ে গেছে। না, এ কিভাবে সম্ভব?  না, না এটা সম্ভব না। আমি ভুল দেখছি। অবশ্যই আমি ভুল দেখছি। নিজের মনকে বৃথা সান্ত্বনা দিতে লাগল মেঘলা। কিন্তু এটা কিভাবেই বা সম্ভব?? মাথা কাজ করছে না মেঘলার। এমন পরিস্থিতিতে পরবে ভাবেনি কোনদিন। ও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অবয়বটার দিকে। অবয়বটাও ঠিক মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছে মেঘলাকে। কিন্তু এতদিন পর এভাবে কেন আসলো ও মেঘলার কাছে??
“ সাজিদ ” অবয়বটা ঘুরে গেল পেছনের দিকে। “ সাজিদ......সাজিদ......শোন, দাঁড়াও। কিন্তু অবয়বটার যেন ওর কথা শোনার সময় নেই। চলে যাচ্ছে ও। কেন সাজিদ দেখা দিল আমাকে? কি বলতে চায় ও?“ যেও না প্লিজ। একবার শোন আমার কথাটা ”নাহ, অবয়বটা মনে হয় ওর কথা শুনতে পাচ্ছে না। চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেল অবয়বটি। হ্যাঁ, অবয়বটি আর কারো নয় সাজিদই ছিল এটা। সাজিদকে চিনতে কখনো ভুল করবে না মেঘলা।
আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগের কথা।  সময়টা ছিল ২০১৮ সালের জুন মাসের শেষ দিকে । ইয়ার ফাইনালের জন্য জাঁকিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল মেঘলা। এতটাই ব্যস্ত, এতটাই মগ্ন ছিল পড়াশোনায় নিজের বেস্ট়ফ্রেন্ডকে ও সময় দিতে পারছিল না । কিন্তু মেঘলার উপায়ও ছিল না। কারণ যেভাবেই হোক টপার ওকে হতেই হবে। তাই কেউই এখন আপন না ওর কাছে। হ্যাঁ, নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডও না। হয়তোবা সাজিদ ওর বেস্ট ফ্রেন্ড কখনোই ছিল না । শুধু ব্যবহারই করে গেছে সাজিদকে ।  বন্ধু হিসেবে সব রকম সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছে সাজিদের কাছ থেকে । কিন্তু ওর জন্য কিছু করা উচিত ছিল ভাবেনি।  হয়তো ভেবেছিল, কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি। সাজিদ ছেলে হিসেবে খুবই চাপা ছিল । হুহ ! ( ব্যাঙ্গাত্মক হাসি ) ছিলো কেন বলছি? কারণ ও আর নেই।  চলে গেছে পৃথিবীর সমস্ত মায়া ত্যাগ করে । তার জন্য কি কিছুটা হলেও মেঘলা দায়ী নয়? অবশ্যই দায়ী। ও সময় দিতে পারেনি সাজিদের কঠিন সময়ে। যখন ও বইয়ে মুখ গুঁজে পড়েছিল তখন হয়ত সাজিদ যন্ত্রণায় কষ্টে আর্তনাদ করছিল। কিন্তু কাউকে বলতে পারছিল না । কাকেই বা বলবে । তার তো বলার মত কেউ ছিল না। যে ছিল সে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল। হ্যাঁ, নিজের স্বার্থের জন্য সাজিদকে অবহেলা করেছে মেঘলা। সাজিদের কথাগুলো শোনার মত সময় ওর কাছে ছিল না।
" মেঘলা, বাসায় আছিস ?"   সাজিদ একদিন সকালে ফোন করে মেঘলাকে  ।
" বল, কি বলবি । তাড়াতাড়ি বল। "

" এত কিসের তাড়া তোর , হুমম ?"
" সাজিদ, সামনে ইয়ার ফাইনাল । ভুলে গেছিস ?পড়ছি আমি । "
 " হ্যাঁ , পড়ছিস তো ভালো কথা । ১০ টা মিনিটও সময় হবে না তোর আমার কথা শোনার জন্য ?". শান্ত গলা সাজিদের ।
 " যদি পড়াশোনা নিয়ে কিছু বলিস, তাহলে শুনছি , বল। অন্যকিছু হলে শুনবো না । পড়া থেকে মন উঠে যাবে। " 
" আচ্ছা , থাক। ( দীর্ঘশ্বাস )  তুই পড় ভালো করে । রাখি । "
 " হ্যাঁ , রাখ। " পড়ায় আবার ডুব দিলো মেঘলা। কিন্তু .......কিন্তু ও কি জানতো এটাই সাজিদের সাথে এর শেষ কথা  । না , জানতো না । জানলে এতটা অবজ্ঞা করতো না সাজিদকে। বাস্তবে ফিরে এল মেঘলা। দেখলো যেখানে ছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে যাবে এমন সময় দেখল যে যেখানে সাজিদ দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে একটা কাগজ পড়ে আছে। কাছে গিয়ে তুলতে বুঝল এটা একটা চিঠি। চিঠিটা আর কারো নয় , সাজিদের । সাজিদ দিয়ে গেছে মেঘলাকে । মেঘলা কাঁপা কাঁপা হাতে চিঠিটা খুলল।
‘‘মেঘলা,তোর কাছে যখন চিঠিটা পৌঁছাবে তখন আমি অনেক দূরে। জানি তুই তোর পড়াশোনা নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছিস। এতটাই ব্যস্ততা তোর যে আমার কথা শোনার মতো সময় বা ধৈর্য কোনটাই তোর নেই। কিন্তু বিশ্বাস কর, আমার তো তুই ছাড়া কেউ নাই কথাগুলো বলার জন্য। তুই ছাড়া আমি কাকে বলব বল। তুই শুনতে না চাইলেও আমি আজ বলবো। জানিস বন্ধু, ফিয়া আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমি তো ওকে অনেক ভালবাসতাম রে। কি ভুল ছিল আমার বল তো? কি অন্যায় করেছিলাম আমি যে ও আমাকে ছেড়ে অন্য কারো হয়ে গেল! ওর জন্য আমি কি করিনি বল? তুই তো সাক্ষী কতটা পাগলের মতো ভালোবাসি আমি ওকে। নিজের আপন সত্তাকে ভুলে ওর কথায় ওঠাবসা করেছি। শুধু ভালোবাসি বলে। কখনো অভিযোগ করিনি। ও এটা কিভাবে করতে পারলো আমার সাথে? যাক, ওকে আমি সুখী দেখতে চাই। ও যার সাথে থাকুক ভালো থাকুক। কিন্তু জানিস ও ছাড়া আমি যে অসম্পূর্ণ। ওকে ছাড়া আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি শ্বাস নিতে পারি না। একদিকে ওর দেয়া কষ্ট, অন্যদিকে বাবা-মার বঞ্চনা। তোকে কখনো বলিনি। আজ বলবো। বাবা-মা আমার সাথে ভালোভাবে কথা বলে না রে। কেন বলে না জানি না। তবে ওদের ব্যবহারে আমি স্পষ্ট বঞ্চনা, বিরক্তির ছাপ পাই। সবসময় আমাকে পড়াশোনা নিয়ে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু আমি কি চাই তা কখনোই জানতে চায় না। তাদের ইচ্ছা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। অথচ আমার ইচ্ছাগুলো তাদের ইচ্ছার ভারে চাপা পড়ে যায়। আমি না এভাবে আর পারছি না। কষ্টগুলো আমার বুকের ভেতর জেঁকে বসে আছে। সরানোর জন্য কারো সাহায্য দরকার, জানিস তো। কিন্তু কেউ নেই সাহায্যের জন্য। আমি আজ বড় অসহায় রে বন্ধু। তাই এভাবে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে সবাইকে শান্তি দেয়াই শ্রেয়। চলে যাচ্ছি আমি। তুই টেনশন করবি না। দেখিস তুই টপার হবিই। আমি জীবন যুদ্ধে হেরে গেলে কি হবে, আমি জানি আমার বন্ধু ঠিকই জয়ী হবে। সেদিনটা আমি হয়তো তোর বন্ধু হয়ে তোর পাশে থাকতে পারবো না, তোকে অভিনন্দন জানাতে পারবো না। কিন্তু দূর থেকে তোর আনন্দ দেখে ঠিক আনন্দিত হবো। আর হ্যাঁ, আমার মৃত্যুর পর এই চিঠিটা কোন না কোন ভাবে পৌঁছে যাবে। ভাল থাকিস বন্ধু।
ইতি“ তোর বন্ধু "
বুকটা কষ্টে ফেটে যাচ্ছে মেঘলার। চোখের পানি বাঁধ মানছে না  । " আমি , আমিই দায়ী সাজিদের মৃত্যুর জন্য। " হঠাৎই মেঘলার মনে হলো কেউ ওকে ডাকছে। " মেঘলা " " সাজিদ ....." ( কান্নায় ভেঙে পড়ে মেঘলা ) "  তুই কাদিস না বন্ধু  "
"  আমাকে তুই ক্ষমা করে দে , সাজিদ। আমি তোর বন্ধু হতে পারিনি।  তোকে শুধু ব্যবহারই করে গেছি।   তোর প্রয়োজনে তোর পাশে থাকিনি । তোর কোন কথা শুনিনি।  ক্ষমা করে দে আমাকে ভাই ।অনেক বড় অন্যায় করেছি তোর সাথে । ( কাঁদতে কাঁদতে বলে মেঘলা)
" আমার জন্য নিজেকে অপরাধী করিস না মেঘলা । আজ আমি আমার দোষেই সবার থেকে আলাদা। তবে আজকের পর আর আমাকে তুই দেখতে পাবি না। কিন্তু যেখানেই থাকিস জানবি এই বন্ধু তোর পাশে আছে।  এই দুটো চোখ তোকে আগলে রাখবে।  ভালো থাকিস , বন্ধু । ভালো থাকিস । "
হাওয়ায় যেন মিলে গেল সাজিদের অবয়ব । সাথে সাথে ঘুমটা ভেঙে গেল মেঘলার। কি ভয়ঙ্কর স্বপ্নই না দেখলো। মাঘ মাসের শীতেও দরদর করে ঘামছে ও। তড়িঘড়ি করে ফোনটা হাতে নিল সাজিদকে ফোন করবে বলে। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো সাজিদের মেসেজ । খুলতেই দেখল সাজিদ বেশকিছু ছবি পাঠিয়েছে ওর।  কক্সবাজার ঘুরতে গেছে গাধাটা।  আপন মনে হেসে উঠল মেঘলা । উফফ !! কি দুঃস্বপ্নই না দেখলো  !

ইউশা ও পেঙ্গুইন.................................মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

ইউশা ও পেঙ্গুইন.................................মোহাম্মদ শাব্বির হোসাইন (ঈদ সংখ্যা ২০২০)
এক রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ইউশা তার বাবার সাথে বসে বসে টিভিতে ডিসকোভারী চ্যানেলে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখছিলো। এটা সম্পূর্ণটাই ছিলো বিভিন্ন প্রাণীদের নিয়ে একটা প্রামাণ্য অনুষ্ঠান। সে অবাক বিস্ময়ে দেখছিলো যে, একেকটা প্রাণী কতো জটিল এবং প্রতিকুল পরিবেশে সংগ্রাম করছে বেঁচে থাকার জন্য।যখন সে বিছানায় ঘুমাতে গেলো, শুয়ে শুয়ে চিন্তা করছিলো যা দেখলো সে সম্পর্কে। কল্পনায় সে তাকে ঐ প্রাণীদের মাঝে দেখলো। তখন হঠাৎ করেই তার মনে হলো, সে এমন এক জায়গায় রয়েছে যেখানে তার চারপাশে তুষারে ভর্তি। সে উদ্দেশ্যহীনভাবে চারদিকে ঘুরতে লাগলো।একটু পরেই সে সুন্দর, কোমল ও মিষ্টি একটা সম্ভাষণ শুনতে পেলো। ‘স্বাগতম ইউশা। আমাদের ভূবনে তোমাকে স্বাগতম।’তুমি কে? ইউশা জিজ্ঞেস করলো।সে উত্তর দিলো, আমি পেঙ্গুইন।যে প্রাণীটি উত্তর দিলো তাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছিলো এবং মনে হচ্ছিলো যেনো সে আইনজীবিদের গাউনের মতো কালো সুন্দর ডিজাইন করা পোশাক পরিধান করে আছে। ইউশা মনে করার চেষ্টা করলো, আসলে কী ঘটেছিলো। তার পরিষ্কার মনে পড়লো আজ রাতে শোয়ার আগে যখন সে বাবার সাথে বসে টিভিতে ডকুমেন্টারী দেখছিলো সেখানে পেঙ্গুইনদের নিয়ে একটি অংশ ছিলো। হ্যাঁ, হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছো, ইউশা খুশির সাথে জবাব দিলো। আমি আজ রাতেই টিভিতে তোমাদের লাইফ নিয়ে একটা অনুষ্ঠান দেখলাম। এটা আসলেই খুব একটা ঠান্ডা জায়গা। তোমাদের কী শীত লাগে না?পেঙ্গুইনটি হেসে জবাব দিলো, এটা দক্ষিণ মেরু। এখানে তাপমাত্রা কমতে কমতে এতো নিচে নামে যে তা মাইনাস ১৩০ ডিগ্রী ফারেনহাইট (- ৮৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছায়। এতো কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়া অনেক প্রাণীকে মেরে ফেলে অর্থাৎ, অতিরিক্ত ঠান্ডার জন্য অনেক প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। কিন্তু দেখো, কী অবাক করা ব্যাপার! আমাদের কোনো সমস্যাই হয় না। খুব অবাক হচ্ছো, তাই না?আসলেই তাই। আমি ভাবছি এটা কীভাবে সম্ভব?শোনো, এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে বিশেষ কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন সে জন্য। আমাদের চামড়ার নিচে চর্বির মোটা ও পুরু একটা স্তর আছে। এই চর্বিই আমাদেরকে অতিরিক্ত ঠান্ডার মধ্যেও সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখে, যেটা অন্য অনেক প্রাণীর নাই। যখন শীত আসে তখন আমরা উপকূল বরাবর আরো দক্ষিণে চলে যাই।ইউশার মনে পড়লো, তার মানে তোমরা তখন মাইগ্রেট করে অন্য জায়গায় চলে যাও? আচ্ছা, তোমাদের আর অন্য কী কী আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে যেটা আমি এখনও জানি না? এই যেমন ধরো, আজকে আমি যে ডকুমেন্টারী দেখলাম সেখানে বললো, তোমাদের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার আগে পর্যন্ত তোমরা ডিমের খুব বেশি । যত্ন নাও। তুমি কী এ ব্যাপারে আমাকে কিছু বলবে?পেঙ্গুইনটি হেসে বললো, অবশ্যই। অন্য কিছু প্রাণীর মতোই পুরুষ প্রজাতির পেঙ্গুইন বেশির ভাগ সময় ডিমে তা দেয়। জানো, তারা স্ত্রী পেঙ্গুইনের চেয়েও বেশি সময় ডিমে তা দেয়। তারা এ কাজটা করে দীর্ঘ ৬৫ দিন ধরে মাইনাস ২২ ডিগ্রী ফারেনহাইট (মাইনাস ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস) তাপমাত্রায়। শুধু তা-ই নয়, এ দীর্ঘ সময় তারা এক মুহুর্তের জন্যেও ডিম ছেড়ে যায় না। আর নতুন যে বাচ্চাটা জন্ম নেবে তার জন্য এ সময়ে মা পেঙ্গুইন যায় খাবারের খোঁজে।জন্ম নেয়ার পর প্রথম এক মাস বাচ্চা পেঙ্গুইন তারা বাবা-মায়ের পায়ের ওপর থাকে। যদি তারা তাদেরকে দুই মিনিটের জন্যেও রেখে অন্য কোথাও যায় তাহলে তারা বরফে জমে মারা যাবে।ইউশা ঘাড় নেড়ে বললো, কী সাংঘাতিক! তার মানে এ সময়টা তোমাদেরকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হয়। কিন্তু এতোটা কীভাবে সম্ভব? যিনি সৃষ্টি করেছেন সেই আল্লাহই সকল প্রাণীকে সে জ্ঞান দিয়ে দিয়েছেন যে, তাকে কীভাবে কী করতে হবে। আমরা শুধু সেটুকুই করি যা আল্লাহ আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন। ইউশা বললো, তুমি ঠিক বলেছো। আমাদের মহান স্রষ্টা তাঁর প্রত্যেকটা সৃষ্টিকে ঠিক ততোটুকুই জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যেটুকু তার জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজন। সে কোথায় থাকবে আর কীভাবে তার খাবারের খোঁজ করবে সবই তিনি শিখিয়ে দিয়েছেন। তোমাদের জীবনের দিকে তাকালেই এ বিষয়টা খুব ভালো করে বুঝা যায়।পেঙ্গুইনটা এবার ঘুরে দাঁড়ালো। তুমি অন্যান্য সৃষ্টির মধ্যেও আরো অনেক অদ্ভুত এবং মজার মজার সব উদাহরণ দেখতে পাবে। তারা প্রত্যেকেই কিন্তু আল্লাহর দেয়া এসব জ্ঞানের জন্য তাঁর কাছে শুকরিয়া জানায়।আমি আজ আর দেরি করতে পারছি না। অনেকক্ষণ হয়ে গেলো। এবার আমাকে অবশ্যই যেতে হবে। আমার পরিবারের সদস্যরা সব আমার জন্য অপেক্ষা করছে। হঠাৎ ইউশা সুন্দর একটা মিউজিক শুনতে পেলো। পরক্ষণেই বুঝতে পারলো, এখন সকাল হয়েছে এবং তার টেবিল ঘড়িতে এ্যালার্ম বাজছে। তার মনে হলো, ঘুমের মাঝেই সে খুব সুন্দর একটা ভ্রমণ করে এসেছে।

আহ কি আনন্দ.......................................(ঈদ সংখ্যা ২০২০)

আহ কি আনন্দ.......................................(ঈদ সংখ্যা ২০২০)
বৃষ্টিতে ফুটবল, আহ কি আনন্দ

ব্যাঙ লাফ, আহ কি আনন্দ

পা ভিজিয়ে হাঁটি, আহ কি আনন্দ

গেরামের টারজান, আহ কি আনন্দ

সাত চারা, আহ কি আনন্দ

শহুরে আড্ডা, আহ কি আনন্দ

নতুন বই, আহ কি আনন্দ

বৃষ্টি আইবো রে, আহ কি আনন্দ

বিদ্যাসাগরঃ হে মহাজীবন..................................ডঃ গৌরী বন্দোপাধ্যায় (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

বিদ্যাসাগরঃ হে মহাজীবন..................................ডঃ গৌরী বন্দোপাধ্যায় (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

ডঃ গৌরী বন্দোপাধ্যায়

দয়ার সাগর বিদ্যাসাগর
জ্বলন্ত এক নাম,
নারীমুক্তির প্রতীক তিনি
অনন্য এক সংগ্রাম ।।
স্বামীহারা নারী, লাঞ্ছিতা সমাজে
বিবাহ ছিল শুধু খেলা,
নারীর প্রাপ্তি অবজ্ঞা অনাদর
করেছিলে তুমি দূর, হে, বিদ্যাসাগর ।।
স্ত্রী শিক্ষার দ্বার খুলেছিলে তুমি
বাংলা ভাষার মধু করেছিলে দান,
সমাজের সংস্কারক, মাতৃভক্ত মহান বিদ্যাসাগর
ভোলো নি নারীর, দুঃখ অপমান ।।
শাস্ত্রমতে ‘বিদ্যা দদাতি বিনয়ম’
বিনয় ছিল তোমার ভূষণ,
তোমার আদর্শ হোক মানবের মন্ত্র
বিধবা বিবাহ আইন করেছ প্রচলন।।
প্রাতঃস্মরণীয় তুমি, হে মহাজীবন
দ্বিশতবর্ষে তোমায় জানাই প্রণাম,
তোমার তুলনা তুমিই যে শুধু
শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে আজ ধন্য হলাম ।।

এক নক্ষত্রের নিচে..............................আশিকুর রহমান বিশ্বাস (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

এক নক্ষত্রের নিচে..............................আশিকুর রহমান বিশ্বাস (ঈদ সংখ্যা ২০২০)


আশিকুর রহমান বিশ্বাস


অতঃপর সন্ধ্যা নেমে গেল
পৃথিবীর সব ভূখণ্ডে
এইখানে -
এখুনি।
আমরা রয়ে গেছি উত্তরসূরি হয়ে
রয়ে গেছি ক'জন মিলেমিশে।
ঢের পথ আছে বাকি এখনো - এইখানে
শ্যামল - ধূসর - বালুকাময়;
আমরা রয়ে গেছি উত্তরসূরি হয়ে
রয়ে গেছি ক'জন বেদনার নীড়ে
এক নক্ষত্রের নিচে।
অথচ আমাদের কত ব্যবধান
কতটা পথ রয়েছে বাকি
চিনি নাকো কিছু, জানি নাকো আর
বিপুলা এ পৃথিবী, বিস্ময় কত, কে আছে কার!

মনা চোর...............................আশিকুর রহমান বিশ্বাস (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

মনা চোর...............................আশিকুর রহমান বিশ্বাস (ঈদ সংখ্যা ২০২০)
মনা'র বয়স বেড়েছে ঢের। বয়সের ভারে তার লিকলিকে শরীরটা ধনুকের মতো বেঁকিয়ে এসেছে। দিনের চকচকে আলোয় সে এখন ঝাপসা দেখে। দিঘলীর মরা কপোতাক্ষ দেখলেও তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন ভয়ে ধুক-ধুক করে ওঠে। অথচ একসময় সে এই কপোতাক্ষ একদমে পার হতো সাঁতরিয়ে। নদ পার হলেই হরিপুর গ্রাম। হরিপুর গ্রামের পূর্ব পাড়ায় ঠিক নদের কোল ঘেঁষে মনার বাস। ভাঙা বাঁশের চাটাইয়ের একটা পুরনো ঘরে সে এখন একা থাকে। বউটা গলায় ফাঁস দিয়ে মরেছিল তাও বছর দশের আগের কথা। তার মাস দুয়েক পর খুব শক্ত ভাবেই বিয়ের ঝুল তুলেছিল সে, উঠেপড়ে লেগেছিল সেবার। কিন্তু তার সাথে মেয়ে দিবে কে? অত্রাঞ্চল জুড়ে লোকে তাকে ডাকে মনাচোর নামে। একমাত্র ছেলে সেও তো মায়ের মৃত্যুর পর তাকে ছেড়ে চলে গেছে গ্রামবাসীদের গঞ্জনা সইতে না পেরে। মনার এখন কোনো উপার্জন নেই; এমনকি তার দিকে কেউ সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দেয় না। অথচ কীভাবে যে তার দিন চলে সেই প্রশ্নে উৎসুক জনতা আবার চায়ের দোকান মাতিয়ে রাখে তাও গভীর রাত অবধি। কেউ বলে: তার ঘরের নিচে থরে থরে সোনাদানা, এমনকি নগদ টাকা পয়সা পর্যন্ত পোঁতা আছে, এখন সেগুলো সে মাটি খুঁড়ে তোলে আর খরচ করে। কেউবা বলে: ওগুলো বড্ড বাড়িয়ে বলা তোমাদের। মনার সাথে রয়েছে অদৃশ্যবাদীদের কারবার, তারাই তাকে পালে।
অবশ্য সেসব কথা ফেলে দেবার মত নয়। মনা তার দীর্ঘ চোর জীবনে কখনও কোনোদিন পাবলিকের হাতে ধরা পড়েনি। এমনকি তাকে চুরির মাল ঘরে আনতেও দেখি নি কেউ। এই পেশায় তার অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় নি। সে মাটিতে খেঁজুর পাতার মাদুর বিছিয়ে শোয়। চোখে পড়ার মতো তেমন কিছু তার ঘরে নেই। পিতলের থালাটা, টিনের একটা গ্লাস, মাটির দুটো হাড়ি আর ভাঙা কড়াইটা নিয়ে তার সংসার। একটা ঘুণেধরা আলনা ছিলো তাও বছর দুই আগে ভেঙে পড়েছে। অথচ সে এক প্রতিষ্ঠিত চোর। কয়েক দশকের চুরির অভিজ্ঞতা তার। 'মনাচোর' নামটা ছোট বড় সবার মুখে মুখে।
এ নেহায়েত অদৃশ্যবাদীদের কাণ্ডকারখানা। লোকে তাই বলে। বিস্ময়, গুঞ্জন, আর অতিকথা মনা'কে পিছু ছাড়ছে না যেন।

এই অঞ্চলের ভয়ংকর সিঁদেল চোর ছিলো মনা। হ্যাঁ ভয়ংকরই বটে, বাঘা বাঘা সব লোকজনের বাড়ি থেকে সে চুরি করে নিয়ে গেছে নিঃশব্দে। কেউ জানতে পারে নি কোনোদিন। ঘুটঘুটে অমাবস্যায় তার কাজকারবার, জোছনায় পূর্ণ বিশ্রাম। জোছনা রাতে তার চোখ ভেঙে আসে ঘুমে। অমাবস্যায় হাত পা কামড়ায়, চুলকায়, অদ্ভুত এক অস্থিরতায় সারারাত এপাশ ওপাশ করে সে, একদম ঘুম হয় না। তখন ঘর ছেড়ে সে বেরিয়ে আসে বাইরে। চোখদুটি জ্বল জ্বল করে ওঠে তার। আবার কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।
মনার নাতনিটা তার কাছে থাকতো। মনা তাকে বড় করেছে, কয়েক ক্লাস স্কুলে পাঠিয়েছে, এমনকি যৌবনের শুরুর দিকে বনিয়াদি ঘর দেখে বিয়ে অবধি দিয়েছে তাকে। ছেলেকে তার ভার বইতে হয় নি কখনও। এই নাতনিটাকে বড্ড ভালোবাসে সে। মেয়েটির কিছু হলে যেন আর বাঁচে না মনা। মেয়েটিও দাদার নেওটা। তার সব আবদার এই বুড়ো দাদাটির কাছে। যা কিছু শখ, যা কিছু আহ্লাদ তাও কিনা একসময় দাদার ঘাড়েই চেপে বসে নিঃশব্দে এসে। একবার সে শ্বশুর বাড়ি থেকে এসে কড়া আবদার করে বসল, 'দাদাজান আপনাকে এবার চুরি ছাড়তে হবে।'
মনার চোখ কপালে উঠলো। লাফিয়ে উঠে সে বলল, 'অ্যাঁ, বলিস কী রে! মনাচোর চুরি ছাড়বে!'
মেয়েটি কাঁদো গলায় বলল, 'যদি না ছাড়েন তয় আমি আর ওখানে যাবো না।'
মনা বুঝতে পারলো ব্যাপারটা। সে তার হাতদুটো চেপে ধরে কাঁপা গলায় বলল, 'তোকে কি ওরা কিছু বলে?'
ডুকরে কেঁদে উঠলো মেয়েটি। জড়ানো গলায় বলল, 'বলে না আবার? সবাই বলে। বলে, ঐ দেখ চোরের জাত। আরো বলে।'
মনা হাসলো।
'দাদাজান আপনি হাসছেন?'
'সত্যিই তো বলে ওরা।'
মনা আবার হাসে। তার বড় হাসি পায়। চুরিতে তার একটুও অপরাধবোধ জেগে ওঠে না। তার বিশ্বাস সবার সম্পত্তিতে তাদের একটু হলেও হক আছে। সেই হক থেকে সে খানিকটা অংশ দুই-একবছর পর গিয়ে নিয়ে আসে মাত্র।
এখানে দোষের কী হলো? তার শক্ত যুক্তি। এককালে তাদের অনেক সম্পত্তি ছিলো, এখন কিছুই নেই। মামলা মোকদ্দমা, দখলদারিত্ব, রেষারেষি আর দলাদলিতে সব ছেড়ে চলে গেছে একে একে। তার দৃঢ় বিশ্বাস এখন সবাই তাদের সেই সম্পত্তিগুলোই ভোগ করে খাচ্ছে। অবশ্য তার এই বিশ্বাস ভিত্তিহীন। সে যখন গাঁয়ে এই জাতীয় কথাবার্তা প্রচার করে লোকে তখন তার উপর চটে যায়। মারমুখো হয়ে বলে, 'গেলি না তুই এখান থেকে মনা? চোর কোথাকার।'
মনা হাসে। হাসিতেই যেন তার আত্মতৃপ্তি। এই হাসি প্রতিবাদের। এই হাসি তার সব বিশ্বাসের শক্ত ভিত্তি। রাতে ঘুম না এলে গাঁয়ের বউরা যখন স্বামীদের মৃদু তিরস্কার ভাঙ্গিতে বলে, ' আজ এখনও ঘুমাও নি কেনো?'
'ঘুম যে আসে না বউ।'
'মনা এসে ভর করেনি তো? যাবা নাকি একটা দান মারতে?'
মনা তখনও হাসে। হাসতে হাসতে ক্ষ্যাপা কুকুরের মত হাঁপিয়ে ওঠে সে। হাঁপানিটাই এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকাল সে সামান্য হাঁটলে হাঁপিয়ে ওঠে, উচ্চস্বরে কথা বললে হাঁপিয়ে ওঠে, এমনকি হাসলেও।
মনা তার অবস্থান থেকে সরে এলো। নাতনির কথা না রেখে পারলো না সে। একদিন সকালে সে তার নাতনিকে কথা দিলো, আজ থেকে আর চুরি করবে না। নাতনি খুশিতে কেঁদে ফোললো সেদিন। মনা তাকে জড়িয়ে ধরে বলল,'তোকে যে আমি কত ভালোবাসি জানিস?'
'জানি।'
মনা ম্লান হেসে বলল, 'জানিস না। তুই সেটা জানিস না।'
মেয়েটি বিস্ময়ে তাকালো দাদার দিকে। মনা বলল, 'আমিও জানি না। পাল্লায় কি তা মাপা যায়? যায় না।' মনা মৃদু মাথা নাড়লো বারকয়েক।
মেয়েটি এবার ফিক করে হেসে দিলো। মনার মুখেও হাসির রেখা দেখা দিলো।

কিন্তু মনাকে শেষ বয়সে এসে সংগ্রাম করতে হলো। এক শানকি ভাতের জন্য সংগ্রাম, একদিন বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম। এক জীবনে সে চুরি ছাড়া আর কিছুই শেখেনি। কিন্তু নাতনিকে সে কথা দিয়েছে চুরি করবে না। কখনো না, কোনোদিনই না। সংগ্রাম সে করবে, দিনরাত সংগ্রাম করবে। মনার ঘুৃম হয় না রাতে। সারারাত সে নিজের সাথে কথা বলে। সে-ই বক্তা, সে-ই আবার শ্রোতা। নিজেকে সে জিজ্ঞেস করে, 'মনারে চুরিটা তুই ছেড়েই দিলি?'
'নাতনি যে শোনে না। লোকে মন্দ বলে।'
'তোর সারাজীবনের সাধনা। ছাড়লি। পেট পোড়ে না?'
'পোড়ে। সারারাত পেট পোড়ে আমার।'
বলতে বলতে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে মনা। এরপর অনেকক্ষণ বাইরে হাঁটাহাঁটি করে সে। ঘরের কাঁথা কম্বল, পিতলের থালা, মাটির কলসটা একবার বাইরে - একবার ঘরে, আবার বাইরে, আবার ঘরে- এভাবেই করে সে। কিন্তু তৃপ্তি তার কিছুতেই আসে না। এভাবে তার অতৃপ্ত আত্মা ধীরে ধীরে ক্ষ্যাপা কুকুরের মতো হয়ে উঠে। তামাম দুনিয়াটা সে চুরি করতে চায় একদিন।

এক অমাবস্যায় তার বড্ড চুরির সাধ জাগে। চোখে সেই রাতে সে স্পষ্টই দেখতে পায়। গায়ে শক্তি ফিরে আসে। মনার মন বলে সে যৌবনকালের মত আজও সাঁতরে পার হতে পারবে কপোতাক্ষ। চিন্তা করে জীবনের শেষ চুরিটা আজ সে করবে। নাতনিটা তার কাছেই আছে। সন্তানসম্ভবা সে। অসুস্থ শরীরে সে বেরিয়ে এসে দাদাকে বাঁধা দেয়। পূর্বের প্রতিজ্ঞা মনে করিয়ে দিয়ে বলে, 'দাদাজান আপনি কথা দিয়েছিলেন।'
'আজ তুই বাধা দিস না। আমি কারো কথা শুনবো না আজ।'
'আমার কথাও না?'
'না।'
মনার শক্ত গলায় নাতনি হতভম্বের মতো হয়ে যায়। সে সত্যিই জানেনা তার দাদাজান তাকে কতটা ভালোবাসে। পাল্লা থাকলে আজ সে মাপতে পারতো। মেপে দেখতে পারতো। সেদিনের কথা মনে হয় তার, মনা বলেছিল, 'জানিস না, তুই সেটা জানিস না'।
মনা বেরিয়ে পড়ে। হরিপুর ছাড়িয়ে কপোতাক্ষ সে পার হয়। সাঁতরিয়েই পার হয় সে, কিন্তু একদমে পারে না, হাঁপিয়ে ওঠে।

অমাবস্যার অন্ধকারে জোনাকিপোকার দলও যেন ভয়ে পালিয়েছে আজ রাত্রে। কিছুই দেখা যাচ্ছে না চারিদিক। শুনশান নীরবতা। মনা দেখতে পাচ্ছে, স্পষ্টই দেখছে সবকিছু। আজ সে বেঁকিয়ে হাঁটছে না, যৌবনে যেমন হাঁটতো আজও তেমন হাঁটছে। হেঁটেই চলেছে সে। দিঘলী ছাড়িয়ে কাংশারীপুর গ্রামে ঢুকলো মনা। মাঝ রাত তখন। হঠাৎ তার গা টা ভয়ে ছমছম করে উঠলো। পেছন ফিরে তাকালো সে। একবার। কিছুপর আরো একবার। নীরবতা, অন্ধকার, গুমোট বাতাস চারিদিক। কিছুই দেখলো না।
মনার ভয় বাড়ছে। বুকের ভেতরটা ধুক-ধুক করে উঠছে তার। কেনো উঠছে কে জানে! মনা আবার হাঁটে। হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে। একটা পায়ের আওয়াজ শুনতে পারে সে। তারপর ধীরে ধীরে চোখের সামনে একজন মানুষ স্পষ্ট হয়।
কিন্তু তার মতই দেখতে। একই চেহারা, একই পোশাক। মনা অবাক হয়। ভয়ার্ত গলায় জিজ্ঞেস করে,
'কে তুমি?'
লোকটি গম্ভীর গলায় জবাব দেয়, 'আমি মনা। তুমি?'
'আমিও মনা।'
লোকটি হাসে। হাসতে হাসতে সে বলে, 'মানুষের কি কোনো নাম হয়? হয় না। নাম হয় আত্মার। আত্মা চলে গেলে মানুষ হয় লাশ।'
মনা নির্বিকার ভঙ্গিতে শুধু শুনে যায়। এমন কথা তাকে আগে কেউ শোনায় নি কখনও। কী গাম্ভীরতা বচনে! বাণীতে কী এক আদি সত্য! সে একসময় মুখ ফুটে বলে ফেলে, 'কোথায় যাবে?'
লোকটি বলে, 'তুমি কোথায় যাবে?'
'কোথাও না।'
'আমিও কোথাও না।' তারপর লোকটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে, 'আমরা কেউ কোথাও যাবো না জানো।'
মনা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। লোকটি উচ্চস্বরে হেসে আবার বলে, 'অথচ আমরা সবাই মনা। চোর মনা। সবাই আমরা একেক জন মস্ত বড় চোর। তুমি হলে বাইরের, আর আমি ভিতরের টা।' মনা কিছুই বুঝতে পারলো না, শুধুই হতভম্বের মতো লোকটির দিকে তাকিয়ে রইলো। লোকটি আরো আওয়াজ করে হাসছে।
আর কেউ শুনতে পাচ্ছে না।

চলুন ঘুরে আসি ...................................(ঈদ সংখ্যা ২০২০)

চলুন ঘুরে আসি ...................................(ঈদ সংখ্যা ২০২০)
পানিহাটা তারানি, শেরপুর
বন, পাহাড়, নদী আর ঝরনাই পানিহাটা। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী জনপদ। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার এবং শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে অবস্থিত এ পর্যটন এলাকাটি।
উত্তরে নীলাভ-সবুজ তুরাকে আবছা আবরণে জড়িয়ে নিয়েছে কুয়াশার মতো মেঘ কখনো বা কুয়াশা নিজেই। দূরের টিলাগুলো কেবলই লুকোচুরি খেলে এরই আড়ালে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ছোট ছোট পাহাড়গুলোকে ফাঁকি দিয়ে তুরার অববাহিকা থেকে সামনে সোজা এসে পশ্চিমে চলে গেছে পাহাড়ি নদী ভোগাই। একপাশে তার কাশবন আর অপর পাশে শত ফুট উঁচু দাঁড়িয়ে থাকা সবুজে জড়ানো পাহাড়। নদীর টলটলে স্বচ্ছ পানির নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে নুড়ি পাথরগুলো। সামনের একশ গজ দূরে ভারত অংশে পিঁচঢালা আকাবাঁকা রাস্তা পূর্ব থেকে পশ্চিমে চলে গেছে পাহাড়ের বুকচিরে। আর মাঝেমধ্যেই হুসহাস করে ছুটে চলছে মালবাহী ট্রাকগুলো। চতূর্দিকে ছোট ছোট অসংখ্য পাহাড়ের সারি। পূর্ব দিকের কয়েকটি পাহাড়ের গা ঘেঁষে ভোগাই নদীতে এসে মিশেছে ছোট একটি পাহাড়ি ঝরণা। সেগুন, গজারী আর আকাশমনির বড় বাগানে ঘুরতে ঘুরতে শোনা যাবে পাখ-পাখালির কিচির মিচির। রয়েছে নানা প্রজাতির পাহাড়ি গাছ-গাছরা। কখনো কখনো বিশেষ করে, ধানে থোর আসার সময় কিংবা ধান পাকার সময় দূরের গহীন পাহাড় থেকে বন্যহাতির আওয়াজও মিলে মাঝেমধ্যেই। কখনো বা দূর থেকে তাদের দেখাও মেলে ভাগ্যবানদের।
এখানেই রয়েছে খ্রিষ্টানদের উপাসনালয়, ছোট একটি চিকিৎসা কেন্দ্র, বিদ্যালয় আর ছোটছোট শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হোস্টেল। সেখানে শিশু-কিশোরদেরকোলাহল। সামান্য পূর্বদিকটায় এগুলে উপজাতিদের বসবাসস্থল ফেক্কামারী। উপজাতীয়রা মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় পড়ে থাকার নাম ‘ফেক্কা’। আর তাই পাড়াটি পানিহাটার অংশ হলেও ফেক্কামারী নামে স্থানীয়রা ডাকেন। প্রায় ৪৫-৫০টি পরিবার পাহাড়বেষ্ঠিত এ পাড়ায় মিলেমিশে বসবাস করে। সহজেই আপন করে নেয় তারা সবাইকে।
ফেক্কামারীর কিছুটা পূর্বদিকে পানিহাটা বিল। বিলের চতূর্পাশ ঘেঁষে রয়েছে পাহাড়ের সাড়ি। এ বিলকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে ফিসারী। বাইরে থেকে কেউ বুঝতেই পারবে না যে এতটুকু ভিতরে একেবারে জিরোপয়েন্ট সংলগ্ন এমন নান্দনিক দৃশ্য বা ঘুরে দেখার মতো জায়গা থাকতে পারে। তারানী পাহাড়ের ঢালে ভোগাই নদীর ঠিক উল্টো পাশে মেঠোপথের গা ঘেঁষে রয়েছে পাহাড়বেষ্ঠিত সবুজ গালিচা বিছানো খেলার প্রশস্ত মাঠ। যেখানে বিকেল হলেই পাহাড়ি বালকরা মেতে ওঠে খেলায়। সন্ধ্যা অব্দি চলে তাদের কোলাহল। দর্শনার্থীরা চাইলে এ মাঠে বসেই খাওয়া-দাওয়া বা আড্ডা দেওয়ার কাজও সাড়তে পারেন অনায়াসেই। এসব মিলে প্রকৃতি প্রেমীদের প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করে অপরূপা পানিহাটা-তারানি পাহাড়। অবশ্য পানিহাটা নামেই পরিচিতেরা জানেন। কিন্তু সৌন্দর্য্যের ভাগটা শুধু পানিহাটাই নিতে পারেনি। এর একটা অংশে ভাগ বসিয়েছে তারানি গ্রামের পাহাড়। তাই দর্শণার্থীদের জন্য পানিহাটা-তারানি দুটোই উপভোগ্য।

ফ্রুটস ভ্যালি
মাধবপুর থেকে শায়েস্তাগঞ্জে আসার পথে শাহজিবাজার ফ্রুটস ভ্যালি। এটির অবস্থান রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে শাহজিবাজার গ্যাস ফিল্ডের ভেতরে। ৫ একর জমির উপর ফ্রুটস ভ্যালিটি নির্মাণ করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনা হয় ২০০৩ সালে। বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের উপ-ব্যবস্থাপক এটিএম নাছিমুজ্জামান। তাকে সহযোগিতা করেন গ্যাস ফিল্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এটি মূলত একটি পরিত্যক্ত একটা কূপ। এমনিই পড়ে ছিল। কতিপয় কর্তাব্যক্তি উদ্যোগ নিলেন এখানে ভিন্ন কিছু করা যায় কি না। পরিকল্পনামাফিক কাজ শুরু হলো। এবং ২০০৫ সালের ২২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো ফ্রুটস ভ্যালি। হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার শাহজীবাজারের গ্যাস ফিল্ডে এর অবস্থান। ১৬০টির মতো দেশী-বিদেশী ফলগাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এই ভ্যালি।
ছোট সিড়িগুলো দিয়ে যখন উপরে উঠবেন তখনই মনে হবে উপরে না জানি কি সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে। এবং আপনার অনুমান মিথ্যা হবেনা। টিলার চূড়ায় উঠেই মনটা ভাল হয়ে যাবে। ভ্যালিকে খুব সুন্দর এবং আকর্ষণীয়ভাবে সজ্জিত করা হয়েছে। চাইনিজ নির্মাণশৈলী, আপেল, আনারস, আঙ্গুর লতার তোরণ ইত্যাদি বিশেষত শিশুদের জন্য দারুন চিত্তাকর্ষক।
বিদেশী ফলগাছ যেমন- কফি, রুটি ফল, সবুজ আপেল ইত্যাদির পাশাপাশি রয়েছে দেশীর প্রায় হারিয়ে যাওয়া ফল ঢেউয়া, ঢেফল, থৈকর ইত্যাদির গাছ। বর্তমানে ভেষজ উদ্ভিদের জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করে চলছে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা। নিয়মিত নতুন নতুন ফলের গাছ সংযোজন হচ্ছে। নাম ফলক থেকে জানা গেল দেশী-বিদেশী প্রখ্যাত ব্যক্তিদের হাতেও প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছে।
উদ্ভিদকূলের পাশাপাশি এখানে ঠাঁই পেয়েছে প্রাণীকূলও। কালিম, টার্কি, চিনে হাঁস, ঘুঘু, ময়না, লাভবার্ড, খরগোশসহ গিনিপিগও আছে। দু’টো কালিমকে দেখলাম ঘর বাধাঁর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রয়েছে একটি পরিবেশবান্ধব কটেজ। সিলেটী বেত, শীতল পাটি, গাছের বাকল ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই কটেজ। ভিতরে প্রবেশের সাথে সাথেই আপনাকে অদ্ভূত প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিবে। এখানে দাড়িয়ে উপভোগ করা যাবে চারিপাশের রাবার বাগান।
বর্তমানে করোনার কারনে যদিও এসব অঞ্চলে বাস সার্ভিস বন্ধ রয়েছে তারপরও আপনি চাইলে যে কোন সময়ে নিজের গাড়িতে করে ঘুরে আসতে পারবেন এখান থেকে।

মহেশখালী দ্বীপ
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ কক্সবাজারের মহেশখালী। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরা এ জায়গাটিতে রয়েছে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের চমৎকার চমৎকার সব মন্দির। পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চারিদিকে বিস্তীর্ণ সমুদ্রের দিগন্তে মিলিয়ে যাওয়া জলরাশি দেখা যায় কেবল মহেশখালী থেকেই। পাহাড়, দ্বীপ আর সাগরের এই মিলনস্থলে প্রতিদিনই বহু পর্যটক ভীড় করে সোন্দর্য দর্শনে।
মহেশখালী স্টেশনে নেমে একটি রিকশা ঠিক করতে পারেন সারা দিনের জন্য। রিকশাওয়ালাই গাইড করবে আপনাকে। স্টেশন থেকে প্রথমেই চলে যান বৌদ্ধ মন্দিরে। এখানে সোনালী রঙের দু’টি বৌদ্ধ মন্দির দেখতে খুবই সুন্দর। এছাড়া এখানেই রয়েছে ব্রোঞ্জ নির্মিত বিশাল বৌদ্ধ মূর্তি। মন্দির এলাকায় প্রবেশের আগেই জুতা খুলে রেখে যেতে হবে। এখান থেকে বেরিয়ে সামনেই পড়বে উপজাতীয়দের তৈরি তাঁতবস্ত্রের দোকান।
বৌদ্ধ মন্দির থেকে বেরিয়ে চলুন মহেশখালীর আকর্ষণ-আদিনাথ মন্দিরের উদ্দেশ্যে। রিকশা আধাঘন্টা চললেই পৌঁছে যাবেন আদিনাথ মন্দিরের পাদদেশে। এই আদিনাথ মন্দিরটি কয়েকশ’ বছরের পুরনো। মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দিরে অবশ্যই উঠবেন। ভূমি থেকে ৬৯টি সিঁড়ি অতিক্রম করে উঠে পড়ুন আদিনাথ মন্দিরে। এই মন্দিরের ভেতরেই রয়েছে অষ্টভুজা দুর্গা মন্দির। আদিনাথ মন্দির থেকে আরেকটু সামনেই পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে আরেকটি মন্দির। এটি দেখতেও ভুলবেন না। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মন ভরে দেখে নিন চারপাশের সমুদ্রকে।
আদিনাথ মন্দির থেকে নেমে চলে আসুন জেলে পাড়ায়। এখানকার জেলেদের জীবনযাপনের সাথে পরিচিত হতে পারেন। এছাড়া সমুদ্রের পাড়ে দেখতে পারবেন বিচিত্র শামুক আর ঝিনুক। মহেশখালীর যে-কোনো রেস্টুরেন্টে খেয়ে নিতে পারেন মজার মজার সামুদ্রিক মাছ। কম দামে এখানে খেতে পারেন মজাদার রূপচাঁদা বা কোরাল। যারা শুঁটকি পছন্দ করেন তারা এখান থেকে কিনতে পারেন নানান ধরনের শুঁটকি।
মহেশখালীর আদিনাথ বাজার, জয়ের খাতা, হরিয়ার চরা, জেমঘাট, পাকুয়া, মাতার বাড়ি, পশ্চিমপাড়া প্রভৃতি জায়গাগুলোও চমৎকার। এসব জায়গায়গুলোতে ঘুরেও পেতে পারেন ভিন্ন স্বাদ ও অভিজ্ঞতা।
মহেশখালী যেতে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে পারেন স্থলপথ, রেল পথ কিংবা আকাশ পথে। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের পথে যে সব এসি বাস চলাচল করে তা হলো- গ্রীন লাইন, নেপচুন, সোহাগ পরিবহন। ভাড়া ৪৮০ থেকে ৫১০ টাকা এবং নন এসি বাসে ভাড়া ৩০০ টাকা। সৌদিয়া, এস আলম, ইউনিক, চ্যালেঞ্জার প্রভৃতি নন এসি বাস চলে কক্সবাজারের পথে। কক্সবাজার নেমে কস্তরী ঘাট যেতে হবে রিকশায়। মহেশখালী ঘাট বললেও সবাই চেনে। কস্তরী ঘাট থেকে মহেশখালী স্পীড বোট কিংবা লঞ্চেও যাওয়া যায়। স্পীড বোটে মহেশখালীর ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা আর পথ মাত্র ১৫ মিনিটের। লঞ্চে ভাড়া ১৫ টাকা, সময় এক ঘন্টার মতো।
মহেশখালীতেই রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা আছে। মহেশখালীতে মোটামুটি ভালো থাকার হোটেল হলো ‘হোটেল সি গার্ডেন’। কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে থাকতে পারেন। এখানে অসংখ্য সব ভালোমানের হোটেল আছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল শৈবাল, লাবনী, প্রবাল ছাড়াও বেসরকারি হোটেলগুলো হলো হোটেল সী গাল, হোটেল সায়মন, হোটেল সী প্যালেস, হোটেল মেরিন প্লাজা, মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল, জিয়া গেস্ট হাউজ, সোহাগ গেস্ট হাউজ, গ্রীন অবকাশ রিজোর্ট, নিটল বে রেস্ট হাউজ প্রভৃতি। এসব হোটেলে ৩০০ থেকে ৫০০০ টাকায় রাত্রি কাটানোর ব্যবস্থা আছে।

বগা লেক
বান্দরবনে যে কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে বগালেক তার মধ্যে অন্যতম। প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে এখানে পাহাড়ের উপর জলরাশি সঞ্চার করে তৈরি করেছে হ্রদ। সমুদ্র সমতল হতে প্রায় ১৭০০ ফুট উপরে পাহাড়ের চুড়ায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই অত্যাশ্চার্য হ্রদটি। বিষয়টি যতটা না অবিশ্বাস্য, যতটা না অলৈাকিক তার চাইতেও বেশী এর সৌন্দর্য। শান্তজলের হ্রদ আকাশের কাছ থেকে একমুঠো নীল নিয়ে নিজেও ধারন করেছে সে বর্নিল রং। পাহাড়ের চুড়ায় নীল জলের আস্তর নীলকাশের সাথে মিশে তৈরি করেছে এক প্রাকৃতিক কোলাজ। মুগ্ধ নয়নে দেখতে হয় আকাশ পাহাড় আর জলের মিতালী। প্রকৃতি এখানে ঢেলে দিয়েছে একরাশ সবুজের ছোঁয়া।
যেন তুলির আঁচড়ে বগালেকের পুরো জায়গা সেজেছে ক্যানভাসের রংয়ে আর প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে এঁকেছে জলছবি। এ এমনই এক ছবি যে দেখামাত্র ভ্রমন পিপাষুর তৃষ্ণা মিটে যায় মুহুর্তের মাঝে। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আসার ক্লান্তি হারিয়ে যায় হ্রদের অতল গহ্বরে। সবকিছু মিলে এ যেন এক সুন্দরের লীলাভূমি।
বগালেককে অনেকে ড্রাগনলেকও বলে থাকে। বান্দরবন জেলা হতে ৭০ কিলোমিটার দুরে রুমা উপজেলার কেওকারাডাং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এটি। এই হ্রদটি তিনদিক থেকে পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত। বগালেকের গভীরতা গড়ে আনুমানিক ১৫০ ফুটের মত।
কোথাও কোথাও এর গভীরতা ২০০ ফুটেরও বেশী। এটি সম্পূর্ণ আবদ্ধ একটি লেক। এর আশেপাশে পানির কোন উৎসও নেই। সম্ভবত বৃষ্টির জলই এর একমাত্র উৎস। তবে বগালেক যে উচ্চতায় অবস্থিত তা থেকে ১৫৩ মিটার নিচে একটি ছোট ঝর্ণার উৎস আছে যা বগাছড়া (জ্বালা-মুখ) নামে পরিচিত।
সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এই লেকের পানি প্রতি বছর এপ্রিল থেকে মে মাসে ঘোলাটে হয়ে যায়।
। আর লেকের সাথে সাথে আসে পাশের নদীর পানিও ঘোলাটে রং ধারন করে। কারণ হিসেবে মনে করেন এর তলদেশে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। এই প্রস্রবণ থেকে পানি বের হওয়ার সময় হ্রদের পানির রঙ বদলে যায়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প রয়েছে বগালেকে। এখানে পৌছানোর পরে ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হয়। আর্মি ক্যাম্পের ডানদিকে সরুপথ ধরে এগুলে বমদের গ্রাম আর সোজা লেক ধরে এগিয়ে গেলে সিয়াম দিদির কটেজ। পাশেই লরাম রেষ্ট হাউজ। লরাম রেষ্টহাউজে আপনি রাত্রিযাপন করতে পারেন। সামান্য অর্থের বিনিময়ে অসামান্য একটি রাত্রিযাপন করতে পারেন এখানে। পাশাপাশি খাবারের কাজটি সেরে নিতে পারেন সিয়াম দিদির হোটেলে। সিয়াম দিদি এখানকার একটি স্কুলের শিক্ষিকা। তার একটি কটেজ রয়েছে যেখানে আপনি আতিথেয়তা গ্রহন করতে পারবেন। খাবারে পাবেন মোটা লাল চালের ভাত, ডাল, ডিম ভাজা সাথে হয়তো পাহাড়ি কোন শাক । দীর্ঘ পথ ট্রাকিং করে আসার পর এ খাবারকে মনে হবে অমৃত ।
বমদের পাশাপাশি বগালেকের ঠিক উল্টো দিকে পাহাড়ের ঢালুতে মুরংদেরও একটি গ্রাম রয়েছে। বগালেক হতে পাহাড়ী ঢাল বেয়ে নিচে নেমে গেলেই মুরংদের এই গ্রামটি পাওয়া যাবে। প্রায় মিনিট বিশেক লাগে এখানে পৌছাতে। এরা শিক্ষাগত দিক থেকে বমদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। এখনো পুরোপুরি সভ্য হয়ে ওঠেনি। তাই তাদের সাথে আচরণে কিংবা ছবি তোলার ক্ষেত্রে সাবধান থাকা ভাল।
সকাল, সন্ধ্যা বা রাতে প্রতি বেলায়ই বগা লেক নতুন রূপে ধরা দেয়। এর সৌন্দর্য কাগজে কলমে লিখে আসলে বোঝানো সম্ভব নয়। এক কথায় কল্পনার বাহিরে। সকালের উজ্জ্বল আলো যেমন বগালেককে দেয় সিগ্ধ সতেজ রূপ। ঠিক তেমনি রাতের বেলায় দেখা যায় ভিন্ন এক মায়াবী হাতছানি। রাতের বগালেক দিনের বগালেক হতে একেবারেই আলাদা। আর যদি রাতটি হয় চাঁদনী রাত তবে এটি হতে পারে আপনার জীবনের সেরা রাতের একটি। কি অসাধারণ সে রূপ!
নিকষকালো অন্ধকার রাতে পাহাড়ের বুক চিরে হঠাৎ একফালি চাঁদ মৃদু আলোর ঝলক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বগালেকের শান্তজলে। মৃদুমন্দ বাতাসে ছোট ছোট ঢেউয়ে দুলতে থাকে পানিতে চাঁদের ঝরে পড়া আলোকরাশি। নিজেকে নিজে হারিয়ে ফেলতে হয় এমন রূপে। চারিদিক নিস্তব্দ, নিথর, জনশুন্য। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়েছে সেই নির্জন বেলায় বগালেকের পাড়ে বসে জোৎনাস্নানের অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্য রকম। মুহুর্তের মাঝেই যেন প্রেম হয়ে যায় প্রকৃতি আর মানুষের। প্রহরের পর প্রহর অপলক নয়নে তাকিয়ে থাকতে হয় সে মায়াবী রূপের দিকে।
বগালেকে সারা রাতই আর্মিরা পাহারা দেয়। সুতরাং নিরাপত্তা নিয়ে ভাবার কোন কারন নেই। আপনি চাইলে ক্যাম্পের পিছনে বনে বসেও দেখতে পারেন জোৎস্না রাতের রূপ। সেও এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। চারদিকে জঙ্গলের গাছপালা, পাশেই শুকনো ঝর্না, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর উপরে সয়ম্বরা চাঁদ। ভাবুন তো কি অসাধারণ সে অনুভূতি আর অপুর্ব সে রাত।
বগা লেকের জন্ম ইতিহাস নিয়ে স্থানীয় আদিবাসী গ্রামগুলোয় একটি মজার মিথ প্রচলিত আছে, সেটা অনেকটা এই রকমঃ “অনেক অনেক দিন আগে একটি চোঙা আকৃতির পাহাড় ছিল। দুর্গম পাহাড়ের ঘন অরণ্য। পাহাড়ের কোলে বাস করত আদিবাসীর দল। ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা। পাহাড়ি গ্রাম থেকে প্রায়ই গবাদিপশু আর ছোট বাচ্চারা ওই চোঙ্গা আকৃতির পাহাড়টিতে হারিয়ে যেত। গ্রামের সাহসী পুরুষের দল কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে দেখতে পায়, সেই পাহাড়ের চূড়ার গর্তে এক ভয়ঙ্কর দর্শন বগা বাস করে। বম ভাষায় বগা মানে ড্রাগন। কয়েকজন মিলে ড্রাগনটিকে আক্রমণ করে হত্যা করে ফেলে। ফলে ড্রাগনের গুহা থেকে ভয়ঙ্কর গর্জনের সঙ্গে আগুন বেরিয়ে আসে। নিমিষেই পাহাড়ের চূড়ায় মনোরম এক পাহাড়ি লেকের জন্ম হয়।”
তবে প্রকৃত অর্থে বুৎপত্তিগত কারন বিশ্লেষন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ভুতত্ববিদগন এমনই ধারনা করেন যে, বগাকাইন হ্রদ (বগা লেক) মূলত মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ। তবে অনেকে ধারনা করেন এটি মহাশূন্য থেকে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ডের পতনের ফলেও সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। কেউ কেউ আবার ভূমিধ্বসের কারণেও এটি সৃষ্টি হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে কোন না কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারনে এই পাহাড় চুড়ায় এমন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে।
দুই ভাবে যাওয়া যায় বগালেক। যে ভাবেই যেতে চান না কেন, প্রথমে আপনাকে বান্দরবন হতে চান্দেরগাড়ীতে করে যেতে হবে রুমা।
অসংখ্য গর্তে এবং বাঁকে পরিপূর্ণ উঁচু নিচু এই রাস্তা দেখে সহজেই বুঝতে পারবেন পাহাড়ি জীবন কত কঠিন! রুমা থেকে নৌকাতে করে যেতে হবে রুমা বাজারে, প্রায় ১ ঘণ্টার মত লাগে নৌকাতে। এই নৌকা ভ্রমনটা আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ নৌভ্রমন হবে সন্দেহাতীতভাবে। রুমা বাজারে থাকার জন্য কিছু হোটেল আছে, তবে দিনের মধ্যেই বগালেক চলে যাওয়া উচিত, রুমা বাজারে অবশ্যই বিকাল ৪ টার মধ্যে পৌছাতে হবে, ৪ টার পরে সেনাবাহিনী আর নতুন কোন চান্দের গাড়ি বগালেক এর উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার অনুমতি দেয় না।
রুমা বাজার থেকে চান্দের গাড়িতে ৪ ঘণ্টা লাগে বগালেকে যেতে । এটা নিঃসন্দেহে বাস্তবের রোলার কোস্টার। রাস্তায় দেখবেন পাহাড়ি জীবনধারা, পার্বত্য বনাঞ্চল, হাতি। সবচেয়ে অবাক হবেন, এই খাড়া পাহাড়ে গাড়ি কিভাবে উঠবে? প্রতিটা বাঁকেই আপনার মনে হবে, এইবারই বুঝি গাড়িটা নিচে পড়ে যাবে। ড্রাইভার গুলি খুবই দক্ষ সুতরাং তেমন কোন সমস্যা হয়না।
দ্বিতীয় পথটি ঝুকিমুক্ত কিন্তু দীর্ঘ আর কষ্টের। রুমা বাজার হতে ঝিরি পথ ধরে হেটে যেতে হয় বগালেক। এই পথটি প্রায় ১৮ কিলোমিটার লম্বা। সময় লাগবে প্রায় ৮ ঘন্টা। যারা শারীরিক ও মানসিক ভাবে খুবই শক্ত এবং জীবনে রোমাঞ্চকর যাত্রার সম্মুখীন হতে চান কেবল তারাই এই পথে যাবার চিন্তা করবেন। এটি রিতিমত চ্যালেঞ্জ। এই পথে পাড়ি দিতে হবে কমপক্ষে ৫০টির মত ঝিরি, বহু উচুনিচু পাহার, পাথুরে পিচ্ছিল পথ, জঙ্গল আর ছোট বড় অনেক ঝর্না। পথটি যেমন কষ্টকর তেমনি তেমনি দৃষ্টিনন্দন ও আহা মরি সুন্দর। প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী আপনার কষ্টকে পুরোই ভুলিয়ে দেবে। ছোট ছোট ঝিরি, ঝর্না আর উপজাতী গ্রাম আপনাকে মুগ্ধ করবে।

শূন্যতা........................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

শূন্যতা........................মনিরুল ইসলাম জোয়ারদার (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

এই তরী শুনছো চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেতনও একদম খারাপ না তাহলে আমাদের বিয়ে কেউ আটকাতে পারবে না কি বলো! তানভির অবাক বিশ্ময়ে তরীর দিকে চেয়ে আছে বুঝতে পারছে না চাকরির কথাটা শুনেও তরী কিভাবে নির্বিকার থাকছে আবার ডাকলো এই তরী কি হলো শুনছো না?
তরী ঘাড় কাত করে তানভিরের দিকে চেয়ে মুচকি হেসে বললো স্যালারী কত?
শুরুতেই পঁচিশ পরে আরো বাড়বে।
না চলবে না এমনিতেই প্রমিনেন্ট কোম্পানি না তার উপর স্যালারী এত কম চলবে কিভাবে বিয়ে হবে না।
কথা শুনে তানভির খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললো তাহলে!
তানভিরের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে তরী বলে তাহলে আমাকেও চাকরি করতে হবে।
কিন্তু তোমার তো সবে মাত্র অনার্সের রেজাল্ট বের হলো কবে চাকরি পাবে আর কবে হবে বিয়ে।
এইতো হয়ে যাবে বলে হাসলো তরী। এই আমি উঠছি বলেই তরী বিদায় নিয়ে চলে গেল।
তানভির ভাবছে এপ্রিলের পাঁচ তারিখে জয়েনিং ডেট আগে জয়েন করে নিই পরের মাসেই বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলবো তরী তখন না করতে পারবে না।
তানভির মাস্টার্স আর তরী অনার্স কমপ্লিট করেছে। একে অপরকে পাগলের মত ভালবাসে বিয়েটাও সেরে ফেলবে এমন সময় করোনার জন্য সরকার লক ডাউন করে দিল সমগ্র দেশ, তানভির ফোন দিয়ে তরীকে ডেকে আনলো ক্যাম্পাসে কতদিন দেখা হবেনা তাই তরীও চলে এলো। তুমিতো গ্রামে চলে যাচ্ছো তাইনা তানভিরের জিজ্ঞাসা।
হ্যা, হল বন্ধ করে দিয়েছে কাল সকালেই যাচ্ছি। এমন সময় ঘটনাটা ঘটলো যে সব ভজঘট হয়ে গেল। আরে কয়েকটা দিনইতো এরপর সব ঠিক হয়ে যাবে।ক্যাম্পাস নীরব হয়ে গেছে দু'চার জন ছেলে মেয়ে আছে তাও কাল থেকে কেউ থাকবে না পরুশু থেকে সরকার সব বন্ধ করে দিবে।
হলের সামনে কাঠ বাদাম গাছের নিচে ওরা দাড়িয়ে,কেমন ভয় ভয় লাগছে তরীর।ঠিকাছে তানু চলি গোছগাছ করতে হবে আর তুমিও যাও রাস্তাঘাট ফাঁকা ফাঁকা হয়ে গেছে বলেই তরী বিদায় নিতেই তানভির তরীর হাতটা ধরে মুচকি হাসি দিয়ে বললো এই একটা আবদার রাখবে?
কি বলো? তোমাকে একটা কিস দিবো কতদিন পর দেখা হবেতো তাই।
এ্যাই ফাজলাম বাদ দাও বিয়ের আগে এগুলো আমার পছন্দ নয়।
আরে পাগলী আমিতো কখনোই এরকম আবদার করিনি আজ কেন যেন ইচ্ছে করছে।
শোন পাগলা বিয়ের পর সব হবে বিয়ের আগে কিছুই নয় জানোনা বিয়ের আগে খুল্লাম প্রেম করলে বিয়ের পর হবে শুধুই ঝগড়া বলেই তানভিরের ডান হাতটা তরীর দুই হাতের মাঝে নিয়ে একটু চাপ দিয়ে ফিরে গেল,হলে যাবার সময় বললো ফোনে কথা হবে জান।
তানভির ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো তরীর গমন পথের দিকে।
লক ডাউনের পর তানভির ব্যস্ত হয়ে গেল অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য। ওদের একটা সংগঠন আছে ওরা অসহায় ছাত্র ছাত্রীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করে। এই দুঃসময়ে অনেক ছাত্র ছাত্রী গ্রামে যেতে পারেনি তারা কেউ কেউ টিউশনি করে চলতো এখন সেটাও বন্ধ বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা পাঠানোর মত অবস্থাও নেই মুলতঃ তাদেরকে সহায়তা দিচ্ছে এই সংগঠন। এরা মুলত নিজস্ব এলাকার ধনীক শ্রেণীর লোকদের থেকে চাঁদা তুলে একাজ করছে এই সংগঠনের নেতৃস্থানীয় তানভির যার কারণে সে গ্রামে যেতে পারেনি।করোনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সরকারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে কিন্তু দারিদ্র্যতা ও খাদ্যাভাব মানুষকে বড় অসহায় করে তোলে ফলে বাজারে ভিড় লেগেই আছে করোনার সংক্রমণ বেড়েই যাচ্ছে। তানভিরদের টিম নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।একদিন তানভির নিজেই করোনায় আক্রান্ত হলো সে একটা ম্যাচ বাড়িতে ভাড়া থাকে সেখানেই একরুমে একা আইসোলেশন ঘরবন্দী হলো।একটু জ্বরজ্বর হলেই টেস্ট করাতেই পজেটিভ ধরা পড়ে আর এভাবেই একা একা ঘরে থাকে সে কাউকে জানতে দেয় না এমনকি তরীকেও জানায় না। ফোনে তরীর সাথে স্বাভাবিক কথাবার্তা বলে শুধু তার টিমের বন্ধুরা জানে তাদেরকেও নিষেধ করে দিয়েছে কাউকে কিছু না বলতে।
হঠাৎ একদিন সে ভীষণ অসুস্থ হয়ে গেলে বন্ধুরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখানেই ক'দিন প্রচন্ড শ্বাস কষ্টে ভুগে মারা যায়।ডাক্তাররা আন্তরিক চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারে না। ক'দিন ধরে তরী ফোন করে তানভিরকে পায় না মনে মনে রেগে যায়,না ফোন আর করবো না সিদ্ধান্ত নিয়েও আবার ফোন করে কিন্তু কোন উত্তর পায় না।কয়েকদিন পর তানভিরের ফোন থেকে কল এলে তরী অভিমানে কল ধরে না এভাবে অনবরত ফোন এলে একসময় ধরেই কেন ফোন করেছো আমাকেতো ভুলেই গেছো কি দরকার ফোন করার ইত্যাদি। ওপাস থেকে একটু পর কান্নার শব্দে তরী বলে ন্যাকামি করো কেন ফিসফিস করে ওপাস থেকে একটা পুরুষ কণ্ঠ বলে তরী আমি আনান
সম্বিত ফিরে পায় তরী, আনান ভাই তানভির কোথায় আপনি কেন তানভিরের ফোনে?আপনি কাঁদছেন কেন কি হয়েছে তানভিরের? নানা প্রশ্নে জর্জরিত করে তোলে আনানকে।
আনান হাউ হাউ করে কেঁদে উঠে অস্ফুট কণ্ঠে আনান বলে তরী তানভির আর নেই, ওপাস থেকে ধপ করে একটা শব্দ শুনতে পেল আনান এরপর হ্যালো হ্যালো করে অনেকবার চেষ্টা করেও তরীর কথা শুনতে পায় না আনান। এই লকডাউনে এমন কতযে ঘটনা কতরকমের ঘটনা ঘটেছে তার হিসেব কেউ কি রাখবে।কত প্রেম মরে গেছে কত বিয়ে ভেঙে গেছে কত জীবন চলে গেছে কেইবা তা মনে রাখে।।