Showing posts with label নাজমুল জুবায়ের. Show all posts
Showing posts with label নাজমুল জুবায়ের. Show all posts

বন্ধু আমার..............................নাজমুল জুবায়ের (সেরা অনুগল্প)

বন্ধু আমার..............................নাজমুল জুবায়ের (সেরা অনুগল্প)

কেমন আছ প্রিয়,

মাত্র ২৪ টা পূর্নিমা তিথিতে তোমার সাথে আমার দেখা হয়েছে কথা হয়েছে। বাকি দিনগুলো আমাবস্যার রাতের মতোই আমার কাছে অন্ধকার ছিল। অন্ধকারে তোমাকে খুজতে খুজতে কখন যে অন্ধকার ই আমার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে তা জানা নেই। যে জগতে তোমার বিচরণ সেই জগতে আমি নেই, যে জগতে আমার বিচরণ সেই জগতে তুমি নেই। অথচ পূর্নিমা তিথি আসলেই আমার জগতে তোমার আনাগোনা। ব্যাপারটা যে ইলিউশনস তা আমি জেনেও না জেনে থাকি। তবে আমি এটাও জানি যে এটাকে বলা হয় Self created Reality যেখানে তুমি না থাকা সত্তেও মনে হবে এইত তুমি আমার পাশেই। একটি বছর হয়ে গেল অচিনপুরে তোমার। ওয়াও ট্রিট কি দিবে না নাকি?
সেইদিনটাও ছিল বৃহস্পতিবার। ঘড়ির কাঁটায় ১টা ছুই ছুই, এমন সময়ে অচেনা নাম্বার থেকে কল এসে জানান দিল যে চন্দ্রলোকের অচিনপুরে তুমি আমাকে না জানিয়েই চলে গেছ। তুমি তো দেখি ভারি দুষ্ট একটাবার বল্লেও তো পারতে হাসপাতালে এসে আমাকে দেখে যাও,আমি না হয় তোমার উপর অভিমান করেছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে বললে না কেন তুমি লাস্ট স্টেজে আছ?
আমাকে না বলে চলে যাওয়ার প্ল্যান করেছিলে বুঝতে পেরেছি।
বাহ রে তোমার অনেক কথাই তো দেখি এখন সত্যি, তুমি বলেছিলে আমার কোন প্রকৃত বন্ধু থাকবে না তাই হচ্ছে দেখি। সবাই মনে করেছে আমি তোমাকে ভুলে গেছি, কিন্তু তারা তো জানে না পূর্নচাদের দিনে তোমার আমার দেখা হয়, বকুল তলায় তোমার কাধে মাথা রেখে সারারাত গল্প হয়।
আচ্ছা তাড়াতাড়ি একটা সিমকার্ড নিয়ে নাও না ওখানকার, তারপর আমাকে রোজ রাতে কল দিবে আমি নির্ঘুম রাত তোমার সাথে কথা বলব।
ধ্যাত আজকে তোমাকে আর কিছু বলতে পারতেছি না, বড্ড ঘুম পাচ্ছে। আচ্ছা শোন সামনের পূর্নিমায় আসবে কি?
আসলে আমাকে বলে যেও কিন্তু আমি কবে আসতে পারব তোমাদের চন্দ্রলোকের অচিনপুরে।এই জগতে না আমার আর ভালো লাগতেছে না। সবাই কেমন যেন পর হয়ে যাচ্ছে। আমি কারো চেহারা চিনতে পারতেছি না, মনে হচ্ছে চোখের সামনে কিসের যেন একটা পর্দা টানানো। তবে এবার আসলে কিন্তু আমাকে নিয়ে যেতেই হবে তা না হলে কিন্তু আমি রাগ করব। তোমার হাতটি ধরে কোন এক অন্ধকার রাতে আমিও চলে আসব অচিনপুরে। কেউ আর এই জগতে আমাকে খুঁজে পাবে না।
আচ্ছা আমি তৈরি হয়ে থাকব। এখন তবে একটু ঘুমুতে যাই।
ভালো থেকো বন্ধু।


হৃদি..............................নাজমুল জুবায়ের

হৃদি..............................নাজমুল জুবায়ের

- আব্বু মানুষ মরে গেলে কি হয়? 
- আকাশের তারা হয়ে যায়। 
- আব্বু আকাশের ঐ তারাটা সব চেয়ে উজ্জ্বল কেন? 
- ঐ টা সবচেয়ে ভালো মানুষের তারা মা-মণি। 
- আচ্ছা আব্বু ঐ তারাটার নাম কি? 
- হৃদি । 
- উনি কি খুব ভালো ছিলেন ,তাই না আব্বু? 
- হ্যা মামণি। 
- আচ্ছা আব্বু আমার নাম হৃদি রাখলে কেন? 
- তুমি আমার রাজকন্যা তাই। 
- আচ্ছা আব্বু রাজকন্যার গল্পটা বল। 
- এক দেশে এক রাজকন্যা ছিল।রাজকন্যার নাম ছিল হৃদি।রাজ্যের অনেক আদরের রাজকন্যা ছিল হৃদি, সবাই অনেক ভালবাসত।আর রাজকন্যাও ছিল অনেক ভাল। একদিন এক রাক্ষস এসে রাজকন্যাকে তুলে নিয়ে যায়।তারপর রাজকন্যাকে মেরে ফেলে,আর তখন থেকে আকাশের সবচেয়ে বড় তারা হয়ে যায় হৃদি। 
- আমাকেও যদি রাক্ষস তুলে নিয়ে মেরে ফেলে? 
আবির সাহেব বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন উনার ৫ বছরের মেয়ে হৃদিকে তারপর আস্তে আস্তে বলেন 
- না রে মামণি। আমি একটা হৃদিকে হারিয়ে ফেলেছি আরেকটা হৃদিকে হারাতে দেব না। 
একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মাঝারি মানের একটা পোস্টে চাকরি করে আবির। স্ত্রী অবন্তী আর ৫ বছরের মেয়ে হৃদিকে নিয়ে তার সংসার। অফিস থেকে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে আকাশের দিকে উদাস হয়ে চেয়ে থাকা ওর নিয়মিত কাজ। দূর থেকে দেখলে যে কেউ মনে করবে ও যেন আকাশের দিকে চেয়ে কারো অপেক্ষা করেছে। 
মা-বাবা যখন মারা যান তখন সে কলেজে পড়ে। ছোট বোন ছাড়া আর আপন বলতে কেউ ছিল না পৃথিবীতে।সপ্ন ছিল বুয়েটে পড়বে কিন্তু সংসার আর হৃদিকে দেখাশুনা করতে গিয়ে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হয় নি।বোনকে নিয়ে সব সপ্ন ছিল, বোনও নিরাশ করে নি।নিজে পড়তে পারে নি বলে যে আক্ষেপ ছিল হৃদি বুয়েটে সুযোগ পেয়ে সেই আক্ষেপ গুছিয়ে দিয়েছে।সব ঠিকমত চলছিল হৃদি ভর্তি হওয়ার ৬ মাস পর থেকে কেমন যেন বদলে গেল।ঠিকমত বাসায় যোগাযোগ করত না,বাসায় গেলে কেমন যেন ছটফট করত। আবির বোনের এমন আচরণে বেশ চিন্তায় পড়ে গেল।খুজ নিয়ে জানতে পারল বড়লোক বাবার বখে যাওয়া ছেলে পলাশের সাথে প্রেম করছে হৃদি। সব শুনে আবির সিদ্ধান্ত নেয় হৃদির পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়ার।পরের সপ্তাহে হৃদি বাসায় আসার পর আবির ওর পড়া বন্ধ করে দেয়ার কথা বলে সেই সাথে বলে দেয় হৃদি যেন বাসার বাইরে না যায় । হৃদির অনেক কান্নার পরও আবির তার সিদ্ধান্ত বদল করে না। একদিন সবার অজান্তে হৃদি পলাশের হাত ধরে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। এরপরের ৬ মাস ছিল হৃদির জন্যে অনেক কষ্টের। একদিকে মা-বাবার আদর দেয়া ভাই আর অন্যদিকে তার ভালবাসা।সে চেয়েছিল পলাশকে অন্ধকার জগত থেকে ফিরিয়ে এনে তার ভাইয়ের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইবে।পলাশের উন্নতি দেখে নিশ্চয় তার ভাই তাকে ফিরিয়ে দিবে না। ৬ মাস পর পলাশকে ঠিকই আলোর রাস্তায় ফিরিয়ে এনেছিল,পলাশ নিজ যোগ্যতায় ভাল একটা চাকরী পায়। হৃদি মনে করে এখনই তার ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার উপযুক্ত সময়।কিন্তু ওর ভাগ্যটাই খারাপ। দুইবার ভাইয়ের বাসায় যায় কিন্তু গেটের বাইরে থেকে ফিরে আসতে হয় হৃদিকে।অনেক কান্নাকাটির পরও কেউ গেট খুলে নি।এরপরের সপ্তাহে চট্টগ্রাম বেড়াতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান হারায় হৃদি ও পলাশ। বোনের লাশ পর্যন্ত দেখতে যায় নি অভিমানী আবির। একসময় নিজের দাম্ভিকতার জন্যে নিজের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হয় আবিরের।বোনের স্মৃতি মনে রাখার জন্যে নিজের মেয়ের নাম রাখে হৃদি। এরপর থেকে প্রতিদিন অফিস থেকে ফেরার পর আকাশের দিকে থাকিয়ে থাকে আবির শুনতে পায়, দূর আকাশ থেকে কে যেন খুব করুন সুরে বলছে " প্লিজ, ভাইয়া আমাকে ক্ষমা করে দে,ভাইয়া আমি তোকে অনেক ভালবাসি" 
আজও আবিরের চোখ বেয়ে পড়ছে পৃথিবী হারানোর সেই অশ্রু