Showing posts with label শাহরীন মৌন. Show all posts
Showing posts with label শাহরীন মৌন. Show all posts

হাসপাতাল রহস্য (৩য় পর্ব)..................শাহরীন মৌন

হাসপাতাল রহস্য (৩য় পর্ব)..................শাহরীন মৌন
বাসাবোর এই দোকানটায় খুব ভালো সাজগোজের জিনিস পাওয়া যায়। আবির বাইরে দাঁড়িয়ে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ভাবছে ভেতরে ঢুকবে কি ঢুকবে না। আসলে এই দোকানটায় মেয়েদের খুব ভীড়। পুরুষ নেই বললেই চলে। কিন্তু ওকে তো ভেতরে ঢুকতেই হবে। কে জানে সবাই ওকে দেখে হাসি-তামাশা করবে কিনা। সে যা ইচ্ছা করুক। এইসব বিষয়ে গোয়েন্দাদের বেশি মাথা ঘামাতে নেই। কাজের জন্য যদি একটু কারো হাসির খোরাক হতে হয়, হলোই বা ! তাতে কি এলো গেলো। অনেক ভেবে শেষ পর্যন্ত ভেতরে ঢুকলো আবির। একটা দিকে দেখলো ভীড় নেই বললেই চলে। ও সেদিকটায় গেলো আর দেখলো ওর যা যা প্রয়োজন সবই এখানে আছে। তাড়াতাড়ি ও সেগুলো কিনে নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে গেলো। 
শুভ বাড়িতেই আছে। এই সময় ওর তেমন কাজ নেই। যদিও সামনে তার ল ফাইনাল পরীক্ষা। পড়তে বসা দরকার। কিন্তু পড়ায় যে একদমই মন নেই। এই হয় আসলে। নতুন কেস আসলে ওর পড়া হয় না। দিনরাত শুধু কেসটা নিয়েই ভাবতে থাকে।
আবির সেই যে গেছে এখনো ফিরছে না। এদিকে শুভ বাড়িতে বসে টেনশন করছে। কে জানে কোথায় গেলো সে। "একটা জিনিস তো আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না, হাসপাতাল যদিও জড়িত থাকে এই কেসে কিন্তু যারা মারা গেছে তাদের পরিবার কেনো কিছু জানায়নি থানায়? কিসের ভয়ে? নাকি কেউ ওদেরকে ইচ্ছে করেই ভয় দেখিয়ে থামিয়ে রেখেছে? 
মনে মনে ভাবছে শুভ। আসলেই বিষয়টা বেশ জটিল। এর আগে কিছু জটিল কেস পেয়েছে ওরা। কিন্তু এতটা জটিল কোনো কেসই ছিলো না। ঘটনা কোন দিক দিয়ে কোথায় যে যাচ্ছে বোঝাই যাচ্ছে না। 
এইতো বেশ কয়েকদিন আগে রাতুল খানের বাড়িতে অদ্ভুত ধরণের হুমকি দিয়ে চিঠি আসতো। শেষে আবির ভাই-ই বের করলো যে, রাতুল খান নিজেই বাবার সম্পত্তির জন্য এমন জঘন্য কাজ করেছিলেন। 
সে যাই হোক। এবারের কেসটা খুব ভয়ংকর আর জটিলতায় ভরপুর। নয় নয়টা সুইসাইডাল কেস হওয়া সত্তেও হাসপাতালের লোকজন, প্রশাসন এমনকি ভিক্টিমদের বাড়ির লোক অবধি ভাবলেশহীন! হাসপাতালের একটা বড় অংশ যে এই কাজের সাথে জড়িত তাতো বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু কেন? কি উদ্দেশ্যে এই জঘন্য কাজ গুলো করছে তারা? "নাহ্, আর ভাবা যাচ্ছে না। যাই ভাবছি মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে। 
আবির ভাই যে কীভাবে একসাথে এতো কিছু সামলায় কে জানে। কিন্তু সে তো গেছে অনেকক্ষণ। এখনো কেনো ....

"ক্রিং ক্রিং .....ক্রিং ক্রিং ......" হঠাৎই ফোন বেজে উঠলো শুভর। 
"হ্যালো!
.... 
জ্বি বলছি। বলুন
...... 
আপনি কে কথা বলছেন? 
..... 
ঠিক আছে। কাল সকাল ১০ টায় চলে আসুন।
....... 
আচ্ছা।" 
ফোনটা রেখে বারান্দায় এলো শুভ। কাল সকালে একজন আসবে বললো। খুব নাকি জরুরি কাজ তার। আবার নতুন কেস নাকি কে জানে! না, আবির ভাই আগে আসুক। দেখি কী বলে সে। 
এমন সময় দরজায় বেল বাজলো। শুভ গিয়ে দরজা খুলতেই দেখলো একজন লম্বা চওড়া লোক কিন্তু মাথায় মেয়েদের মতো লম্বা চুল। আগে কখনো দেখেছে বলে তো মনে পড়ছে না। 
- কে আপনি?
- তুইও আমাকে চিনতে পারলি না? তাহলে বাইরের মানুষও চিনতে পারে নি নিশ্চয়ই।
- আবির ভাই! তুমি? মাই গড! আসলেও চিনতে পারিনি। কি বেশ ধরেছো সত্যি!
- আরে দরজা আগলে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? সর, ভেতরে ঢুকতে দে।
- হ্যাঁ, হ্যাঁ। চলো।
রাতে খাবার টেবিলে বসে শুভ আবিরকে জিজ্ঞেস করে,"কোথায় গেছিলে বলো তো? সেই যে কখন গেলে এলে এই একটু আগে। কী কী করলে সারাদিন? কিছু ক্লু পেলে? 
- আরে, আস্তে আস্তে প্রশ্ন কর। এতো প্রশ্ন একসাথে করলে কোনটার উত্তর দেবো? 
- আচ্ছা, আস্তে ধীরেই বলো।
- গিয়েছিলাম তো অনেক জায়গায়। তাই দেরি হয়েছে।
- কোথায় গিয়েছিলে? 
- প্রথমে গেলাম হাসপাতালে। দেখলাম যে আজকে কেমন পরিবেশ। দেখলাম আজকেও বেশ কয়েকজন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। তারমানে যারা এই কর্মকান্ড চালাচ্ছে, তারা পরবর্তীতে এদের মধ্যে থেকে কাউকে তাদের টার্গেট বানাবে। আমাদের কাল অনেক কাজ আছে কিন্তু শুভ। 
- আচ্ছা আবির ভাই, যারা ভর্তি হচ্ছে, তারা কি জেনে শুনেই এই কাজ করছে? মানে তারা কি জানে যে এই হাসপাতালে যে ভর্তি হয়, সেই কোনো না কোনো ভাবে সুইসাইড করে? 
- দেখ, নিজে যেচে কেইবা আর মরতে চায় বল? কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা।
- কি ভাবছো? 
- ভাবছি যে এই অসহায় মানুষদের জীবন নিয়ে কার কী লাভ? আর এরাই বা কেনো সুইসাইড করে? দেখ, হাসপাতালে সবাই তো আসে নিজেকে সুস্থ করে তুলতে। এখন সেইখানে এসেই কেউ নিজেকে কেনই বা শেষ করবে!
- আর কোথাও গেছিলে? 
- হ্যাঁ, তুই বললি না যে ৯টা সুইসাইড হয়েছে? ৯ টা না। ১৩টা সুইসাইডাল কেস হয়েছে। 
- হোয়াট? ১৩টা? 
- হ্যাঁ, ১৩টা। 
- কিন্তু…
- কিন্তু কথা হচ্ছে যে কোনো ভিক্টিমের মানে যারা মারা গেছে আর কি, তাদের কোনো তথ্য হাসপাতালের লিস্টে নেই। আরো বড় কথা কি জানিস? এদের পরিবারেরও কোনো খোঁজ নেই। এদের বাড়ির লোক কারা, কোথায় থাকে কিছুই বের করতে পারলাম না এখন পর্যন্ত। 
- অদ্ভুত তো!
- থানায়ও গিয়েছিলাম বুঝলি। থানার অফিসারের কথাও সুবিধার মনে হলো না। উনাকে আমি যখন জানালাম যে ১৩টা সুইসাইডাল কেস হয়ে গেছে এর মধ্যে, উনি চমকে না গিয়ে ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বহীনভাবে দেখলেন। আর সেই ঠাট্টাই করে গেলেন। 
- আমার কি মনে হয় জানো আবির ভাই? এই অফিসারও মনে হয় এই কাজের সাথে যুক্ত আছে। নাহলে বলো না, ১৩টা খুনের কথা শুনেও উনি এমন কীভাবে করতে পারেন?
খাবার থেকে মুখ তুলে আবির তাকালো শুভর দিকে। কি বললি? খুন? 
- আমার কাছে এখন তাই মনে হচ্ছে। নাহলে হাসপাতালে যারা যাচ্ছে তারা কেনোই বা সুইসাইড করবে বলো? 
- হুম, সেটা তো ভাবছিই। আচ্ছা খেয়ে নে।
খাওয়া শেষে শুভ’র হঠাৎই বিকালের ফোন কলের কথা মনে পড়লো। উফফ, আবির ভাইকে তো বলাই হয়নি ফোনের কথাটা। যাই বলে আসি।আবির ভাইয়ের ঘরে ঢুকে দেখি খাতায় কি যেনো আঁকাআঁকি করছেন। গভীর কিছু চিন্তা করলে এমনটাই করে সে। এই সময় কেউ তাকে ডাকে না। ডাকলেও সে সাড়া দেয় না। তাই শুভ না ডেকেই বের হয়ে এলো। বিছানায় এসে শুতেই ঘুমে গা এলিয়ে দিলো বিছানায় । 
পরেরদিন সকালে ১০ টায় বেল বাজলো ওদের বাড়িতে। শুভ এখনো ওঠেনি ঘুম থেকে। আবির অনেক আগেই উঠে গেছে। এই সময় সাধারণত বুয়াই আসে। কিন্তু আজ তো বুয়াকে আসতে মানা করে দিয়েছি। তাহলে এই সময় কে? 
বেল বেজেই যাচ্ছে। শুভ কি উঠেনি ঘুম থেকে? আচ্ছা আমিই যাই। 
" যাই .......। " 
দরজা খুলতেই ..............

চলবে...............

হাসপাতাল রহস্য...................শাহরীন মৌন

হাসপাতাল রহস্য...................শাহরীন মৌন
আগের পর্বের রেশ ধরে....

সে ফিরে তাকাতেই দেখলো তারই সহকারী শুভ।
: ওহ্, তুই! আমি ভাবলাম আবার এখানে কে আমাকে চিনে ফেললো।
: (সামান্য হেসে) তা ছদ্মবেশে এলেই পারতে!
: হ্যাঁ, তাই ভাবছি। এখন যখন প্রায়ই এখানে আসতে হবে তখন ছদ্মবেশ নিতেই হবে। তো তোর কাজটা হয়ে গেছে?
: হ্যাঁ, বেশ কিছু তথ্য আমি জোগাড় করেছি। ফিরে গিয়ে বলছি, চলো।
: দাঁড়া, নার্সটা সেই কখন ভেতরে গেছে, এখনো আসার নাম নেই।
: কেনো? ঢুকতে দিচ্ছে না ভেতরে?
: নাহ, এখন নাকি ভেতরে ঢোকা যাবে না। কিন্তু আমি ভাবছি যদি ঢুকতে না দেয়, তাহলে কীভাবে আমি ভেতরে যাবো।
: উমমম, আবির ভাই, নার্সটাকে হাত করা যায় না? মানে যদি কোনো ভাবে ওকে আমরা ম্যানেজ করতে পারতাম তাহলে ব্যাপারটা সহজ হতো না? এরা তো টাকার জন্যই খাটে।
: না, না। এটা করা যাবে না। এই হাসপাতালের সাথে জড়িত কাউকে কিচ্ছু জানানো যাবে না শুভ। কারণ, এরা হতেও পারে এই অপরাধের সাথে যুক্ত। তাই এই রিস্কটা নেয়া যাবে না।
: হ্যাঁ, কিন্তু যদি আমাদের ঢুকতে না দেয়, তবে আমরা কীভাবে কেবিনগুলো দেখবো বলো?
: একটা ব্যবস্থা তো করতেই হবে। দেখি না, আগে নার্সটা আসুক। কি বলে শুনি।
: হুম।
ওরা দু’জন হাসপাতালের এক কোণায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে থাকে। এরই মধ্যে নার্স ফোনে কথা শেষে ওদের কাছে চলে আসে। শুভকে দেখে সন্দেহজনক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আবির বুঝতে পেরে বলে,
: ও আমার ভাই, শাকিব। ইচ্ছা করেই আসল নামটা গোপন করে আবির। আচ্ছা, আমাদের যেতে দেবেন না ভেতরে? আমাদের তো খুবই দরকার।
: দেখেন, আমি তো সাধারণ নার্স। আমাকে যেমন নির্দেশ দেয়া হয় আমি তেমনই করি। আমি ওপর মহল থেকে অনুমতি নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা অনুমতি দিলেন না। আপনারা জিনিসগুলোর মায়া ছেড়ে দিন। আর এমনিতেও আপনারা ওগুলো পেতেন না। কারণ, ডেডবডি সরানোর পরে কেবিন ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলা হয়। কিছু জিনিস থাকলে তা তাদের বাড়ির লোকই নিয়ে যায়, নয়তো আমরা ফেলে দেই। তাই বলছি, আপনাদের জিনিসও আপনারা পাবেন না।
: এমন বলবেন না। আমাদের যে ওগুলো খুব দরকার। একটু দেখেন না যদি ব্যবস্থা করতে পারেন ।
: আহা! আপনাদের বলছি না অনুমতি নেই! কেনো বায়না করছেন? আর কি এমন জিনিস যেটা না হলেই নয়? মানুষটাই তো মারা গেলো। আর কি চান বলেন তো। আমার কাজ আছে। আমাকে যেতে দিন। এই বলে নার্স ওখান থেকে চলে গেলো।
: আবির ভাই, কি ভাবছো? কি করবে এবার?
: বুঝতে পারছি না। তবে গণ্ডগোল যে বড় সড় সেটা আন্দাজ করতে পারছি ভালোভাবে।
: আমাদের অন্য রাস্তায় হাঁটতে হবে বুঝলে?
: হুমম, তাই ভাবছি। চল, আজকের মতো ফিরে যাই। কিন্তু কাল আবার আসবো।

আবির আর শুভ হাসপাতাল থেকে চলে আসে। শুভ, আবিরের সহকারী। ছোট ভাইও বলা যায়। একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ল পড়ছে। আর আবিরকে কাজে সহায়তা করছে। এরই মধ্যে আবিরের সাথে বেশ কিছু কেস সল্ভও করেছে। তাই আবির তাকে অনেক ভরসা করে। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কাজের দায়িত্ব শুভ পালন করে। এইতো, এই কেসেও আবিরকে সাহায্য করছে।
শুভর বাবা, মা গ্রামে থাকেন। আর আবিরের বাবা মা অনেক আগেই মারা গেছেন। চাচার কাছেই মানুষ হয়েছে আবির। বেশ কিছুদিন হয়েছে চাচাও মারা গেছেন। এখন আবির বলতে গেলে একাই। তাই আবির আর শুভ একসাথেই থাকে। ভালোই হয়েছে একদিক দিয়ে। বাসায় তারা ছাড়া আর কেউ থাকে না, এতে তাদের কাজে সুবিধা হয়। বেশ কয়েকদিন হলো ওরা বাসায় ছুটা বুয়া রেখেছে। সকালে এসে কাজ করে দুপুরে চলে যায়। বুয়া অবশ্য জানে না যে ওরা গোয়েন্দা। বাড়তি সতর্কতা নিতেই হয়। কারণ শত্রুরা সব সময় তথ্য চায়, আর তাই এদেরকেই আগে হাত করে।

হাসপাতাল থেকে ফিরে শুভ আর আবির বারান্দায় বসে চা নিয়ে। শুভ আলাপ শুরু করে,
: এই নিয়ে মোট ৯টা সুইসাইডাল কেস হয়েছে এই হাসপাতালে।
: ৯ টা !!
: হুমম, ৯ টা। আর সবচেয়ে বড় আশ্চর্যজনক কি জানো? এই ৯ জনই কিছু না কিছু রোগ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলো।
: হাসপাতালে সবাই তো চিকিৎসার জন্যই আসে।কিন্তু এই ৯ জনই কেনো?
: আরেকটা কথা। সবারই মৃত্যু রাত ১ টা থেকে ৩ টার মধ্যে।
: অদ্ভুত তো। দেখো আবির ভাই,আমার যতো দূর ধারণা হাসপাতালে কিছু একটা ঘটনা আছেই।
: তা তো আছেই শুভ। বড় ধরণের খেলা চলছে ওখানে। কিন্তু,
: কিন্তু?
: আমি ভাবছি, এই যে মানুষগুলো সুইসাইড করেছে তাদের পরিবারের কেউ কেনো থানায় জানায়নি?
: তুমি গিয়েছিলে থানায়?
: হ্যাঁ,আগে থানায় গিয়েছিলাম। অফিসার বললেন যে,উনি এমনটা শুনেছেন কানাঘুষা কিন্তু কেউই নাকি উনার কাছে অভিযোগ দায়ের করেননি।
: এটা কীভাবে সম্ভব? না,মানে মানছি যে হাসপাতাল এই মৃত্যুগুলোর সাথে হয়তো জড়িত। কিন্তু তাই বলে ভিক্টিমের পরিবারও? উনাদের কি স্বার্থ?
: দেখ, কার কী স্বার্থ, কে কেনো কী করেছে এগুলোর উত্তর জানতে হলে আমাদের আগে হাসপাতালের ভেতরে যাওয়াটা খুব জরুরি। মারা যাবার আগে তারা যে কেবিনগুলোতে ছিলো সে জায়গাগুলো দেখা দরকার একবার।
: কিন্তু আমাদেরকে কোনো কারণ ছাড়া ওরা ঢুকতে দেবে না। ছদ্মবেশ নিতেই হবে।
: সেটাই ভাবছি। শুভ, তুই একটু থাক। আমি চট করে আসছি। বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো আবির।
(চলবে........)

হাসপাতাল রহস্য (ধারাবাহিক).................................সাজিয়া শাহরীন বিনতে শাব্বির মৌন

হাসপাতাল রহস্য (ধারাবাহিক).................................সাজিয়া শাহরীন বিনতে শাব্বির মৌন

 - তারমানে আপনি বলছেন যে ঐ হাসপাতালে যেই ভর্তি হয় সেই সুইসাইড করে? প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর জনাব আবির চৌধুরীকে প্রশ্ন করলেন ডেমরামারা থানার ওসি মি. বসু।

- হ্যাঁ, ওখানে যেই ভর্তি হয়, সে-ই অজানা কারণে সুইসাইড করে। আর এটা বেশ কয়েক মাস ধরেই চলে আসছে।

- এটা কিভাবে সম্ভব? আর আপনি কীভাবে এত কিছু জানলেন? আবার সেই শখের গোয়েন্দাগিরি ! বলে একচোট হাসলেন মি. বসু।
- ঘটনাচক্রে একটা কেস আমি পেয়েছি। তাই ভাবলাম একবার আপনার সাথে কথা বলে যাই। কিন্তু এতগুলো সুইসাইড হয়েছে ওখানে আপনার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি? আই মিন ভিক্টিমের পরিবার?
- না, আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে আমিও শুনেছি এমন ২/৩ টা সুইসাইড নাকি হয়েছে। তবে কি বলেন তো, কেউ যদি অভিযোগ দায়ের না করে আমি তো সেই হাসপাতালে গিয়ে সার্চ করতে পারি না।
- মি. বসু, আপনার একবার সেখানে যাওয়া উচিত। কী এমন কারণ থাকতে পারে যে, যে-ই ভর্তি হচ্ছে সেই সুইসাইডাল হচ্ছে?
- দেখেন, শখের বশে কাজ করাটা আপনাদের পেশা, আমাদের নয়। আমাদের আরো অনেক কাজ থাকে। তবুও আপনি যখন বলছেন আমি একবার যাবো।
- ঠিক আছে, তাহলে আজ উঠি। বলে আবির থানা থেকে বের হয়ে যায় ।

সেন্ট্রাল হাসপাতালে একটা গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে। ঐ হাসপাতালে যে ভর্তি হয়, সে-ই কোনো একটা অজ্ঞাত কারণে সুইসাইড করে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলো কোনো পরিবারই থানায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি। কিন্তু কেনো? কি রহস্য লুকিয়ে আছে ঐ হাসপাতালে? না, জানতে হবে এর পেছনে কী রহস্য আছে! আবির ভাবতে ভাবতে রাস্তা পার হচ্ছিল।
আচমকা ওর সামনে দিয়ে সাঁই করে একটা গাড়ি ক্রস করেই হার্ড ব্রেক কষলো। দেখে চলতে পারেন না? চোখ কি আকাশে তুলে হাঁটেন? গাড়ির ভেতর থেকে আবিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন এক তরুণী।
- আই অ্যাম স্যরি ম্যাম, আমি আসলে খেয়াল করিনি। আমার আরো সতর্ক হওয়া উচিত ছিলো।
- তো কোথায় যাবেন বলেন। নামিয়ে দিয়ে আসি। নাহলে না জানি আবার কোন গাড়ির তলায় পড়বেন। বলে হাসলো মেয়েটি।
- না, না । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আমি সামনেই যাবো। কিন্তু এবার আর গাড়ির তলায় পড়বো না।
- ঠিক আছে, উঠুন আপনি। আমি নামিয়ে দেই।
- না ঠিক আছে। তার কোনো দরকার নেই। আমি চলে যেতে পারবো।
- আমি জানি, আপনি যেতে পারবেন। কিন্তু আমি আপনাকে নামিয়ে দিতে চাচ্ছি। না করবেন না প্লিজ । আমি কারো না শুনতে পারি না।
- আচ্ছা ঠিক আছে। সামনেই নেমে যাবো। গাড়িতে উঠে বসে আবির। দুইজনই চুপ করে আছে। নীরবতা ভেঙে মেয়েটিই প্রশ্ন করলো আবিরকে, আপনার নাম কি?
- আবির, আপনি?
- সেঁজুতি। নাইস টু মিট ইউ, বলে হাত বাড়িয়ে দিলো মেয়েটি আবিরের দিকে। করমর্দন শেষে মেয়েটি বললো, আপনি কি করেন? মানে কোনো জব নাকি ব্যবসা?
মেয়েটাকে কি আমার আসল পরিচয় দেয়া ঠিক হবে? অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে শেষে বলে, আমি একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর।
- ওয়াও!! আপনি কি প্রফেশনাল?
- হুঁম, বলতে পারেন। ভাই, এখানে সাইড করেন। ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বললো আবির। আসছি। থ্যাংকস লিফ্টের জন্য।
- আরে কোনো ব্যাপার না। আপনাকে সাহায্য করে আমার ভালো লেগেছে।
- আচ্ছা আসছি। আবির মেয়েটির থেকে বিদায় নিয়ে হাসপাতালের দিকে এগোলো। ইচ্ছে করেই একটু আগে নেমে গেছে আবির। কোনো ব্যাপারেই রিস্ক নেয়া উচিত না। ও যে গোয়েন্দা এটা এখন কারো জানার দরকার নেই।
হাসপাতালটা বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছে বেশিদিন হয়নি নির্মানের। দেখা যাক ভেতরে কি অবস্থা। আবির হাসপাতালের ভেতর ঢুকলো।
ভেতরটা দেখে বোঝার উপায়ই নেই যে একের পর এক সুইসাইডাল কেস এখানে ঘটে যাচ্ছে। এখনই কাউকে বলা যাবে না কেসের ব্যাপারে। কিন্তু কি বলে যে শুরু করবে বুঝে উঠতে পারছে না আবির। সামনে একটা নার্সকে দেখতে পেলো। তার কাছে এগিয়ে গেলো।
- এক্সকিউজ মি, আমি মিতালি জাহানের বাড়ির লোক।
- কোন মিতালি?
- যে মিতালি আত্মহত্যা করেছে।
- সে তো কত মিতালিই আত্মহত্যা করে। সবার নাম কি মনে থাকে বলেন। বলেই চমকে উঠলো নার্স। বেশ কয়েকবার ঢোকও গিললো। ব্যাপারটা নজর এড়ালো না আবিরের। বুঝতে পারলো অনেক কিছু লুকিয়ে আছে এই হাসপাতালে।
- কি বললেন? অনেক মিতালি আত্মহত্যা করে মানে?
- না, মানে। বলে আবারো ঢোক গিলে নার্স। মানে, বলছিলাম কি যে আমাদের কাছে তো এমন কেস অনেক আসে। সবাইকে তো মনে রাখা যায় না, তাই না? বলে কপালের ঘাম মোছে নার্সটি।
- হ্যাঁ, সেটা ঠিকই বলেছেন। কয়জনকেই বা মনে রাখবেন। আচ্ছা যা বলছিলাম, মিতালির মা আমাকে বলেছেন যে, হাসপাতালে সে যে কেবিনটায় ছিলো সেখানে তার কয়েকটা জিনিস আছে। তো আমি ওগুলো নিতে এসেছি।
- না, না। এখন কোনো রুমে যাওয়া যাবে না। আর তাছাড়া বডি সরানোর পর রুম ভালোভাবে ক্লিন করা হয়। তাই কোনো জিনিস যদি থেকেও থাকে এখন আর পাবেন না।
- না, আমাকে রুমটা একবার দেখতেই হবে। কী আছে ঐ রুমে? মনে মনে ভাবে আবির।
- দেখুন, আমি জানি হয়তোবা কিছুই পাবো না। কিন্তু এমনও তো হতে পারে যে কিছু খুঁজেও পেলাম । প্লিজ, আমাকে নিয়ে যাবেন একটু?
- আচ্ছা, দাঁড়ান এখানে। দেখছি।
নার্সটাকে ভালোভাবে লক্ষ্য করছে আবির। নার্সটার মধ্যেও মনে হচ্ছে সমস্যা আছে। তাকে চোখে চোখে রাখতে হবে। নার্সটা গিয়ে কার সাথে যেনো ফোনে কথা বললো। এদিকে আবির এমন একটা ভাব করে আছে যাতে কেউ তাকে দেখে বুঝতে না পারে সে কে। সবই ঠিক আছে, তাও কি যেনো ঠিক নেই। ঠিক ধরতে পারছে না আবির। হঠাৎই পেছন থেকে কেউ ওকে ডেকে উঠলো। সে ফিরে তাকাতেই ……

(চলবে)

এ মাসের রান্না ................................সাজিয়া শাহরীন বিনতে শাব্বির মৗন

এ মাসের রান্না ................................সাজিয়া শাহরীন বিনতে শাব্বির মৗন
উপকরণঃ এক কেজি গোশত (যে কোন গোশত ব্যবহার করতে পারবেন তবে গরু কিংবা খাসীর ক্ষেত্রে সময়টা একটু বেশি লাগবে), এক কেজি পোলাও’র চাল, গোল মরিচ এক চা চামচ, গোটা ধনে এক চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি পরিমাণ মতো, কাঁচা মরিচ, দারচিনি, এলাচ, কালো ফল (বড় এলাচ), স্টার এনিস, আদা বাটা দেড় চা চামচ, রসুন বাটা দেড় চা চামচ, গোলমরিচ গুড়া হাফ চা চামচ, লবণ স্বাদ মতো, তেল এবং ঘি পরিমাণ মতো। 

অশরীরি অবয়ব............................শাহরীন মৌন (ঈদ সংখ্যা ২০২০)

অশরীরি অবয়ব............................শাহরীন মৌন (ঈদ সংখ্যা ২০২০)
বাগানের ওদিকটায় কে যেন দাঁড়িয়ে আছে।  হ্যাঁ, তাই তো। লম্বা মতো কেউ। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আমি। কিন্তু এখানে কে আসবে?? ভাবতেই হিমশীতল  শিহরণ বয়ে গেল মেঘলার গায়ে দিয়ে। এই পুরো বাড়িতে ও একা। আর বাগানে আসতে গেলে বাড়ির ভেতর দিয়য়েই আসতে হবে। চোর হলে তো এতক্ষণে চলে যেত ওকে দেখে। কিন্তু কই, অবয়বটা তো একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে। হঠাৎই ভয় ও তীব্র উত্তেজনা গ্রাস করল মেঘলাকে। কেননা বাড়িতে কেউ নেই। তাই কাউকে ডেকেও সাহায্য পাবে না। পেছনে সরে যাবে সেই শক্তিও নেই। অদ্ভুত একটা নেশা কাজ করতে শুরু করল মেঘলার। কে দাঁড়িয়ে আছে ওকে জানতেই হবে। ও এক পা দু পা করে এগিয়ে গেল। কাছে যেতেই মুখটা স্পষ্ট দেখতে গেল চাঁদের আলোয়। মেঘলার মনে হল কে যেন ওর গালে ঠাস করে একটা চড় মেরেছে। চারিদিকে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা, শুনশান করছে সব। যেন পৃথিবীর সবকিছু চোখের নিমিষে স্তব্ধ হয়ে গেছে। না, এ কিভাবে সম্ভব?  না, না এটা সম্ভব না। আমি ভুল দেখছি। অবশ্যই আমি ভুল দেখছি। নিজের মনকে বৃথা সান্ত্বনা দিতে লাগল মেঘলা। কিন্তু এটা কিভাবেই বা সম্ভব?? মাথা কাজ করছে না মেঘলার। এমন পরিস্থিতিতে পরবে ভাবেনি কোনদিন। ও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অবয়বটার দিকে। অবয়বটাও ঠিক মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছে মেঘলাকে। কিন্তু এতদিন পর এভাবে কেন আসলো ও মেঘলার কাছে??
“ সাজিদ ” অবয়বটা ঘুরে গেল পেছনের দিকে। “ সাজিদ......সাজিদ......শোন, দাঁড়াও। কিন্তু অবয়বটার যেন ওর কথা শোনার সময় নেই। চলে যাচ্ছে ও। কেন সাজিদ দেখা দিল আমাকে? কি বলতে চায় ও?“ যেও না প্লিজ। একবার শোন আমার কথাটা ”নাহ, অবয়বটা মনে হয় ওর কথা শুনতে পাচ্ছে না। চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেল অবয়বটি। হ্যাঁ, অবয়বটি আর কারো নয় সাজিদই ছিল এটা। সাজিদকে চিনতে কখনো ভুল করবে না মেঘলা।
আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগের কথা।  সময়টা ছিল ২০১৮ সালের জুন মাসের শেষ দিকে । ইয়ার ফাইনালের জন্য জাঁকিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল মেঘলা। এতটাই ব্যস্ত, এতটাই মগ্ন ছিল পড়াশোনায় নিজের বেস্ট়ফ্রেন্ডকে ও সময় দিতে পারছিল না । কিন্তু মেঘলার উপায়ও ছিল না। কারণ যেভাবেই হোক টপার ওকে হতেই হবে। তাই কেউই এখন আপন না ওর কাছে। হ্যাঁ, নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডও না। হয়তোবা সাজিদ ওর বেস্ট ফ্রেন্ড কখনোই ছিল না । শুধু ব্যবহারই করে গেছে সাজিদকে ।  বন্ধু হিসেবে সব রকম সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছে সাজিদের কাছ থেকে । কিন্তু ওর জন্য কিছু করা উচিত ছিল ভাবেনি।  হয়তো ভেবেছিল, কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি। সাজিদ ছেলে হিসেবে খুবই চাপা ছিল । হুহ ! ( ব্যাঙ্গাত্মক হাসি ) ছিলো কেন বলছি? কারণ ও আর নেই।  চলে গেছে পৃথিবীর সমস্ত মায়া ত্যাগ করে । তার জন্য কি কিছুটা হলেও মেঘলা দায়ী নয়? অবশ্যই দায়ী। ও সময় দিতে পারেনি সাজিদের কঠিন সময়ে। যখন ও বইয়ে মুখ গুঁজে পড়েছিল তখন হয়ত সাজিদ যন্ত্রণায় কষ্টে আর্তনাদ করছিল। কিন্তু কাউকে বলতে পারছিল না । কাকেই বা বলবে । তার তো বলার মত কেউ ছিল না। যে ছিল সে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল। হ্যাঁ, নিজের স্বার্থের জন্য সাজিদকে অবহেলা করেছে মেঘলা। সাজিদের কথাগুলো শোনার মত সময় ওর কাছে ছিল না।
" মেঘলা, বাসায় আছিস ?"   সাজিদ একদিন সকালে ফোন করে মেঘলাকে  ।
" বল, কি বলবি । তাড়াতাড়ি বল। "

" এত কিসের তাড়া তোর , হুমম ?"
" সাজিদ, সামনে ইয়ার ফাইনাল । ভুলে গেছিস ?পড়ছি আমি । "
 " হ্যাঁ , পড়ছিস তো ভালো কথা । ১০ টা মিনিটও সময় হবে না তোর আমার কথা শোনার জন্য ?". শান্ত গলা সাজিদের ।
 " যদি পড়াশোনা নিয়ে কিছু বলিস, তাহলে শুনছি , বল। অন্যকিছু হলে শুনবো না । পড়া থেকে মন উঠে যাবে। " 
" আচ্ছা , থাক। ( দীর্ঘশ্বাস )  তুই পড় ভালো করে । রাখি । "
 " হ্যাঁ , রাখ। " পড়ায় আবার ডুব দিলো মেঘলা। কিন্তু .......কিন্তু ও কি জানতো এটাই সাজিদের সাথে এর শেষ কথা  । না , জানতো না । জানলে এতটা অবজ্ঞা করতো না সাজিদকে। বাস্তবে ফিরে এল মেঘলা। দেখলো যেখানে ছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে যাবে এমন সময় দেখল যে যেখানে সাজিদ দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে একটা কাগজ পড়ে আছে। কাছে গিয়ে তুলতে বুঝল এটা একটা চিঠি। চিঠিটা আর কারো নয় , সাজিদের । সাজিদ দিয়ে গেছে মেঘলাকে । মেঘলা কাঁপা কাঁপা হাতে চিঠিটা খুলল।
‘‘মেঘলা,তোর কাছে যখন চিঠিটা পৌঁছাবে তখন আমি অনেক দূরে। জানি তুই তোর পড়াশোনা নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছিস। এতটাই ব্যস্ততা তোর যে আমার কথা শোনার মতো সময় বা ধৈর্য কোনটাই তোর নেই। কিন্তু বিশ্বাস কর, আমার তো তুই ছাড়া কেউ নাই কথাগুলো বলার জন্য। তুই ছাড়া আমি কাকে বলব বল। তুই শুনতে না চাইলেও আমি আজ বলবো। জানিস বন্ধু, ফিয়া আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমি তো ওকে অনেক ভালবাসতাম রে। কি ভুল ছিল আমার বল তো? কি অন্যায় করেছিলাম আমি যে ও আমাকে ছেড়ে অন্য কারো হয়ে গেল! ওর জন্য আমি কি করিনি বল? তুই তো সাক্ষী কতটা পাগলের মতো ভালোবাসি আমি ওকে। নিজের আপন সত্তাকে ভুলে ওর কথায় ওঠাবসা করেছি। শুধু ভালোবাসি বলে। কখনো অভিযোগ করিনি। ও এটা কিভাবে করতে পারলো আমার সাথে? যাক, ওকে আমি সুখী দেখতে চাই। ও যার সাথে থাকুক ভালো থাকুক। কিন্তু জানিস ও ছাড়া আমি যে অসম্পূর্ণ। ওকে ছাড়া আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি শ্বাস নিতে পারি না। একদিকে ওর দেয়া কষ্ট, অন্যদিকে বাবা-মার বঞ্চনা। তোকে কখনো বলিনি। আজ বলবো। বাবা-মা আমার সাথে ভালোভাবে কথা বলে না রে। কেন বলে না জানি না। তবে ওদের ব্যবহারে আমি স্পষ্ট বঞ্চনা, বিরক্তির ছাপ পাই। সবসময় আমাকে পড়াশোনা নিয়ে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু আমি কি চাই তা কখনোই জানতে চায় না। তাদের ইচ্ছা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। অথচ আমার ইচ্ছাগুলো তাদের ইচ্ছার ভারে চাপা পড়ে যায়। আমি না এভাবে আর পারছি না। কষ্টগুলো আমার বুকের ভেতর জেঁকে বসে আছে। সরানোর জন্য কারো সাহায্য দরকার, জানিস তো। কিন্তু কেউ নেই সাহায্যের জন্য। আমি আজ বড় অসহায় রে বন্ধু। তাই এভাবে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে সবাইকে শান্তি দেয়াই শ্রেয়। চলে যাচ্ছি আমি। তুই টেনশন করবি না। দেখিস তুই টপার হবিই। আমি জীবন যুদ্ধে হেরে গেলে কি হবে, আমি জানি আমার বন্ধু ঠিকই জয়ী হবে। সেদিনটা আমি হয়তো তোর বন্ধু হয়ে তোর পাশে থাকতে পারবো না, তোকে অভিনন্দন জানাতে পারবো না। কিন্তু দূর থেকে তোর আনন্দ দেখে ঠিক আনন্দিত হবো। আর হ্যাঁ, আমার মৃত্যুর পর এই চিঠিটা কোন না কোন ভাবে পৌঁছে যাবে। ভাল থাকিস বন্ধু।
ইতি“ তোর বন্ধু "
বুকটা কষ্টে ফেটে যাচ্ছে মেঘলার। চোখের পানি বাঁধ মানছে না  । " আমি , আমিই দায়ী সাজিদের মৃত্যুর জন্য। " হঠাৎই মেঘলার মনে হলো কেউ ওকে ডাকছে। " মেঘলা " " সাজিদ ....." ( কান্নায় ভেঙে পড়ে মেঘলা ) "  তুই কাদিস না বন্ধু  "
"  আমাকে তুই ক্ষমা করে দে , সাজিদ। আমি তোর বন্ধু হতে পারিনি।  তোকে শুধু ব্যবহারই করে গেছি।   তোর প্রয়োজনে তোর পাশে থাকিনি । তোর কোন কথা শুনিনি।  ক্ষমা করে দে আমাকে ভাই ।অনেক বড় অন্যায় করেছি তোর সাথে । ( কাঁদতে কাঁদতে বলে মেঘলা)
" আমার জন্য নিজেকে অপরাধী করিস না মেঘলা । আজ আমি আমার দোষেই সবার থেকে আলাদা। তবে আজকের পর আর আমাকে তুই দেখতে পাবি না। কিন্তু যেখানেই থাকিস জানবি এই বন্ধু তোর পাশে আছে।  এই দুটো চোখ তোকে আগলে রাখবে।  ভালো থাকিস , বন্ধু । ভালো থাকিস । "
হাওয়ায় যেন মিলে গেল সাজিদের অবয়ব । সাথে সাথে ঘুমটা ভেঙে গেল মেঘলার। কি ভয়ঙ্কর স্বপ্নই না দেখলো। মাঘ মাসের শীতেও দরদর করে ঘামছে ও। তড়িঘড়ি করে ফোনটা হাতে নিল সাজিদকে ফোন করবে বলে। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো সাজিদের মেসেজ । খুলতেই দেখল সাজিদ বেশকিছু ছবি পাঠিয়েছে ওর।  কক্সবাজার ঘুরতে গেছে গাধাটা।  আপন মনে হেসে উঠল মেঘলা । উফফ !! কি দুঃস্বপ্নই না দেখলো  !