Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

চাঁদ যেটুকু আমরা ভাগে পেয়েছি........ গোলাম রসুল

চাঁদ যেটুকু আমরা ভাগে পেয়েছি........ গোলাম রসুল


আকাশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঈগল উড়ছে
আর ওই ঈগল গুলোর ওপর বায়ুমণ্ডলের
সাক্ষী স্বরূপ চড়ে বসে আছে হাওয়া
কি মারাত্মক আমাদের জীবন
আর মানবতার দুটো কোণ
আমি জনতার সামনে আয়না ধরলাম
তারা যদি তাদের প্রভুকে দেখতে পায়
আমাদের জীবন নাকি প্রজাতান্ত্রিক দাসত্ব

নিরব রাত্রি আরো নিরব
চাঁদ যেটুকু আমরা ভাগে পেয়েছি 
সমুদ্র থেকে পাহাড় পাহাড় থেকে সমুদ্র 
মেঘ পাথরনামা একটি বই 
যার প্রস্তাবনায় রয়েছে সূর্যের মূর্তি 
আমি আলোর ব্যবসায়ী সূর্যের কাছে থেকে 
এক পেয়ালা আলো চাই 
বিনিময় মূল্য আমার হৃদয় 
মৃত্যুকে রাখবো বলে 
সর্বশেষ শূন্যতাও আমার জানা নেই 
মহাজগতের কেন্দ্রে থাকা জনতা 
তোমাদের চোখের দলিল কুচিকুচি করে ভাসিয়ে দাও 
ওই জলের ওপর কেঁদো না মানুষ
আমাদের রক্ষী আমাদের হাত

নীল যেখানে........শাহরিয়ার জাওয়াদ

নীল যেখানে........শাহরিয়ার জাওয়াদ
ধূসর বালুকাবেলা পেরিয়ে অনেকটা নীল
যে নীল মিশে গিয়েছে দিগন্তে;
যতদূর চোখ যায়- সে কী ভীষণ নীল!
হঠাৎ সমুদ্র!
তীরের ধূসর বালিতে আছড়ে পড়ে ঢেউ
সে কী দারুণ উল্লাস নীলের,
খোলা আকাশের নিচে তখন মনে হয়...
তুচ্ছ আমি, অতি ক্ষুদ্র!

মাঝে মাঝে মনে হয়-
আমি নাবিক হবো;
জাহাজের ডেকে আছড়ে পড়বে
উন্মত্ত ঢেউ।
কিংবা বেহালা কাঁধে কোন
নিঃসঙ্গ যুবক;
উড়তে থাকা সীগালের ঝাঁক ছাড়া
বেহালার সুর শুনবার নেই কেউ!

কখনো আবার বলিষ্ঠ পেশির
এক মধ্যবয়স্ক জেলে;
ভয়ঙ্কর উন্মত্ত নীলের সাথে যুদ্ধ করে
যে বেঁচে থাকে।
কিংবা ওই অ্যালবেট্রস পাখিটা
যার কালো ডানায় ভর করে
কোন আশাহত নাবিক
                                                                                                                                       তার স্বপ্ন আগলে রাখে!

উড়ে যাব আমি এই লোকালয় ছেড়ে
উড়ে যাব আমি সেই অসীম নীলে,
হয়তো কোন নিঃসঙ্গ নাবিক-
নয়তো কোন অ্যালবেট্রসের ডানায় চড়ে;
এই নগর, এই শহর...
অন্তত আমার জন্য নয়।
চলে যাব দূরে- অসীম নীল যেখানে
ফিরবো না আর এই লোকালয়ে, মানুষের ভীড়ে!

চত্বর এবং বিবিধ....................শাহরিয়ার জাওয়াদ

চত্বর এবং বিবিধ....................শাহরিয়ার জাওয়াদ
এটা একটা চত্বরের গল্প-
কংক্রিটে মোড়া ধূসর একটা চত্বর।
তারুণ্যের সে কী দাপট তখন
সাক্ষী দেয়ালের প্রতিটি প্রস্থর!

এটা হয়তো তারুণ্যের গল্প-
সে কী তেজ, ঠিক যেন অগ্নিপিণ্ড!
জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয় সবকিছু
দম ফেলবার ফুসরত নেই একদণ্ড।

এটা হয়তো আনন্দের গল্প-
অনেকে খুলত গল্পের ঝাঁপি, অঙ্কন,
কবিতা, গান, অভিনয় আর কিছু
বলিষ্ঠ আঙ্গুল তুলত গিটারের তারে কম্পন!

দেয়ালে দেয়ালে আঁকা হতো

শত সহস্র রঙিন গ্রাফিতি;
কখনো তা হতো প্রতিবাদের ভাষা
আবার কখনো বাড়াত সম্প্রীতি।

বেশ তো ছিল ধূসর চত্বর-
হাজারো রঙে পড়েছিল ঢাকা,
হঠাৎ সবই পালটে গেল
নিমেষমাত্রেই সবই ফাঁকা।

কেউ আর খোলেনা তার গল্পের ঝাঁপি
কেউ আর গায় না গান; কবিতাটাও ঠিক জমে না।
অগ্নিপিণ্ড আজ নিজেই ভস্ম যেন
গিটারের তার আর কাঁপে না।
চুপচাপ এক বৃদ্ধ চত্বর নীরবে ঝিমোতে থাকে
দেয়ালে ফাঁকে জন্মেছে মস, ক্রমেই বাড়ছে তাতে।
ভয়াবহ এ নিঃসঙ্গতা, অসহ্য মনে হয়
এরই মাঝে আজও দেয়ালের গ্রাফিতিরা জেগে রয়!